Golondaaj:
‘গোলন্দাজ’ ছবিতে বাংলার রোনাল্ডো দেব

0

Last Updated on March 24, 2022 8:56 PM by Khabar365Din

৩৬৫ দিন। সৌগত সরকার। ছবির প্রিমিয়ারে স্বমহিমায় এসভিএফ এর আসল ক্যাপটেন শ্রীকান্ত মোহতাকে পুরানো ফর্মে দেখলাম। একই সঙ্গে বাংলা চলচ্চিত্রের একটা বড় ল্যাপ প্রযোজক হিসাবে টপকে গেল এসভিএফ। ক্রীড়া নিয়ে বাংলায় এমন ছবিও বানানো সম্ভব, যেখানে ছবির ৯০ শতাংশ জুড়ে শুধুই ফুটবল, অথচ তা টানটান তাঁরে বাধা,এটা করে দেখাল এসভিএফ। এই ছবিকে সমালোচনা না করে বরং স্মৃতি থেকে বাংলা ও বাঙালির ফুটবলের হারিয়ে ঐতিহাসিক অধ্যায়কে পর্দায় ফিরে পাওয়ার জন্য উদযাপন করা উচিত। পরিচালক এমন এক চরিত্রকে আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, যিনি ভারতীয় ফুটবলের জনক, বাঙালির ফুটবলের অভিধান যাঁকে দিয়ে শুরু হওয়া উচিত ছিল, অথচ তাঁর নামে কোনও স্ট্যাচু নেই ময়দানে, গ্যালারিতে নেই স্ট্যান্ড, এই লজ্জা নিয়ে ছবিটা দেখেতে বসতে হবে আমার মত অনেককেই। খালি পায়ে,গোরাদের বিরুদ্ধে তাঁর ফুটবলের লড়াইটা আসলে জাত্যাভিমানের সংগ্রাম। তবুও এই ছবিকে নগেন্দ্রপ্রসাদের বায়োপিক বলতে আপত্তি আছে।

- Advertisement -

আবেগ, আড্রিনালিন ক্ষরণ, দেশাত্ববোধ, নাটকীয়তা সব এলিমেন্ট ছবি জুড়ে থাকলেও ফুটবল ফোকাস থেকে এক চুলও নড়েনি ধ্রুব। প্রায় ২ ঘন্টার ছবি জুড়ে শুধুই দেব। অভিনয়,বডি ল্যাংগুয়েজ, ক্যারিশমা, সবটা জুড়ে তিনিই ছেয়ে আছেন। নিজেকে উত্তীর্ণ করেছেন অনেকটা ধাপ। গোটা ছবি জুড়ে তিনি দাপিয়ে বেড়িয়েছেন। তিনি যেন রোনাল্ডো। তাঁর অভিব্যক্তি, অভিনয়ের ছোট ছোট ড্রিবলে ফুটে উঠছে নগেন্দ্রপ্রসাদের চরিত্রের কাঠিন্য, যন্ত্রনা, হতাশা, বিরহ, কিংবা জেদ। হরিণের মত ইনবক্স সাবলীল দৌড়ে চরিত্রের নির্যাস বের করে এনেছেন। আসে পাশে থাকা থিয়েটার করে আসা অভিনেতাদের টপকে স্পট জাম্পে গোল করে গেলেন প্রতিটা দৃশ্যে, প্রতি সংলাপে হাততালি। তাই তো শেষ দৃশ্যে ডান পায়ের ড্রিবলিংয়ে দুই ইংরেজকে ছিটকে দিয়ে জালে বল জড়িয়ে নগেন্দ্রপ্রসাদের উচ্ছাসের সঙ্গে হল ভর্তি দর্শকের চিৎকার, এ যেন বাংলার ফুটবলের জয়ধ্বনি। আবার বলছি, হিন্দি ছবি লাগানের সঙ্গে তুলনা করতে যাবেন না, ছবি দেখুন, উদযাপন করুন ভারতীয় তথা বাংলার ফুটবলের সবচেয়ে ওথেন্টিক এই ছবিকে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here