ঠাকুরদালানে রোমান্স
দেব-রুক্মিণীর

0
2063

রিপোর্ট। সৌগত সরকার ছবি। মৈনাক বাগচী

- Advertisement -

সেফ খেলা নয়, ঝুঁকিই পছন্দ দেবের


টিনটিনদের বাড়িটা বেশ পুরোনো। উঁচু খিলান, ঘুলগুলিতে পায়রার বাসা, বাদুড়ের আস্তানা, পলেস্তারা খসে যাওয়া দেওয়ালে প্রাচীন আভিজাত্যের শেষ ছাপটুকুও চাপা পড়ে গিয়েছে হয়ত ৫০ বছর আগেই। টিকে থাকার মধ্যে পুরানো ঠাকুরদালান। বড় উঠোনের একদিকে একচালার ঠাকুরের গায়ে সবে পড়েছে মাটির প্রলেপ। টিনটিন তার প্রবল তারুণ্য নিয়ে এই ঝিমিয়ে পড়া দালানকোঠায় নতুন উদ্দীপনার ছোঁয়া ছড়িয়ে দিতে পারে কিনা, তা জানার জন্য একটু অপেক্ষা করতে হবে। দর্শক কিসমিসের স্বাদ পেতে পেতে আরও মাসখানেক। দেবের নতুন ছবি ‘কিশমিশ’-এর শ্যুটিং এদিন চলল বিধান সরণির এক ছোট গলিতে। অতি পরিচিত বসন্ত কেবিনের ঠিক পাশের গলির রায় বাড়িতে। দেব, রুক্মিণী দুজনেই ছিলেন এদিনের শুটিংয়ে, তবে দেবের সে অর্থে শুটিং অল্পই ছিল। ছবিতে তিন সময়কালের গল্প বলবেন পরিচালক রাহুল,আটের দশক, বর্তমান সময় এমনকি কোভিড পরবর্তী সময়কালও ধরা হয়েছে চিত্রনাট্যে। ব্যস্ত পরিচালক সরস্বতী পূজার দৃশ্য তুলতে সারাদিন ব্যস্ত থাকলেন।

দুই বিপরীত চরিত্র দুর্দান্ত সামলাচ্ছেন রুক্মিণী

রুপোলি পর্দায় বহুবার দেব রুক্মিনী জুটির রসায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। চ্যাম্প, ককপিট, কবীর, পাসওয়ার্ডের মতো ছবিতে একসঙ্গে দেখা মিলেছে এই জুটির। ছয় নম্বরবার সিলভার স্ক্রিনে জুটি বাঁধতে চলেছেন দেব রুক্মিণী, সৌজন্যে দেবের প্রযোজনা সংস্থার আসন্ন ছবি ‘কিশমিশ’। কিশমিশ’-এ দেবকে দেখা যাবে তিনটি ভূমিকায়। মুখ্য চরিত্রটি অবশ্যই কমিক বুক আর্টিস্ট কৃশানুর। রুক্মিনীর এখানে থাকবেন রোহিনীর চরিত্রে। তিনটি সময়কালের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে খকিশমিশ। রুক্মিণীকে সম্পূর্ন দু রকম লুকে এদিন পাওয়া গেল। সকালেই পুরানো বাড়ির দোতালায় গরাদ ধরে দাঁড়িয়ে থাকা হট প্যান্ট আর শর্ট টপে দেখা মেয়েটার সঙ্গে শুটিংয়ের দ্বিতীয় অংশে আটপৌরে শাড়ি পড়ে দুর্গাদালানে দেখা রুক্মিণীর কোনও মিল নেই।

সম্পূর্ন আলাদা চরিত্র, আলাদা লুক। চরিত্রের এই বৈপরীত্য দুর্দান্ত ভাবে ফুটিয়ে তুললেন রুক্মিণী।এপিয়ারেন্স, বডি প্ল্যাঙ্গুয়েজের এই শিফটিং দুর্দান্ত ভাবে প্রেসেন্ট করল রুক্মিণী। অনেক তাবড় অভিনেত্রীকেও এত সহজে এই আপাত সহজ অথচ অসম্ভব জটিল বিষয়টা হ্যান্ডেল করতে হোঁচট খেতে দেখেছি। ওর প্রথম ছবি দেখে লিখেছিলাম, অনেক দূর যাবে ওর অভিনয় ক্ষমতা দিয়ে। মাথায় রাখতে হবে · ওর কিন্তু কোনও ফিল্ম ব্যাকগ্রাউন্ড নেই। জাস্ট কনফিডেন্স দিয়ে প্রথম ছবিটা উৎরে দিয়েছিল। এই কনফিডেন্স ওকে সাহস জুগিয়েছে, তারপর গ্রুমিং, অভিনয় শিক্ষা আর দেবের মনিটরিং ওকে সাহায্য করেছে। এখন ও পরিপূর্ন একজন অভিনেত্রী হয়ে উঠেছে। একা ছবি টানার মত ক্ষমতা কবির ছবিতেই ও দেখিয়েছে। দেবের সঙ্গে পেজ রুক্মিণীর এই জুটিতে বাংলা ছবির জগতে একটু হলেও আবার ভালো সময় ফিরতে চলেছে তা বলা যায়।

