Operation Jharkhand : বিহার রাহুমুক্ত, ভাজপামুক্ত CID-র ক্লিন ঝাড়খন্ড, বিহারের নতুন সরকার তদন্তে সাহায্য করবে

0

Last Updated on August 10, 2022 5:57 PM by Khabar365Din

- Advertisement -

৩৬৫ দিন। মহারাষ্ট্রে সরকার ভাঙ্গারউলট পুরান ঘটেছে বিহারে। পাশাপাশি বাংলার সিআইডি এবং কলকাতা পুলিশের সময়োপযোগী তদন্তের ফলে ঝাড়খন্ডে মুখ থুবড়ে পড়েছে ভাজপার অপারেশন লোটাস। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে বিহার এনডিএ জোটের হাতছাড়া হওয়ার ফলে আরো বিপাকে পড়তে চলেছে ভাজপা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তথা ভাজপা শাসিত অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা ও তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ পারিবারিক আত্মীয়রা।

সিআইডিকে পূর্ণ সহযোগিতা বিহারের

হাওড়ার পাঁচলায় ৪৯ লক্ষ টাকার নগদ নিয়ে ঝাড়খন্ডে যাওয়ার সময় রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন ঝাড়খণ্ডের তিন কংগ্রেস বিধায়ক। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী একদিকে যেমন উঠে আসে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার নাম, থেকে তেমনভাবে উঠে আসতে শুরু করে অসম দিল্লি এবং বিহারে বসে থাকা ভাজপা ঘনিষ্ঠ একের পর এক ব্যবসায়ীর নাম। কিন্তু ভাজপা শাসিত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নিয়ন্ত্রণাধীন দিল্লি পুলিশ দিল্লীতে তদন্তে বাধা দিয়ে সিআইডিকে আটক করে। একই ঘটনা ঘটে গুয়াহাটি এবং বিহারে। কিন্তু গতকাল বিহারে এনডিএ সরকারের পতন হওয়ার পরেই বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে রাতারাতি সিদ্ধান্ত বদল করে আজ সকালে বাংলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের আধিকারিকদের কাছে মৌখিক ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবারে বিহারে গিয়ে সিআইডি আধিকারিকরা তদন্ত করতে চাইলে কোন বাধার সম্মুখীন হতে হবে না। তার জন্য অবশ্য আর দিন দুয়েক অপেক্ষা করতে অনুরোধ করা হয়েছে সিআইডি আধিকারিকদের।

ফের ঝাড়খন্ডে উদ্ধার বিপুল নগদ

হাওড়ায় রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া ঝাড়খণ্ডের কংগ্রেস বিধায়ক আনসারীকে জেরা করার পরে নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল সকাল থেকে আবার ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জায়গায় ঝাড়খন্ড পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে তল্লাশি অভিযান চালায় সিআইডির গোয়েন্দারা। আনসারীর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে যেমন বিপুল পরিমাণ নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে এবং তার সঙ্গে গত প্রায় বছরখানেক ধরে ভাঁজ বা কেন্দ্রীয় নেতৃত্তের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও প্রমাণ করার জন্য যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ সামনে এসেছে ঠিক তেমনভাবেই তার বেশ কয়েকটি লুকানো ঘাঁটিতে হানা দিয়ে ফের বিপুল নগদ উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা।

ধানুকাকে সামনে রেখে অপারেশন হিমন্তর?

ঝাড়খণ্ডের বিধায়কদের গ্রেপ্তার করে লাগাতার জিজ্ঞাসাবাদ এবং তার পরে বাজপেয়ঘনিষ্ঠ আইনজীবী রাজীব কুমারকে হেফাজতে নেওয়ার পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডির হাতে যে সমস্ত তথ্য এসেছে তা থেকে উঠে এসেছিল কলকাতার ব্যবসায়ী মহেন্দ্র আগরওয়াল এর নাম। লালবাজারের ঠিক উল্টোদিকে বিকানের বিল্ডিং থেকে যে ৪৯ লক্ষ টাকা ঝাড়খণ্ডের বিধায়কদের কিনে নেওয়ার জন্য অ্যাডভান্স হিসেবে দেওয়া হয়েছিল তা নাকি দিয়েছিলেন এই মহেন্দ্র আগরওয়াল। মহেন্দ্রকে জেরা করার পরে সিআইডির হাতে উঠে আসে অসমের প্রভাবশালী শিল্পপতি অশোক কুমার ধানুকার নাম। কিন্তু গোলমাল হয়ে যায় গোয়াহাটিতে গিয়ে সিআইডির তদন্তকারীরা অশোক ধানুকার বাড়িতে যাওয়ার সময়। আশ্চর্যজনকভাবে অসম পুলিশ সিআইডিকে সহযোগিতা করার পরিবর্তে অসুখ ধানুকার বাড়ি চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে সিআইডি আধিকারিকদের আটক করে তদন্তে বাধা দেয়। এর কারণ হিসেবে সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য ওয়্যার একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে, কেন্দ্রীয় শিল্প বাণিজ্য মন্ত্রকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে তারা নাকি জানতে পেরেছে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার সঙ্গে সিআইডির টার্গেটে থাকা শিল্পপতি অশোক কুমার ধানুকার ব্যবসায়িক লেনদেনের সম্পর্ক দীর্ঘকালের। শুধু ব্যবসায়িক সম্পর্ক নয় দুজনের পারিবারিক সম্পর্ক যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ এবং যে বাড়িতে সিআইডি অশোক কুমার ধানুকার খোঁজে গিয়েছিল সেখানেই বিশ্বশর্মার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এক পারিবারিক আত্মীয়ের অফিস রয়েছে। মূলত সেই কারণেই মুখ্যমন্ত্রীকে আড়াল করতে অশোক কুমার ধানুকার কাছে যেন মমতার পুলিশ না পৌঁছাতে পারে তাই মরিয়া চেষ্টা করেছিল অসমের পুলিশ।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here