ভাজপার বর্ধিত পার্টি অফিস ভিক্টোরিয়ায়, সিবিআই নিয়ে অমিত শাহর ডিগবাজি

0

Last Updated on May 7, 2022 12:30 AM by Khabar365Din

৩৬৫দিন। মোদির পথেই পা বাড়ালেন অমিত শাহ। গতবছর ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল নেতাজী জন্ম জয়ন্তী পালনের উৎসবে ভাজপা নেতা ও কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতেই কেন্দ্রীয় তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী অনুষ্ঠানে স্লোগান তুলেছিল জয় শ্রীরাম। আর এবারে বাংলার দুর্গাপুজোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের উদযাপন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রকের অনুষ্ঠানে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অথবা রাজ্য সরকারের কোন আধিকারিককে আমন্ত্রণ না জানিয়েই অমিত শাহ (Amit Shah) সেই অনুষ্ঠানকে পরিণত করলেন ভাজপার (BJP) দলীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে।

- Advertisement -

বাংলার দুর্গাপুজোকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতির উদযাপন। এটাই ছিল শুক্রবার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে (Victoria Memorial) কেন্দ্রীয় পর্যটক মন্ত্রকের আয়োজিত সরকারি অনুষ্ঠান। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভিক্টোরিয়ায় দলীয় বৈঠক সারলেন ভাজপার নেতাদের নিয়ে। প্রথম সারিতে বসে থাকতে দেখা গেল পদ্ম পাল জগদীপ ধনকর, শুভেন্দু অধিকারী, সুকান্ত মজুমদার, অমিত মালব্য , নিশীথ প্রামানিকদের। হেরিটেজ ভিক্টোরিয়া না ভাজপার সদর দফতর ! অমিত শাহ এ্যান্ড কং শুক্রবার যা কার্যকলাপ করলেন তাতে এই প্রশ্ন-ই উঠছে। ভিক্টোরিয়াকে কার্যত ভাজপার পার্টি অফিসে পরিণত করলেন শাহরা।

এমনকি দুর্গাপুজোর সংস্কৃতি নিয়ে কার্যত কোনো কথাই শোনা গেল না ও অবাঙালি অমিত শাহর গলায়। যা বললেন তার সবটা জুড়েই ছিল নরেন্দ্র মোদির স্তুতি। শাহর দাবি, ২০১৪ সাল থেকে কিভাবে গোটা দেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরছেন প্রধানমন্ত্রী। ১৮৫৭ থেকে ১৯৪৭ সাল ৯০ বছর দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের আবার নতুন করে আমাদের মধ্যে জাগিয়ে তুলতে হবে।সেই কাজই করছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী।২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে দুর্গাপূজোকে ইনট্যানজিবল হেরিটেজের সম্মান প্রদান করে ইউনেসকো। যার একমাত্র কৃতিত্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। এদিনের অনুষ্ঠানে মমতাকেই আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। চরম অসৌজন্যতা দেখিয়ে রাজ্যকে অন্ধকারে রেখে অনুষ্ঠানটি করা হয়েছে। অনেকই বলছেন,বাংলার দূর্গাপুজোর ইউনেস্কোর স্বীকৃতি বাঙালি ও বাংলার কাছ থেকে হাইজ্যাক করতে আজ ভিক্টোরিয়ায় অমিত শাহর নেতৃত্বে ভাজপার বৈঠক হল। তার জন্যই রাজ্য সরকারের কোনো প্রতিনিধিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

