৩৫ বছর ধরে
১ নম্বরে নচিকেতা

0
797

৩৬৫দিন। সৌগত সরকার । ৩৫ টা বছর জুড়ে তিনি আজও স্বমহিমায়, কেন? গানের কিছু বুঝি না। কিন্তু মানুষের সঙ্গে ওঁর কমিউনিকেশন , গ্রাম্য, সাধারণ ভাষায় সবাইকে ছুঁয়ে ফেলার মধ্যেই এর রহস্য লুকিয়ে আছে এটা কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। হঠাৎই যেন ধুমকেতুর মতো এসে বাংলা গানের চিরাচরিত সংজ্ঞাটাই বদলে দিলেন। তাঁর গানের লাইনে যেন ধরা পড়ল আমজনতার মনের কথা। যাতে ছিল না কোনও ভারি ভারি শব্দের বাহার। যা ছিল, তা হল খুব সহজ ভাষায় অনেক গভীর অর্থ।শহুরে ইন্টালচুয়ালদের দেখেছি ওঁর গানের ভাষা নিয়ে রসিকতা করতে। সেই সব রসিক মানুষরা, সমালোচকরা এখন গর্তে লুকিয়েছেন। গানের ভাষা তো এমনি হয়। কালজয়ী হয়ে যাওয়া নচিকেতার গান সেই সিম্পল থিওরি মেনেই চলে এসেছে। যার প্রভাবিত করার ক্ষমতা অনেক বেশি। যার তীব্রতা অনেক বেশি। প্রতুল মুখোপাধ্যায় এই প্রসঙ্গে সিএলটি হলে আমায় বলেছিলেন, সহজ ভাষাই পৃথিবী বদলেছে। নইলে স্লোগান লিখতেন দার্শনিকরাই। হ্যা সত্যিই তাই, সেই সব দার্শনিক ধান্দাবাজ গায়করা আবার ফাটলে ঢুকে গিয়েছেন। কিন্তু সাড়ে তিন দশক ধরে নচিকেতা আজও স্বমহিমায়। তাঁর জনপ্রিয়তা একচুলতো কমেই নি, উল্টে আজও তাঁর গান সুপারহিট। বাংলা গানে হল ভরাতে আজও নচি লাগে,বলেছিলেন কলকাতার এক আরেঞ্জার। 

- Advertisement -

নীলাঞ্জনা শুনে পাড়ার উচ্চবিত্ত ইংলিশ মিডিয়ামে পড়া মেয়েটির প্রেমে পড়েছিল সাইকেলের দোকানের ছেলেটা। এটা নিজের চোখে দেখা। আট বছর আগে বৃদ্ধাশ্রম গানটি প্রথম শুনে গত পাঁচ বছর ধরে আজও দক্ষিণ কলকাতার বৃদ্ধাশ্রমে সময় কাটান, অর্থ সাহায্য করেন কলকাতার বেসরকারি ব্যাংকের মাঝারি কর্তা অনিন্দ্য চ্যাটার্জি। নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত অনিন্দ্যদা নচিকেতার সঙ্গেও দেখা করে এসেছেন, হাত ধরে কলাকমন্দির হলে বলেছেন, আপনার এই বৃদ্ধাশ্রম আরও আগে শুনলে, বাবাকে রেখে আসতাম না। এভাবেই নচি সমাজে ছড়িয়ে আছেন। পাটুলীর মোড়ে মাদকে অভ্যস্ত ছেলেটা নচির হাত ধরেই চায়ের স্টল দিয়ে এখন বুক বাজিয়ে বলতে পারে, এই বেশ ভালো আছি।এটাই একজন সফল গায়ক থেকে ওঁকে উত্তীর্ণ করে নিয়ে গিয়েছে আরও বড় ব্যাপ্তিতে। নচিকেতা একজন সামাজিক যোদ্ধার নাম। ক্যাবলা ফোন হাতে, আজও ইমেইল বলে কোনও আইডি নেই, সিগারেট নয়, বিড়ি। ফেসবুক বিপ্লব ঘৃণা করেন, পিচগলা রাস্তায় হেঁটে সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের পাশে থেকেছেন। ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে অনায়াসে লিখতে পারেন ভেঙে গেলে গড়া যায়/ মন্দির মসজিদ/ রাম আছে শ্যাম আছে/ আছে রক্ত লোলুপ কিছু হায়না। প্রবলভাবে রাজনৈতিক সচেতন হওয়া সত্বেও কখনোই দলদাস হয়ে যাননি নচি। সব ধরনের ধর্মীয়,সামাজিক সংস্কারমুক্ত উন্নতমনা, তাই রবীন্দ্রভারতীতে ছাত্র ছাত্রীরা টুম্পা সোনার সঙ্গে নাচলেও, নচি অনায়াসে বলতে পারেন, বেশ করেছে। 

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here