হাসপাতালের মধ্যেই দুর্ঘটনা, বেড থেকে পড়ে গেলেন সংকটাপন্ন রোগী, ৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্য কমিশনের

0

৩৬৫ দিন। চূড়ান্ত অসচেতনতা! হাসপাতালের মধ্যেই দুর্ঘটনা। বেড থেকে পড়ে গেলেন সংকটাপন্ন রোগী। ঘটনাটি ঘটেছে আরোগ্য মেটার্নিটি এবং নার্সিংহোমে। তিয়াসা মজুমদার অভিযোগ করে স্বাস্থ্য কমিশনের দারস্থ হন।

- Advertisement -

কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ৭ সেপেম্বর মাসে ভর্তি হন অভিযোগকারিণীর মা। কোমর্বিডিটি ছিল। ভর্তির পর দিন ৮ সেপ্টেম্বর বেড থেকে পড়ে যান রোগী। ইমার্জেন্সী চিকিৎসা দেওয়া হয়। সমস্ত পরিস্থিতি বিবেচনা করে রোগীর পরিবারকে ৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। ১২ কিস্তিতে দিতে হবে এই ক্ষতিপূরণ। এছাড়াও, এদিন আরও বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে জরিমানা এবং ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেয় স্বাস্থ্য কমিশন।

রিয়া নাথ, বাবাকে নিয়ে অ্যাটলাস হেলথ পয়েন্টে যান। তিনদিন হাসপাতালে ভর্তি থাকার পর রোগী মারা যায়। হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগ আনেন রোগীর পরিবার। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে দেখা যায়, রোগী ভর্তির সঙ্গে সঙ্গে করোনা পরীক্ষা করা হয়নি। পাশাপাশি, রোগী কিডনি রোগী ছিলেন। কিন্তু, নির্দিষ্ট বিভাগে ভর্তি করা হয়নি। এক্ষেত্রে, হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

অরুণ ভার্মা। বাবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে চার্ণক হাসপাতালে গেলে ইমার্জেন্সী ট্রিটমেন্ট করা হয়। দীর্ঘ সময়ের পর বলা হয় বেড নেই। চার্নকের গাফিলতি। ১০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। তারপর আনন্দলোক হাসপাতাল রোগীকে ক্যাশ পেসেন্ট হিসেবে ভর্তি হয়। পরে স্বাস্থ্য সাথীর আওতায় নিয়ে যাওয়া হয়। স্বাস্থ্য সাথীর মধ্যে চিকিৎসা চলাকালীন রোগীর মৃত্যু ঘটে। স্বাস্থ্য সাথী কার্ড থাকার পরও মৃতদেহ আটকে রাখা হয়। নগদ টাকা দেওয়ার পরই দেহ ছাড়া হয়।

২৪ ঘণ্টার মধ্যে টাকা ফেরত না দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কমিশন। পিয়ালী রায় বিশ্বাস স্বামী পেটের যন্ত্রণা হলে স্থানীয় চিকিৎসক দেখান। তারপর, ডায়মন্ড হারবার কাছে একটি ছোট হাসপাতালে অপারেশন হয়। জটিলতা তৈরি হয়। পরে আলিপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হন। বিল দেখে, ১১ হাজার টাকার ডিসকাউন্ট দেওয়ার কথা জানায় কমিশন।

শহরের আরও একটি বেসরকারি হাসপাতালে বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন কৌশল মিশ্র। হাতে চ্যানেল ভুল করায় হাত ফুলে যায়। হাসপাতাল ঠিকমত চিকিৎসা করেনি বলে অভিযোগ। বাড়ি ফিরে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। রোগী হাসপাতালে সরাসরি মেল করলে কোন উত্তর দেওয়া হয় না। স্বাস্থ্য কমিশনে হস্তক্ষেপে সমস্যার সমাধান হয়। এক্ষেত্রে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এনাকি মুখার্জি ২০২০ সালে নিজের বাবাকে নিয়ে শহরের একাধিক হাসপাতালে ঘোরেন। এবং শেষ পর্যন্ত বেড মিললেও সময়ের অপচয় রোগী মারা যান। এই ঘটনায় স্বাস্থ্য কমিশন ফর্টিস, ফ্লেমিং, অল এশিয়া হাসপাতালকে জরিমানা করা হয়। ফর্টিস, ফ্লেমিং জরিমানার টাকা ফেরত দিলেও ২ বছর পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরত দেয়নি অল এশিয়া। সেখান থেকে হাসপাতালকে সতর্ক করে টাকা ফেরতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here