রাহুল, প্রিয়াঙ্কা কেউই নন
দেশের মানুষের সমীক্ষায়
দেশের সেরা বিরোধী নেত্রী মমতাই

0

Last Updated on September 19, 2021 9:59 PM by Khabar365Din

সৌগত মন্ডল। ৩৬৫ দিন।অ্যাডভান্টেজ মমতা। ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনের আগে গোটা দেশজুড়ে ভাজপা বিরোধী যে জোট বাঁধার কাজ শুরু হয়েছে, সেই হিসেবে প্রধান বিরোধী মুখের গ্ৰহণযোগ্যতার বিচারে দেশের অধিকাংশ মানুষের পছন্দের তালিকায় শীর্ষস্থানে রয়েছেন মমতা। সর্বভারতীয় একটি নিউজ ওয়েবসাইটের দেশ জোড়া সমীক্ষার ভিত্তিতে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে গত ১৫ সেপ্টেম্বর। সেখানে দেখা যাচ্ছে বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে আগামী ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনে ভাজপা বিরোধী প্রধান বিরোধী মুখ হিসেবে দেখতে চান দেশের ৭৪ শতাংশ মানুষ। মমতার পরেই দেশবাসীর পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন রাহুল গান্ধী। ৪৮ শতাংশ মানুষের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন রাহুল গান্ধী। রাহুলের সঙ্গে খুব বেশি তফাৎ না হলেও প্রধান বিরোধী মুখের তৃতীয় পছন্দের তালিকায় রয়েছেন নেশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি অথবা এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার। মহারাষ্ট্রের এই প্রবীণ নেতাকে এই পদে দেখতে চান দেশের ৩৮ শতাংশ মানুষ। এখনো পর্যন্ত সংসদীয় রাজনীতিতে অভিষেক না হওয়া প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং উত্তর প্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবকে প্রধান বিরোধী মুখ হিসেবে দেখতে চান ২৬ শতাংশ মানুষ। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল পেয়েছেন ২২ শতাংশ মানুষের সমর্থন। মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা শিবসেনার সুপ্রিমো উদ্ধব ঠাকরের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ৩০ শতাংশ মানুষ এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তথা ডিএমকে সুপ্রিমো স্ট্যালিনকে এই পদে দেখতে চাইছেন ১৯ শতাংশ মানুষ। উত্তরপ্রদেশের আরেক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মায়াবতী প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন মাত্র ৩ শতাংশ মানুষ।
আগামী লোকসভা নির্বাচনে ভাজপা বিরোধী শক্তি ক্ষমতায় এলে প্রধান বিরোধী মুখ হিসেবে জন্য সবথেকে যোগ্যতম, সেই বিষয়ে দেশবাসীর কাছ থেকে জনমত নেওয়ার জন্য এই সমীক্ষায় মূলত পাঁচটি বিষয়ের উপরে প্রশ্ন রেখেছিল সার্ভে সংস্থা।

- Advertisement -

১। প্রশাসনিক দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা – এই ক্ষেত্রে দেশের সমস্ত বিরোধী নেতা-নেত্রীদের তুলনায় অনেকখানি এগিয়ে রয়েছেন মমতা। ৭ বার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন লোকসভায়, তিনবারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং তিনবার মুখ্যমন্ত্রী। এমন ঈর্ষণীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কর্মজীবন এই মুহূর্তে ভারতবর্ষের অন্য কোন নেতা-নেত্রীর নেই। বিরোধী দলের নেতাদের মধ্যে মমতার পরেই প্রশাসনিক অভিজ্ঞতায় এগিয়ে রয়েছেন শরদ পাওয়ার, অখিলেশ যাদব এবং অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

২। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা – সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে ভাজপা বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের মধ্যে সবথেকে বেশি রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে মমতা এবং শরদ পাওয়ার এর। কিন্তু শরদ পাওয়ার এর বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন অসুস্থতা এবং গত প্রায় এক দশকের বেশি সময় সক্রিয় রাজনীতিতে তার অনুপস্থিতি অ্যাডভান্টেজ তৈরি করে দিয়েছে মমতার জন্য।

