সৃজিতের তৃতীয় ফেলুদা, দার্জিলিং জমজমাট-এর শুটিং শুরু।

0

Last Updated on March 24, 2022 8:53 PM by Khabar365Din

৩৬৫ দিন। সৃজিতের (Srijit Mukherji) ফেলুদা আবার ফিরছে। এবার দার্জিলিং জমজমাট (Darjeeling Jomjomat)। ছিন্নমস্তার অভিশাপ আর যত কান্ড কাঠমান্ডুতে অত্যন্ত সফল হওয়ার পরই প্রযোজক এসভিএফ সিরিজের দ্বিতীয় ভাগের কাজ শুরু করেছে। তাই পুরো টিম নিয়ে সৃজিত এখন দার্জিলিংয়ে। টোটা (Tota Roy Chowdhury) ও অনির্বানকে (Anirban Chakrabarti) দর্শক পছন্দ করেছে ফেলুদা ও লালমোহন গাঙ্গুলির চরিত্রে। তাই মুল কাস্টিং অপরিবর্তিত রয়েছে। ফেলুদার গোয়েন্দাগিরী এই দার্জিলিং থেকেই শুরু হয়েছিল। এবার আরও রোমাঞ্চ নিয়ে ফেলুদার দ্বিতীয় দার্জিলিং অভিযান। কলকাতা ও দার্জিলিং মিলেই শুটিং হবে। বানানো হয়েছে ইনডোরে সেট। এই যেমন আশির দশকের দমদম বিমানবন্দরের সেট বানানো হয়েছিল। ফেলুদা, তোপসে আর জটায়ু প্লেন ধরে যাবেন বাগডোগরা। তবে গল্পের মূল অংশটাই দার্জিলিংয়ে শুটিং হবে। কারণ উপন্যাসের পরতে পরতে দার্জিলিংয়ের খুঁটিনাটি তুলে ধরেছিলেন সত্যজিৎ। সৃজিতও সেই হুবহু ক্যামেরায় ধরতে চান। 

- Advertisement -


অনেক দিন পর ফেলুদার আরেকটি গল্প, যার পটভূমি দার্জিলিং। ফেলুদাকে আমরা রূপালী-পর্দার জগতে প্রথম দেখি বোম্বাইয়ের বোম্বেটেতে, যখন বলিউডের চিত্রনির্দেশক পুলক ঘোষাল লালমোহন বাবুর গল্প থেকে একটি চলচ্চিত্র বানানোয় হাত দেন। সেই গল্পে ফিল্মও বানানো হয়, আর ফেলুদাও তারই মাঝে বোম্বাইয়ের এক বড় চোরাচালানকারীকে জব্দ করে। যাই হোক, তার বছরখানেক পরে পুলকবাবু আবারও লালমোহনবাবুর আরেকটি গল্প থেকে নতুন একটি সিনেমা বানানো শুরু করেন, আর দৃশ্যধারণের জায়গা হিসেবে বেছে নেওয়া হয় দার্জিলিং শহরটিকে।

ফেলুদা ও তোপসের ইচ্ছে ছিল যে শুটিং দেখার সাথে সাথে তাদের প্রথম গোয়েন্দাগিরির জায়গাটিতে আরেকবার ঘুরে আসার, কিন্তু সেখানে গিয়ে যে তাদের আরেকবার তদন্তে নামতে হবে, তা কে জানত? ফেলুদার সঙ্গে আলাপ হয় প্রাক্তন বেঙ্গল ব্যাংকের চেয়ারম্যান বিরুপাক্ষ মজুমদারের। ব্যাংকে বিপুল রাহাজানির পরেই চাকরি ছেড়ে দেন তিনি।বিপুল সম্পত্তিবান মিস্টার মজুমদারের আশ্চর্য শখে ফেলুদা মোহিত। সিধু জ্যঠার মতো ওনারও সংবাদপত্রের কাটিং জমানোর শখ। তবে তা শুধু অপরাধ সম্পর্কিত, এবং যার সমাধান হয়নি। তাঁর কাছেই আছে দুর্মূল্য অস্ঠধাতুর বাল গোপালের মূর্তি। তাঁর বিশাল বাংলোতেই হবে পুলকবাবুর ছবির শুটিং। এরই মাঝে খুন হয়ে গেলেন মিস্টার বিরুপাক্ষ মজুমদার। এবার ফেলুদার মগজাস্ত্রের খেল। দুর্দান্ত রোমাঞ্চ, একশনে ভরপুর দার্জিলিং জমজমাট।ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে শ্যুটিংও। শ্যুটিং শুরুর আগের রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে সৃজিত লিখেছিলেন, ‘যখন ফেলুদা শ্যুটিং করি তখন আমি সবচেয়ে সুখী মানুষ হয়ে যাই। কারণ আগামীকাল থেকে সেই ১০ বছরের ছেলেটা এসে আমার পাশে বসবে যে ৫/১০ ইন্দ্র রায় রোডে জন্মেছিল। যে শ্রী হরি দোকানটা থেকে তার স্কুলের টিফিন কিনত, বিজলি সিনেমায় বৈদুর্য্য রহস্য দেখত আর ভবানীপুর বুক ব্যুরো থেকে ফেলুদার পাতলা পাতলা বইগুলো কিনে আনত।

সেই ছেলেটা কাল থেকে আমার পাশে বসবে, মনিটরে চোখ রাখবে আর আমার সঙ্গে হাসবে, আমার সঙ্গে কাঁদবে। কারণ আমরা আমাদের স্মৃতিগুলোকে পুননির্মাণ করছি।’শ্যুটিংয়ের বিভিন্ন ধাপের ছবি পোস্ট করেছেন সৃজিত। সেখানে দেখা যাচ্ছে, কোথাও লাল, কোথাও সাদা শীতপোশাকে নির্দেশ দিচ্ছেন পরিচালক। পোশাকের সঙ্গে হ্যারি পটারের ছবির তুলনা চেনেছেন তিনি। নিজেকে কখনও হ্যারি কখনও স্নেপ বলে দাবি করেছেন সৃজিত। সৃজিতের ফেলুদা ফেরত নিয়ে সমালোচনা কম হয়নি। সাহিত্য থেকে একচুল নড়েননি, হুবহু সত্যজিতের ঘরানা ফলো করেছেন। নতুনত্ব কিছু নেই.. ইত্যাদি ইত্যাদি। সৃজিত তাই চেয়েছিলেন। হুবহু সাহিত্যকে অনুসরণ করতে। নতুন কিছু নিজে করে দেখতে চাননি। চাইবেনই বা কেন? চিননমস্তার অভিশাপ আর যত কান্ড কাঠমান্ডুতে গল্পর গভীরতা, রোমাঞ্চ এতটাই সৃজিত জানতেন , শুধু সাহিত্য হুবুহু অনুসরণ করলেই কাজ হয়ে যাবে। তাই হয়েছে। অত্যন্ত সফল দুটি ওয়েব। 

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here