বাঙালি লজ্জিত ছিল বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙায়, মমতা তাঁর হৃত গৌরব ফিরিয়ে দিলেন

0

Last Updated on September 26, 2020 6:11 PM by Khabar365Din

৩৬৫ দিন: বাংলার নবজাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 200 তম জন্ম দিবস উপলক্ষে রাজ্য জুড়ে চলছে বিভিন্ন অনুষ্ঠান। কিন্তু মাত্র বছর খানিক আগেই কলকাতায় সত্তরের দশকের নকশাল রাজনীতির স্মৃতি ফিরিয়ে নে দেশের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির তৎকালীন সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের সভা থেকে একদল বহিরাগত দুষ্কৃতীর হাতে বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তির ভূলুণ্ঠিত হওয়ার ঘটনায় আজ লজ্জিত বোধ করেন বহু বাঙালি। 2019 সালের মে মাসে কলেজ স্ট্রিটে অমিত শাহের সভায় চলাকালীন সেখান থেকেই বাংলার বাইরে থেকে আসা বাংলার ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির সম্পর্ক বিন্দুমাত্র জ্ঞান না থাকা একদল উগ্র বিজেপি সমর্থকদের হাতে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভূলুণ্ঠিত হওয়ার পরেই মাত্র এক মাসের মধ্যে নতুন মূর্তি তৈরি করিয়ে নিজে হাতে তা পুনঃস্থাপন করেন মমতা। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে অমিত শাহের মত বিজেপির সর্বভারতীয় নেতৃত্তের তরফ এ বারে বারে ঘোষণা করা হয়েছিল তারা নাকি কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে অষ্টধাতুর বিদ্যাসাগর মূর্তি বানিয়ে দেবেন। যদিও আজ পর্যন্ত তেমন কোন মূর্তি ভূ-ভারতে কোথাও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে শোনা যায়নি।
শুধুমাত্র কলকাতা বিদ্যাসাগর কলেজে বিদ্যাসাগরের ভেঙে যাওয়া মূর্তি পুনঃস্থাপন করা নয়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জন্মভূমি বীরসিংহ গ্রামে নিজে গিয়ে আমূল সংস্কারের পাশাপাশি গোটা পৃথিবীর মানুষের কাছে বিদ্যাসাগরের কর্মজীবন এবং তার জীবন বোধ তুলে ধরার জন্য রাজ্য পর্যটন দফতরের উদ্যোগে ট্যুরিজম সার্কিট করার কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
আজ সকালেও মুখ্যমন্ত্রী টুইট করে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, শিক্ষাবিদ এবং সমাজ সংস্কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের 200 তম জন্মদিন তার প্রতি আমার শ্রদ্ধা জানাই। বাংলা ভাষাকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য অগ্রণী ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন তিনি এবং রচনা করেছিলেন বর্ণপরিচয়। বিধবা বিবাহ প্রবর্তনের জন্য লড়াই করার পাশাপাশি বহুবিবাহ এবং শিশু বিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে তার লড়াই চির স্মরণীয়। বাংলার মানুষ আজও গর্বের সঙ্গে দয়া সাগর বিদ্যাসাগরকে স্মরণ করে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও তিনি আমাদের অনুপ্রেরণা জোগান। দুর্ভাগ্যজনকভাবে 2019 সালে তার আবক্ষ মূর্তি কিছু বহিরাগতের হাতে ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল, যা বাংলার গর্ব এবং ঐতিহ্যের পরিপন্থী। তার শিক্ষা আজও আমাদের জীবনবোধ শেখায়।
প্রসঙ্গত রাজ্য মন্ত্রিসভার কেবিনেট বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের গ্রামে বীরসিংহ ডেভেলপমেন্ট অথরিটি তৈরি করবে রাজ্য সরকার। বীরসিংহ গ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় উন্নয়ন মডেল তৈরি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট জেলা শাসক এই গোটা কাজের দায়িত্বে থাকবেন। তাঁর তদারকিতেই পুরো কাজটি সম্পন্ন হবে।

- Advertisement -
Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here