বিচার ব্যবস্থা নিয়ে অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসুর কটাক্ষ ‘রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে বিচারব্যবস্থার অশুভ আঁতাত’

0
2602

‘মহারাজা নন্দকুমার ও হেস্টিংসের কথা আজ মনে পড়ছে’

- Advertisement -

সৌগত মন্ডল। ৩৬৫ দিন।

হিস্ট্রি রিপিটস ইটসেলফ। পরাধীন ভারতের একটি ঘটনা তুলে ধরে বর্তমানে ভারতের বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের এবং কেন্দ্রীয় শাসকদলের অশুভ আঁতাতের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু। আজ তিনি লেখেন, কলোনিয়াল ভারতের একটি ঘটনা তুলে ধরা ভালো। অত্যন্ত সৎ ট্যাক্স কালেক্টর মহারাজা নন্দকুমার ঘুষখোর গভর্নর জেনারেল লর্ড হেস্টিংসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার পরে ভারতের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এলিজা ইম্পে নন্দকুমারের বিরুদ্ধেই মামলার নির্দেশ দেন। শুধু তাই নয় দুর্নীতি এবং জালিয়াতির অভিযোগে 1775 সালের 5 আগস্ট নন্দকুমারকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেন। কারণ ওয়ারেন হেস্টিংস ছিলেন প্রধান বিচারপতি এলিজা ইম্পের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন আগেই ভারতের সর্বোচ্চ আদালতের প্রধান বিচারপতির পদ থেকে অবসর নেওয়ার রঞ্জন গোগোই হঠাৎ করেই অবসর নেওয়ার আগে বহু যুগ ধরে চলে আসা বাবরি মসজিদ মামলার নিষ্পত্তি করে সেখানে রাম মন্দির নির্মাণের পক্ষে রায় দেন। তারপরই তাকে রাজ্যসভার সাংসদ নির্বাচিত করে পুরস্কার দেয় বিজেপি। আজ কৌশিক বসু যে প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন, তার সঙ্গে রঞ্জন গোগোই এবং ভারতের বর্তমান শাসক দলের আঁতাতের মিল রয়েছে। যদিও ইতিহাস বলে মহারাজা নন্দকুমারকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে ফাঁসি দেওয়ার রায় দিয়েছিলেন যে প্রধান বিচারপতি এলিজা ইম্পে, প্রাথমিকভাবে পুরস্কার হিসেবে তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সাংসদ নির্বাচিত হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই এলিজা ইম্পে এবং ওয়ারেন হেস্টিংস – দু’জনকেই ভারতের বিচার ব্যবস্থাকে হত্যা করার অভিযোগে ইমপিচ করে বহিষ্কার করে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট। বিচারব্যবস্থার সাহায্যে বিপুল সম্পত্তির অধিকারী ওয়ারেন হেস্টিংস এই অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
সমাজকর্মী প্রশান্ত ভূষন থেকে শুরু করে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র, দেশের বিভিন্ন মহল থেকে সাম্প্রতিককালে বারে বারে কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এবং প্রধান বিচারপতিদের অশুভ আঁতাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে বিভিন্ন ভাবে। সম্প্রতি বাবরি মসজিদ মামলার রায় থেকে শুরু করে সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু রহস্য তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে বলিউডের সঙ্গে মাদকচক্রের অভিযোগ খুঁজতে নেমে পড়া, প্রতিটি ঘটনাতেই বিভিন্ন রাজনৈতিক কারণে আরো স্পষ্ট করে বলতে গেলে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here