সিজোফ্রেনিয়ার রুগীকে বাঁচালেন পুলিশ কর্মীরা

0

Last Updated on August 31, 2022 7:12 PM by Khabar365Din

- Advertisement -

চোখ বন্ধ করে ভিআইপি রোডের মতো রাস্তা দিয়ে যেদিক থেকে বাস বা যানবাহন আসছে সেই মুখী হয়ে উদভ্রান্তের মতো হেঁটে চলেছেন মধ্যবয়সী এক মহিলা। তাকে বাঁচানোর জন্য রাস্তা দুই ধারে দাঁড়িয়ে থাকা নিত্যযাত্রীরা চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দিয়েছেন। গোটা ঘটনাটি হঠাৎই নজরে পড়ে কতব্রত একসাথে পুলিশ কর্মচারীর।

নিজের প্রাণের মায়া ছেড়ে দিয়ে অফিস টাইমের তীব্র গতিতে ছুটে আসা গাড়ির মধ্যে ছুটে যান সিভিক ভলেন্টিয়ার প্রদীপ কর্মকার। উদ্দেশ্য একটাই, মাঝবয়সী ওই মহিলাকে দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। বার দুই একটা তাকে বুঝিয়ে রাস্তার একধারে নিয়ে আসা গেলেও ফের তিনি মাঝ রাস্তায় ছুটে চলে যান। এইভাবে প্রায় 15 থেকে কুড়ি মিনিট ওই সিভিক ভলেন্টিয়ার মহিলার প্রাণ বাঁচানোর জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকেন। অবশেষে নিত্যযাত্রীদের সহায়তায় মহিলাকে মাঝ রাস্তা থেকে সরিয়ে ফুটপাতে নিয়ে আসেন প্রদীপ।


ঘটনাটি ঘটেছে ভিআইপি রোডের বাগুইহাটি এলাকায়। সকাল পৌনে 11 টা নাগাদ বাগুইহাটি এলাকার মন্ডল স্কুলের সংলগ্ন পাড়ার বাসিন্দা বছর ৩৫ এর মহিলা বাড়ি থেকে বেরিয়ে চলে আসেন ভিআইপি রোডে। এরপরই তিনি তার হাতে থাকা ব্যাগ মোবাইল ছুড়ে ফেলে দেন রাস্তার ধারে এবং তার সঙ্গেই চোখ বন্ধ করে মাঝ রাস্তা দিয়ে প্রবল গাড়ির চাপের মধ্যেও উল্টোদিকে হাঁটতে শুরু করেন। প্রাথমিকভাবে কেউ বিষয়টি বুঝতেই পারেননি। নিত্যযাত্রীরা ভেবেছিলেন তিনি সাপের সিঁড়ি ভাঙতে নাচে রাস্তা পারাপার হওয়ার চেষ্টা করছেন ভিআইপি রোডের উপর দিয়েই। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই গোটা বিষয়টি সকলের সামনে কার্যত আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করে।

যখন ওই মহিলাকে একটি বাস দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সজোরে ব্রেক কোষে মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে যায়। শাটল ব্রেক মারার জন্য তীব্র শব্দ উৎপন্ন হয়। তাতেই সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ওই মহিলা। এরপরই প্রদীপ ছুটে যায় মাঝ রাস্তায়। মহিলাকে কোনরকমে বুঝিয়ে ভিআইপি রোডে ৪৪ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের ধারে নিয়ে আসে সে। কিন্তু কোথায় কি, কয়েক সেকেন্ড বিরতির পরেই ফের একবার ওই মহিলা মাঝ রাস্তায় ছুটে যান। এবার তাকে বাঁচানোর জন্য প্রদীপ বাগুইআটি ট্রাফিক গার্ডে তার সহকর্মীদের ডেকে পাঠান।

তখনই গোটা বিষয়টি নিত্য যাত্রীদের নজরে আসলে তারা জোড়া মন্দির সংলগ্ন এলাকায় মহিলাকে বাঁচানোর জন্য প্রদীপের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। ফলে মহিলাকে কোনরকমে রাস্তার ধারে নিয়ে আসার পরেই দেখা যায় ওই ভদ্রমহিলার বাড়ির লোক তাকে খোঁজাখুঁজি করতে করতে জোড়া মন্দিরে এলাকায় এসে পৌঁছেছেন। তাদের কাছ থেকে ই পুলিশ কর্মচারীরা জানতে পারেন মহিলা সিজোফ্রেনিয়ার মতন গুরুতর রোগে আক্রান্ত। দিন ১৫ ধরে তার এই রোগের চিকিৎসা চলছে। এদিন সকালে হঠাৎই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে এখানে ঘটনা ঘটাতে যাচ্ছিলেন।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here