শ্রীশ্রীমা সারদাদেবীকে নিয়ে রাজনৈতিক নেতার বিতর্কিত মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে ভিডিও বার্তা বেলুড় মঠ রামকৃষ্ণ মিশনের তরফ থেকে।

0

৩৬৫দিন। শ্রীশ্রীমা সারদাদেবীকে নিয়ে সম্প্রতি জনৈক রাজনৈতিক নেতার মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে এবার এক ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিবৃতি দিলেন রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের সাধারণ সম্পাদক স্বামী সুবীরানন্দজি মহারাজ। যদিও ওই ভিডিও বার্তায় সুবীরানন্দজি মহারাজ ওই রাজনৈতিক নেতার নাম উল্লেখ করেননি। শ্রীশ্রীমা সম্পর্কে এই  তথ্য ভিত্তিহীন বলে দাবি করে তিনি বলেন, আমরা আমাদের ক্ষোভ এবং মর্মবেদনা জানানোর কোনও ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা।

- Advertisement -

সকলের মায়ের এই অসম্মান আমাদের দুঃসহ বলে মনে হচ্ছে। শুধু এটাই কামনা করব যেন কখনো কারও দ্বারা এই নজিরবিহীন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না হয়। স্বামী সুবিরানন্দজি মহারাজ ওই ভিডিও বার্তায় আরও বলেন, সম্প্রতি কোনও এক রাজনৈতিক নেতা প্রকাশ্য বক্তৃতায় বলেছেন শ্রীশ্রীমা সারদাদেবী নাকি দেহত্যাগের আগে রামকৃষ্ণ মিশনের মহারাজদের বলে গিয়েছেন তিনি এরপরে মানব রূপে দক্ষিণ কলকাতা আবির্ভূত হবেন।

তখন তিনি ত্যাগ, তিতীক্ষা, সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে যাবেন। শ্রীশ্রীমা সম্পর্কে রামকৃষ্ণ মঠ, রামকৃষ্ণ মিশন এবং অন্যান্য প্রকাশনা সংস্থা থেকে যে কয়েকটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে তার কোনটিতেই এমন তথ্য নেই। আমাদের দীর্ঘ সাধুজীবনে শ্রীশ্রীমা সারদাদেবীর সান্নিধ্য লাভ করা অনেক সন্ন্যাসী, গৃহী ভক্তদের সংস্পর্শে আমরা এসেছি। তাদের কারও মুখেই এই সংবাদ শুনিনি।

তাহলে ওই নেতা কোথা থেকে এই অদ্ভুত তথ্য পেলেন এবং তা কি করে প্রকাশ্য সভায় বললেন তা আমার আমাদের সকলের বোধগম্য নয়। শ্রীশ্রীমা সারদাদেবী সম্পর্কে সন্ন্যাসী ব্রহ্মচারী এবং অগণিত মানুষের কাছে যে ভাবমূর্তি আছে ওই নেতার বক্তব্যে তাতে নিদারুণ আঘাত লেগেছে। শ্রীশ্রী সারদাদেবী শুধুমাত্র মহীয়সী নারী নন, সীতা, রাধারানী, বিষ্ণুপ্রিয়ার মতো ব্যক্তিত্ব তাঁর। স্বামী বিবেকানন্দ তাকে আদ্যশক্তি রূপে পুজো ও রামকৃষ্ণ সংঘের সংঘের জননী রূপে অভিহিত করেছেন।

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষ তাকে একধারে দেবী ও আপনজন রূপে  নিত্য পূজা করে থাকেন। দীর্ঘ ৬৭ বছরের জীবনে তিনি কখনো কারও প্রতি একটিও রূঢ় কথা বলেননি। কারও অমঙ্গল কামনা করে একটি কথা উচ্চারণ করেননি। জীবনে তিনি কখনো কারও দোষ দেখেননি এবং শেষ বাণী হিসেবে তিনি বলে গিয়েছেন, যদি শান্তি চাও কারোর দোষ দেখবে না, দোষ দেখবে নিজের।

জাতি ধর্ম নির্বিশেষে তার সম দৃষ্টি ছিল। শত্রুরাও মাতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়নি। ওই নেতার এই বক্তব্যে পরম আরাধ্যা শ্রীশ্রীমা সারদাদেবীর মর্যাদাহানি হয়েছে বলে মনে করছেন রামকৃষ্ণ মিশনের সকল সন্ন্যাসী ব্রহ্মচারীরা।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here