Feluda: সৃজিতের পর এবার ফেলুদা নিয়ে ওটিটি প্লাটফর্মে অরিন্দম শীলও, ফেলুদার ২ গল্প নিয়ে ওয়েব সিরিজ, নেই জটায়ু

0
556

গ্যাংটকে গন্ডগোল গল্পটি আগে সন্দীপ রায় সিনেমা বা টেলিভিশনের জন্য কখনও চিত্রায়িত করেননি। শেয়াল দেবতা রহস্য গল্পটি আগে সন্দীপ রায় দূরদর্শনের জন্য বাংলায় একাধিক এপিসোডে তুলেছেন

- Advertisement -

৩৬৫দিন। সৃজিতের পরেই অরিন্দম শীল। সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী সৃষ্টি ফেলুদার হাত ধরেই অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এ যাত্রা শুরু করছেন তিনি। সফল ভাবে ব্যোমকেশ, শবর এবং মিতিন মাসি এই তিন শখের গোয়েন্দা ছবির একাধিক ফ্যাঞ্চাইজির পরে এই প্রথম ফেলুদা নিয়ে কাজ করছেন অরিন্দম। গ্যাংটকে গন্ডগোল দিয়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এর জন্য প্রথম সিরিজ শুরু করছেন পরিচালক। বাংলার অন্যতম প্রযোজনা সংস্থা এস কে মুভিজের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন তিনি। প্রযোজনা সংস্থার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম আড্ডা টাইমসের জন্য এই সিরিজ বানাবেন তিনি। প্রাথমিক ভাবে অরিন্দম গ্যাংটকে গন্ডগোল গল্পটি ভেবেছেন। ফেলুদার ভূমিকায় পরমব্রত ও তোপসের চরিত্রে ঋতব্রত মুখোপাধ্যায়। গ্যাংটকে গন্ডগোলের পরেই শেয়াল দেবতা রহস্য গল্পটি পরিচালকের হাতে রয়েছে। এছাড়াও আরও একটি ফেলুদার গল্পের স্বত্ত্ব প্রযোজকদের হাতে রয়েছে। সম্ভবত সেটা গোলাপি মুক্তা রহস্য। অরিন্দম এমন ভাবেই গল্প বাছাই করেছেন, যে গল্পে জটায়ু নেই। লালমোহন গাঙ্গুলি না থাকায় সুবিধা হয়েছে পরিচালকের। কারণ এই মুহূর্তে জটায়ুর ভূমিকায় যিনি সফল ভাবে চলচিত্রে আর ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নয় এসেছেন সেই অনির্বান সৃজিতের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ। সৃজিতের দুটি ফেলুদা ছবির প্রধান আকর্ষণ তিনিই। ইতিমধ্যেই তিনি ছিন্নমস্তার অভিশাপ তৈরি করে অনলাইনে ছেড়েছেন, যা জনপ্রিয়তা পেয়েছেন। একই সঙ্গে যতকান্ড কাঠমান্ডুতে তৈরি হয়ে আছে। যেখানে জটায়ু রয়েছেন। তাই অরিন্দম জটায়ু নিয়ে কোনও ঝামেলায় যাননি। 
পরিচালক বর্তমানে নর্থ বেঙ্গলে অন্য ছবির লোকেশনে রয়েছেন। চলতি সপ্তাহেই তিনি শবর এর শুটিং শুরু করবেন। তার পরেই ফেলুদার কাজে হাত দেবেন। 