সিবিআইয়ে শাহর ডিগবাজি
শুক্রবার দুপুরে কলকাতাতে পা রেখে দলীয় কর্মী অর্জুন চৌরশিয়া অস্বাভাবিক মৃত্যুতে কাশীপুরের ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি করেছেন অমিত শাহ। কিন্তু তার ১ ঘন্টার মধ্যেই নিউ টাউনের ওয়েস্টিন হোটেলে দলীয় বৈঠকে সিবিআই নিয়ে নিজের অবস্থান থেকে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেলেন। বৈঠকে অমিত শাহ বলেন,সবসময় সিবিআই তদন্তর দাবি করলে হবে না। সিবিআই এর হাতে ২৭২ টি মামলা রয়েছে। নিজেরা সংগঠন তৈরি করুন। যদি দলে থাকলে লরাই করতেই হবে। আমার বিরুদ্ধেও ৪০ টি মামলা রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও ৩০ বছর ধরে বিরোধী দলে থেকে এর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, তারপর ক্ষমতায় এসেছে। এক বছর হল একটা সরকার ক্ষমতায় এসেছে তার বিরুদ্ধে যা ইচ্ছে তাই পদক্ষেপ নেওয়া যায় না। সব সময় সিবিআই বা ৩৫৬ লাগু করার দাবি করলে চলবে না। হতাশ হবেন না। আমাদের উপর মানুষের সমর্থন আছে।

বাজার গরম করতে কাশীপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংগঠন বলতে আর প্রায় কিছুই অবশিষ্ট নেই অগত্যা সাধারণ একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হলো খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ! বাজার গরম করতে কলকাতায় এসেই বিমানবন্দর থেকে সোজা ছুটতে হল কাশীপুরে পরিত‍্যক্ত রেল কোয়ার্টারে। কার্যত মন্ডল সভাপতির ভুমিকায় অবতীর্ণ হতে হল মোদি মন্ত্রীসভার নাম্বার ২ কে। ইনিয়ে বিনিয়ে অভিযোগ করতে হল, যাতে অন্তত বাংলা থেকে বিজেপি নামক দলটা উঠে না যায়। অনেকে বলছেন, ভাঙন যে ভাবে চওড়া হচ্ছে তাতে বাংলায় বিরোধী দলের তকমাটাও আর ধরে রাখা যাবে না তাই এতোটা মরিয়া যে ছুটতে হল শাহকে তথাকথিত ‘মার্ডার স্পট’ দেখতে! ঠেকায় না পড়লে শাহ কি আর কাশীপুর যেতেন!
এদিন সকালেই অর্জুন চৌরশিয়া নামে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় কাশীপুরের একটি পরিতক্ত রেল কলোনির বাড়ি থেকে। ভাজপা দাবি করে, ওই মৃত ব্যক্তি তাদের দলের সক্রিয় কর্মী ছিলেন। খুনের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভে শামিল হয়। পালটা পথে নামে তৃণমূলও। দেহ উদ্ধার করতে গেলে ভাজপার বাধার মুখে পড়তে হয় পুলিশকে।শুক্রবার দুপুর ২.১৫ মিনিট নাগাদ কলকাতায় পা রেখেই সফরের দ্বিতীয় দিনে আচমকা কমর্সূচি বদল করেন
অমিত শাহ। বিমানবন্দর থেকে কাশীপুরে গিয়ে মৃত ব্যাক্তির পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। বেরিয়ে এসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুবমোর্চা নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। তৃণমূল সরকারের ১ বছর পূর্ণ হওয়ার ঠিক পরেরদিন রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার পরম্পরা শুরু হয়ে গিয়েছে। রাজনৈতিক নেতাদের বেছে বেছে নিশানা করার উদাহরণ আমাদের কাছে আছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই খুন করা হয়েছে।আমরা আদালতে গিয়েছি। নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সিবিআইকে তদন্তভার দেওয়া উচিত। গত কয়েক দিনে অনেকগুলি ক্ষেত্রে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। দেশের কোথাও এত কম সময়ের মধ্যে এতগুলি সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেওয়ার নজির নেই। ঘটনায় আজই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে। এদিকে, অর্জুন চৌরাসিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় ভাজপার তরফে জরুরি ভিত্তিতে প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপের আর্জি জানিয়েছিলেন আইনজীবী সুবীর সান্যাল। প্রধান বিচারপতি প্রকাশ শ্রীবাস্তব এবং বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ সেই আবেদন গ্রহণ করেছে। আলিপুর কম্যান্ড হাসপাতালে অর্জুন চৌরাসিয়ার ময়না তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here