৩। দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ – মমতা যেমন কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে নিজের সম্পূর্ণ নতুন একটি দল প্রতিষ্ঠা করে বাংলার মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে পরপর তিনবার নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছেন, তেমন সাফল্য অন্য কারো নেই। শরদ পাওয়ার এবং উদ্ধব ঠাকরে নিজেদের দলের উপরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করলেও তাদের নেতৃত্বে দলের সাফল্য আবার মমতার সাফল্যের থেকে অনেকটাই কম। অন্যদিকে রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, স্ট্যালিন অথবা প্রিয়াঙ্কা গান্ধী – প্রত্যেকেই রাজনৈতিক ভাবে তাদের পরিবারতন্ত্রের প্রতিনিধি। মমতার পাশাপাশি এই ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন একমাত্র আম আদমি পার্টির সুপ্রিমো তথা দিল্লীর মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল।

৪। সার্বিক গ্রহণযোগ্যতা – ভাজপা বিরোধিতায় দেশজুড়ে জাতীয় ও আঞ্চলিক দলগুলিকে এক ছাতার তলায় নিয়ে এসে ভাজপা বিরোধী মহাজোট তৈরীর ক্ষেত্রে সাফল্যের সমীকরণ নির্ভর করবে সমস্ত দলগুলির নেতাদের আস্থা অর্জনের উপরেই। এই ক্ষেত্রে রাহুল গান্ধী অথবা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল অথবা তাঁর দল আম আদমি পার্টির কার্যত মুখ দেখাদেখি বন্ধ। আবার শরদ পাওয়ার এর সঙ্গে অখিলেশ যাদব অথবা লালু প্রসাদ যাদবের ছেলে তেজস্বী যাদব এর সম্পর্ক খুব একটা মধুর নয়। অথচ মমতার সঙ্গে কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী থেকে শুরু করে শরদ পাওয়ার, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, স্ট্যালিনের সম্পর্ক দীর্ঘকালের এবং ব্যক্তিগত স্তরে।

৫। সর্বোপরি আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে সবথেকে বড় যে ফ্যাক্টর কাজ করবে দেশের মানুষের মধ্যে তা হল ভাজপা বিরোধিতায় সততা এবং লাগাতার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা। মমতা বিগত দুটি লোকসভা নির্বাচন এবং পরপর তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে দেশের সর্বশক্তিমান ভাজপা শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করে জয় হাসিল করে দেখিয়ে দিয়েছেন ভাজপাকে হারাতে পারেন একমাত্র তিনিই। বিহারের বিধানসভা নির্বাচন হোক অথবা উত্তরপ্রদেশের বিধানসভা নির্বাচন – প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে ভোটের মাঝেই নির্বাচনী প্রচারের ময়দান থেকে রীতিমতো গায়েব হয়ে গিয়েছেন রাহুল গান্ধী। যুদ্ধের ময়দান থেকে সেনাপতি নিজেই নেতৃত্ব না দিয়ে গায়েব হয়ে গেলে দলের সৈনিকদের মনোবল সেখানেই ভেঙে যায়। অথচ একুশের বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে মমতা ভাঙ্গা পায়ে হুইলচেয়ারে বসে গোটা রাজ্যে ঘুরে বেড়িয়ে ভাজপার বিরুদ্ধে জোরালো প্রচার করে এবং অবশ্যই যাবতীয় কেন্দ্রীয় এজেন্সির বিরুদ্ধে লড়াই করে ভাজপাকে শোচনীয়ভাবে পর্যুদস্ত করে প্রমান করে দিয়েছেন যুদ্ধ জিতে ময়দান ছাড়তে হয় সেনাপতিকে। এই ক্ষেত্রে মমতাকে হারানোর কেউ নেই।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here