একাধিকবার দেবকেও প্রশ্ন করেছি, এতটা রিস্ক নিচ্ছ কেন, চ্যালেঞ্জ ২, খোকা ৪২০, রংবাজ, চাঁদের পাহাড় সুপারহিট হওয়ার পরে বুনো হাঁস কেন? কেনই বা শুধু তোমারই জন্য, জুলফিকর এর পরে কবির? কেন হইচই আন লিমিটেড , আমাজন অভিযানের পরে সাজবাতি? এত টুইস্ট অফ ক্যারেক্টার কেন? এতে তো প্রচুর ঝুঁকি রয়েছে? বার বার ও একই জবাব দিয়েছে, কমফোর্ট জোনের বাইরে গিয়ে কাজ করাটা আমার প্যাশন। এই সাহসটা ওকে কেউ দেয়নি, ও নিজে ঝুঁকিটা নিয়েছিল চাঁদের পাহাড়ের সময়। এবং সময়ে প্রমাণিত হয়েছে, ও সফল। এবং এটাই আধুনিক সিনেমার ট্রেন্ড। অজয় দেবগন একটিও একশন না করে   ছবি করছেন, ভুলভুলাইয়া করে অক্ষয়ও দেখিয়েছে এই ট্রেন্ড এখন গ্রহণ করার সময়। বাংলা ছবিতে দেব এটা সবার আগেই শুরু করেছেন। চূড়ান্ত হিট রোম্যান্টিক ইমেজ ভেঙে যখন রাজের পরিচালনায় দুই পৃথিবীতে শিবুর চরিত্র করে প্রথমবার অবাক হয়েছিলাম। প্রশ্ন জেগেছিল, কেন ও ওই চরিত্রে নিজেকে বাঁছল! পরে বুঝেছিলাম, নিঃশব্দে ও নিজেকে ভাঙছে। প্রেসেনজিৎ পাশে পেয়েছিলেন ঋতুপর্ণ ঘোষকে। কিন্তু সেই অর্থে দেব কাউকে পাননি। কিন্তু নিজের ইমেজটাকে দুমড়ে মুচড়ে এমন একটা ফ্লেক্সিবল জায়গায় নিয়ে এসেছে, যে কৌশিক গাঙ্গুলি ওকে দিয়ে ধূমকেতু করাতে পারে, ধ্রুব ওকে দিয়ে গোলন্দাজ করাতে পারে, আবার রাহুল ওকে নিয়ে কিসমিস করাচ্ছে। এটাই ওর ক্লাস।

এই ছবিতে তিনটি লুকে আমরা দেবকে পাব। যদিও মিষ্টি রোমান্টিক কমেডি ছবি, তবুও তিন বিপরীত ক্যারেক্টার, তিন লুক, তিন ভিন্ন ভাবনার চরিত্র সহজ কাজ নয়। যারা এখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় ওর অভিনয় ক্ষমতা নিয়ে সমালোচনা করে তাদের এবার মুখ বন্ধ করার সময় এসেছে। ভিন্ন ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করতে গেলে, নিজের পাওয়ারফুল ইমেজ ভেঙে বেরিয়ে চ্যাম্প বা কবীর করতে গেলে শুধু অভিনয় ক্ষমতা নয়, ধক লাগে। একটা বড় বুকের পাটা লাগে, যেটা এই মুহূর্তে বাংলা ছবির ইনড্রাস্ট্রিকে বাঁচাতে অক্সিজেনের মত কাজে লাগবে। বাংলায় ওর কোটি কোটি ফ্যান, অনুরাগী রয়েছে, ভিন্ন ধারার ছবিকে প্রমোট করতে দেবই একমাত্র অপশন। বাকিদের কত গ্রহণযোগ্যতা আছে তা ভালো করেই জানা আছে।যারা ওকে চেনে তারা জানে এই কিসমিস ছবির জন্যও কতটা পরিশ্রম করছে ও।

এটা ওর স্বভাবসিদ্ধ। নিজের কিংবা অন্যের যে প্রোডাকশনের ছবিই হোক না কেন এই অমানুষিক পরশ্রমটা ওকে ২০১০ এ পাগলু তেও করতে দেখেছি, ২০২১এও করতে দেখছি। নিজের কেন্দ্র ঘাটালে সপ্তাহে একাধিকবার ছুটছে, ত্রাণ দিচ্ছে,হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে কাজ দেখছে, আবার কল টাইমেও কোনোদিন এক মিনিট লেট হয়নি। দুদিক দুর্দান্ত ব্যালেন্স করে চলেছে। বিগত বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া দেবই একমাত্র ওই পরিমান জনসভা আর রোড শো করেছে। ওর প্রতিটা শ্রম বৃথা যায়নি। সিনেমার ক্ষেত্রেও তাই। বিশাল অভিনেতাদের অভিনয় ইন্ডাস্ট্রিকে আগেও বাঁচাতে পারে নি, ভবিষ্যতেও পারবে না। 

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here