Pujar Khobor : বহুরূপীদের গ্রাম, জীবন যাত্রার কাহিনী নিয়ে বেহালা ১১ পল্লীর এবারের থিম, দেবদেবীরা গেলেন কোথায়!

0

৩৬৫ দিন। প্রতিদিনই একটু একটু করে হারিয়ে যাচ্ছে মর্ত্যের দেব-দেবীরা। গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন সময়ে দেব দেবীর রূপ নিয়ে মানুষকে চিত্ত বিনোদনের একটি বড় অংশ ছিলেন বহুরূপী প্রজাতি।

- Advertisement -

কিন্তু, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সব দেবদেবীরা গেলেন কোথায় ? বাউল, ছৌ নাচের মতই বিপন্ন বাংলার আরও এক লোকশিল্প। সেখান থেকেই বেহালা ১১ পল্লীর এবারের থিম, দেবদেবীরা গেলেন কোথায়! এই প্রসঙ্গে পুজো কমিটির সম্পাদক প্রতিপ ঘোষ জানান, এবার বহুরূপী শিল্পকলাকে দেখানো হয়েছে। দেখানো হয়েছে তাদের জীবনযাত্রাকে। তাদের জীবনের নানা পর্ব, কিভাবে তাদের জীবিকা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। সেটাকেই তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

থিমের ভাবনায় রয়েছেন অনির্বাণ, সুস্মিতা এবং শুভব্রত। এই প্রসঙ্গে শিল্পী অনির্বাণ আধ্য জানান, হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ শিল্পকলা নিয়ে এবারের কাজ। বহুরূপী গোত্রের মানুষরা প্রথম জীবনে পাখি শিকার করে জীবন যাপন করত। পাখি শিকার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর, মানুষকে আমোদ প্রমোদ দেওয়ার জন্যে এই বহুরূপী পেশা বেছে নেন এই গোষ্ঠী। সমাজ সেটাকে গ্রহণ করে। এরপর লোকগান, লোক দেব দেবী, বৈদিক দেবদেবী, নানা বেশ ধরে সেই চরিত্রে অভিনয় করে মানুষকে আমোদ প্রমোদ দিতে থাকত।

এখন, এদের শিল্পকলা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। মানুষের মধ্যে চাহিদা কমে যাচ্ছে। উপার্জন কমে গিয়ে শেষমেশ ভিক্ষুকে পরিণত হয়েছে। তাদেরই একটা গ্রাম, তাদের সাজ, জীবন যাপন, দেখানো হচ্ছে। তারপর দেবী দুর্গাকে বহুরূপী হিসেবেই দেখানো হয়েছে। একেবারে তাদের ব্যবহৃত মিউজিক দিয়েও ওই আবহ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। কালের নিয়ম হারিয়ে যাওয়া সেই লোকশিল্পকে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। সেখান থেকেই এই শিল্পকলাকে মানুষকে আরও একবার মনে করিয়ে বাঁচিয়ে রাখার প্রয়াস। প্রতিমা গড়ছেন পরিমল পাল।

সমগ্র বিষয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেবীকে এখানে ভিন্ন রূপে, বহুরূপী আকারে দেখানো হবে। সেই গ্রামীণ বহুরূপীদের ঘরেই দেবী মা এসেছেন ছোট গ্রামীণ আকারে। তথ্য অনুযায়ী, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, সুন্দরবন, পুরুলিয়া জেলায় এই লোকশিল্পের চল ছিল। এছাড়া, রাজ্যের বাইরে অন্য রাজ্যেও রয়েছে বহুরূপী। প্রসঙ্গত, বছর দুই আগে করোনা নামক অসুরের আবির্ভাবে তছনছ হয় জনজীবন। সেই সময় দিনের পর দিন সামনে এসেছে গৃহবন্দী, বেকারত্ব, অর্থাভাব, অনাহারের নিত্যনতুন অধ্যায়।

দীর্ঘমেয়াদি লকডাউনে কর্মহীন হয়েছেন বহু মানুষ। সেই কর্মহীনতাই উপহার দিয়েছিল ক্ষুধার যন্ত্রণা। সমাজজীবনে করোনার অভিশপ্ত সেই সব দিককেই ফুটিয়ে তোলা হয় বেহালা ১১ পল্লী দুর্গোৎসবে। সেই সময় থিম করা হয়, থিম নয় বাস্তব। সেই নিয়ে শিল্পী মধুরিমা পাল জানান, মহামারীর পরিণতি এবং বর্তমানের অবস্থা, এই দুইয়ের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের চেষ্টা করেছি মাত্র।

লকডাউনের জেরে একের পর এক কারখানা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বহু মানুষ কাজ হারিয়েছেন। তাদের সঞ্চয় শেষ। অনাহারে দিন কাটাচ্ছে মানুষ। সেই মানুষগুলোর জীবনের ছবিকে দেখানো হয় মণ্ডপে। মণ্ডপ তৈরিতে ব্যবহার করা হয়েছে ছবি, বস্তা, উনুন ইত্যাদিকে। করোনা বিধি মেনেই খোলামেলা ধাঁচে প্রস্তুত করা হচ্ছে পুজোমণ্ডপ।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here