গ্যাংটকে গন্ডগোল 

গ্রীষ্মের ছুটিতে তপেশ ওরফে তোপসের সাথে ফেলুদা গ্যাংটকে বেড়াতে আসে। সেখানে তাদের সাথে রহস্যময় ব্যবসায়ী শশধর বোস এবং নিশিকান্ত সরকারের সাথে পরিচয় ঘটে। ফেলুদার সাথে একজন জার্মান ফটোগ্রাফার হেলমুট উংগারের পরিচয় হয়। সে হিপি। কয়েকদিন পর শশধর বোসের ব্যবসার সঙ্গী শিবকুমার শেলভাংকার খুন হন, হেলমুটের আসল পরিচয় জেনে অবাক হয় ফেলুদা ও তোপসে। ড. বৈদ্য প্ল্যানচেটে জানিয়ে দেন কে হত্যাকারী কিন্তু হত্যা রহস্যের তদন্তে নামে ফেলুদা। একটি নির্জন এলাকায় জংগলে ঘেরা বাগানবাড়িতে ফয়সালা হয় শশধর বোস হত্যাকান্ডের। ফেলুদা বলেন শশধর বোস ও ডঃবৈদ্য একই লোক প্রথমে ডঃবৈদ্য সেজে শিবকুমার বাবুর বিশ্বাস অর্জন করে, পরে তিনি ডাইভার এর সাথে হাত মিলিয়ে শশধরকে হত্যা করেন। ফেলুদা সবার সামনে তাঁর রহস্য ফাঁস করে দিলে তিনি কোনো রকমে ঘরের বাইরে বের হন। এবং জীপে করে পালান। ফেলুদার অব্যার্থ নিশানায় তাঁর গাড়ির চাকা পাংচার হয়, গাড়িটি গাছের সাথে ধাক্কা মারে। শশধর বাবু কীছুদুর দৌড়ে জোঁকের কবলে পড়েন। সেইসঙ্গে ফেলুদা তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

শিয়াল দেবতা রহস্য 

নীলমণিবাবু সোফা ছেড়ে উঠে একটা কাচের আলমারির দিকে গিয়ে তার উপরের তাক থেকে একটা বিঘতখানেক লম্বা মূর্তি নামিয়ে এনে সেটা ফেলুদার হাতে দিলেন। সবুজ পাথরের মূর্তি, তার গায়ে আবার নানা রঙের ঝলমলে পাথর বসানো। দু-এক জায়গায় যেন সোনাও রয়েছে। তবে আশ্চর্য এই যে, মূর্তিটার শরীর মানুষের মতো হলেও, তার মুখটা শেয়ালের মতো। এটা দিন দশেক আগে কিনেছি অ্যারাটুন ব্রাদার্সের একটা নিলাম থেকে। এটা বোধহয়—’
ফেলুদা মূর্তিটায় একবার চোখ বুলিয়েই বলল, আনুবিস।”
আনুবিস ? সে আবার কী?
ফেলুদা মূর্তিটা সাবধানে নেড়েচেড়ে নীলমণিবাবুর হাতে ফেরত দিয়ে বলল, আনুবিস ছিল প্রাচীন মিশরের গড অফ দ্য ডেড। মৃত আত্মাদের দেবতা।..চমৎকার জিনিস পেয়েছেন এটা।’
এই আশ্চর্য শেয়াল দেবতা নিয়েই রহস্যের সূত্রপাত। ণীলমণিবাবু ফেলুদাকে ডেকে নিয়ে আসে। তার একটি শেয়াল দেবতা আছে। সেটি চুরি করার জন্য তাকে কেউ শাসাচ্ছে। ণীলমণিবাবুর বাসায় সে বাদে আর তার ছোট ভাগ্নে থাকে । ণীলবাবুর মতে প্রতুলবাবুও তার এই শেয়াল দেবতা খুব করে চাচ্ছিলেন অকশনে। তাই প্রতুলবাবুকে সন্দেহ করা যেতে পারে। একদিন ণীলমনিবাবু ফোন করে ফেলুদাকে বললো যে তার শেয়াল দেবতা চুরি হয়েছে। রাতে কেউ তাকে বেঁধে তার দেবতা নিয়ে যায়। তার পর এর দিন প্রতুলবাবুরও কিছু জিনিশ চুরি হয়। তদন্ত করে ফেলুদা জানতে পারলো যে নীলমণিবাবুর বাসায় কোনো বাচ্চা ছেলে নয়, একটি বামন রয়েছে। যে কিনা এই চুরি গুলো করেছে। আর চুরিগুলো করেছে নীলমনিবাবুর আদেশেই।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here