আদালতে দুই গৃহবধূকে বিয়ের প্রস্তাব প্রেমিক রাজমিস্ত্রিদের, অপহরণ নয়, স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছি জবানবন্দি গৃহবধূদের

0

Last Updated on January 7, 2022 12:23 AM by Khabar365Din

৩৬৫ দিন। ‘রাজমিস্ত্রি বলে কি আমরা মানুষ নই, ভালোবাসার অধিকার নেই ! যাদের ভালোবেসেছি তাদের সঙ্গেই সুখে ঘর করতে চাই’- বালির দুই গৃহবধূ এবং এক শিশুকে অপহরণ মামলার শুনানিতে আদালতে এমনই জানাল দুই রাজমিস্ত্রি শেখর রায় এবং শুভজিৎ দাস। এই মামলায় গত ৩০ ডিসেম্বর জামিন পেয়েছেন শেখর এবং শুভজিৎ। বৃহস্পতিবার আদালতে মামলার শুনানিতে দু’জন ই উপস্থিত ছিল। আদালত তাদের বক্তব‍্য জানতে চাইলে দুই রাজমিস্ত্রি আদালতে জানায়, অনন্যা এবং রিয়া দু’জনকেই ভালবাসেন তাঁরা দু’জনে। তারা দুজনের কারোকে জোর করেননি। অনন্যা এবং রিয়া নিজেদের ইচ্ছায় তাদের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন আগামী দিনে যদি তারা চায় তাহলে সমস্ত রকম আইনি প্রক্রিয়া মেনে এই দুজনের সঙ্গে বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হয়ে সংসার করতে রাজি হয়েছে তারা। শেখর এবং শুভজিতের আইনজীবীরাও এদিন আদালতে জানায়, বালির দুই গৃহবধূ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে তারা স্বেচ্ছায় শ্বশুর বাড়ি ছেড়ে শেখর এবং শুভজিতের সঙ্গে অন্যত্র যেতে চেয়েছিল।

- Advertisement -

এদের মধ্যে একজন তার নিজের নাবালক সন্তান কেও সঙ্গে নিয়ে যান। সুতরাং দুই রাজমিস্ত্রির বিরুদ্ধে যে অপহরণের অভিযোগ তোলা হয়েছিল তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তারা স্বেচ্ছায় যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এটা তাদের মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। পুলিশ রিপোর্টেও প্রমাণ হয় না যে শেখর এবং শুভজিৎ অপহরণের উদ্দেশ্যে কিছু করেছিল। এখন তারা যাদের ভালোবেসেছে তাদের সঙ্গে সংসার করতে চাইছে আইনত যে প্রক্রিয়া আছে সেই প্রক্রিয়া মেনে এখন সমস্ত বিষয়টি নির্ভর করছে দুই গৃহবধূর ওপর। রাজমিস্ত্রিরা প্রণয়ের পরিণতির ইচ্ছাপ্রকাশ করলেও রিয়া এবং অনন্যা তাঁদের সেই প্রস্তাবে রাজি হন কি না তা জানা যায়নি। প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর নিজের সন্তানকে নিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান বালির নিশ্চিন্দা থানার কর্মকার পরিবারের বধূ রিয়া। সঙ্গে ছিলেন তাঁর জা অনন্যা। পুলিশ জানতে পারে বাড়িতে কাজ করতে আসা দুই রাজমিস্ত্রির সঙ্গে ঘর ছেড়ে মুম্বইয়ে পাড়ি দিয়েছেন দুই বধূ। পরে ফেরার পথে তাঁদের চার জনকে আসানসোল স্টেশন থেকে আটক করে পুলিশ। পরে দুই রাজমিস্ত্রিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রিয়া এবং অনন্যাকে পুলিশ ছেড়ে দিলেও তাঁদের আর ঠাঁই হয়নি শ্বশুরবাড়িতে। শেষমেশ তাঁরা বাপেরবাড়িতে ওঠেন।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here