জাতের নামে বজ্জাতি, কেন্দ্রের ধর্মীয় রাজনীতি জাতের ভিত্তিতে জনগণনা

0

Last Updated on August 8, 2022 6:13 PM by Khabar365Din

- Advertisement -

৩৬৫ দিন। জাতের নামে বজ্জাতি সব, জাত জালিয়াত খেলছে জুয়া। ভারতে যেন আবার ফিরে আসছে প্রাচীন কালের সেই বর্ণভেদ প্রথা। যেখানে প্রত্যেকটি মানুষ তার নিজের পরিচয় থেকে বেশি পরিচিত হতো তার ধর্ম অথবা জাত বা বর্ণের ভিত্তিতে। গোটা দেশজুড়ে যখন স্বাধীনতার ৭৫ বছর বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আজাদীকা অমৃত মহোৎসব পালিত হচ্ছে মহা ধুমধাম করে, সেই সময় ভারতবাসীকে এক জাতি হিসেবে তুলে ধরার পরিবর্তে প্রায় চুপিসাড়ে শুরু হয়ে গিয়েছে ভারতের প্রায় ১৩০ কোটি মানুষকে জাতির ভিত্তিতে ভাগাভাগি করার।

সংসদে এবং বিভিন্ন স্ট্যান্ডিং কমিটির বৈঠকে কেন্দ্রের মোদি সরকার গত তিন বছর ধরে ক্রমাগত বলে এসেছে জাতির ভিত্তিতে জাতিগত জনগণনার পক্ষে নয় বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু বাস্তব ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে গ্রামে গ্রামে বি এল ও বা বুথ লেভেল অফিসারদের দিয়ে নির্দিষ্ট একটি ফর্ম পূরণ করানো হচ্ছে এলাকার প্রত্যেকটি বাসিন্দাকে দিয়ে। যে জনগণনার ভিত্তি কার্যত কে কোন জাতিভুক্ত – তা জানার জন্য। সরকারিভাবে এটিকে জনগণনা বলা না হলেও ভোটার লিস্টে বা ভোটার কার্ডে ভোটারদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রত্যেকের জাতিগত তথ্য এবং জাতিগত শংসাপত্র সুকৌশলে সংগ্রহ করে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকাশ্যে এই বিষয়টিকে জাতিভিত্তিক বা জাতিভিত্তিক জনগণনা বলে স্বীকার করে না হলেও বলা হচ্ছে মূলত ওবিসি সম্প্রদায় ভুক্ত মানুষ কেন্দ্রের নির্দেশিকা অনুযায়ী অভিষেক কোন কোন জাতি বা বর্ণের অন্তর্ভুক্ত তা জানার জন্য এই জনগণনা চলছে। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে প্রতিটি বাড়িতে ভোটার তালিকায় নাম উঠুক অথবা না উঠুক তাদের জাতিগত শংসাপত্র চাওয়া হচ্ছে কমিশনের প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে। জাতিব্যবস্থা এক জাতি থেকে আরেক জাতিতে অথবা এক জাতির অভ্যন্তরে বিভাজনেরই শক্তি। যেমন ওবিসি নিয়ে এত উন্মাদনা।

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার দাবি, জাতি ও সম্প্রদায় ভিত্তিক জনগণনার পরিসংখ্যান জনগণের স্বার্থেই কাজে লাগানো হবে৷ সরকারি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে তা ব্যবহার করতে চায় সরকার৷ তবে, পূর্বের মতো পরিসংখ্যান গোপন রাখা হবে নাকি প্রকাশ করা হবে, তা সরকারের বিবেচ্য৷ একদিকে জাতি ও সম্প্রদায় ভিত্তিক জনগণনার প্রস্তুতি, অন্যদিকে নাগরিকত্বে ধর্মের প্রমাণপত্র, এই দুই নিয়ে আবারও উত্তাল হতে চলেছে দেশের রাজনীতি৷
এদেশে ব্রিটিশ ধাঁচের জনগণনার শুরু ১৮৭২ সালে।
দেশের প্রথম জনগণনা থেকে ১৯৩১ সালের জনগণনা অবধি জাতিভিত্তিক জনগণনা হয়েছে । ১৯৪১ এর জনগণনাও সেইভাবে শুরু হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে তা অসমাপ্ত হয়ে পড়ে থাকে। স্বাধীনোত্তর ভারতে এ পর্যন্ত জাতিভিত্তিক জনগণনা হয়নি। সাধারণ, তপশিলি জাতি, আদিবাসী, ধর্ম- এই শ্রেণীবিভাগেই এখন জনগণনা হয়।
কিন্তু ভাজপা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মূলত আরএসএসের তরফে অটলবিহারী বাজপেয়ির মন্ত্রিসভার ওপরে এমন জাতভিত্তিক জনগণনার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। ২০০১ এর জনগণনার সময়ে ভারতের রেজিস্টার জেনারেল এবং সেন্সাস কমিশনার তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীকে জাতিভিত্তিক জনগণনার পরামর্শ দিলেও তা কার্যকরী হয়নি।

তবে আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে আবার এভাবেই প্রাচীন ভারতের বর্ণভেদ প্রথা অথবা জাতভিত্তিক সমাজে ব্যবস্থাকে জাগিয়ে তুলতে চাইছে ভাজপাশাসিত কেন্দ্রীয় সরকারের এই নয়া উদ্যোগ।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here