সুরাটের রিসর্ট বুক করে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর দফতর, গুজরাতে মদ নিষিদ্ধ হওয়া সত্বেও প্রায় ৭০-৮০ লক্ষ টাকার হোটেল, খাবার, মদের বিল বাকি

0

Last Updated on June 28, 2022 7:07 AM by Khabar365Din

৩৬৫ দিন। সুরাট। হাটে হাঁড়ি ভেঙে গেল ভাজপার গুজরাট মডেলের। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের নিজের রাজ্য গুজরাটে মদ্যপান নিষিদ্ধ হলেও সেখানে খোদ মুখ্যমন্ত্রী দপ্তর থেকে ভুয়ো নামে হোটেল বুক করে বিদ্রোহী শিবসেনা বিধায়কদের আকন্ঠ মদ্যপান করানো হয়েছিল বলে তথ্য প্রকাশ্যে এলো। তবে মহারাষ্ট্রে শিবসেনা কংগ্রেস এবং এনসিপি জোটের সরকার ভাঙ্গার জন্য ভাজপা যে অপারেশন লোটাসের পরিকল্পনা তৈরি করেছিল তা করতে গিয়ে গুজরাতে বিদ্রোহী শিবসেনা বিধায়কদের রাখলেও হোটেল ভাড়া থেকে শুরু করে লিটার লিটার টাকা মেটানো হয়নি আজ পর্যন্ত।
সুরাটের হোটেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তদন্তধর্মী এই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সংবাদপত্র।

- Advertisement -

ই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে প্রভাবশালী কোন ব্যক্তির নির্দেশে সুরাটের পাঁচতারা হোটেলের ৩০ রুম বুক করা হয়েছিল বিভিন্ন ভুয়ো নামে। পরে রুমের সংখ্যা বাড়িয়ে করা হয়েছিল ৩৫। কারণ ভাজপা অথবা শিবসেনাতে ভাজপা এজেন্ট একনাথ শিন্ডে পর্যন্ত তখনো জানতেন না ঠিক কতজন বিদ্রোহী বিধায়ককে সঙ্গে করে গুজরাতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।


সুরাটের হোটেল সূত্রে জানা গিয়েছে গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরের প্রভাবশালী এক ব্যক্তির নির্দেশে প্রত্যেকটি রুম বুক করা হয়েছিল মিস্টার এ। মিস্টার বি। মিস্টার এবি – এই ধরনের ভুয়ো নামে। ‌ শুধু তাই নয় কেন্দ্রীয় সরকারি নিয়ম অগ্রাহ্য করে বিলাসবহুল এই হোটেলের রুম ভাড়া দেওয়ার সময় কারো কাছ থেকে জমা নেওয়া হয়নি কোনো পরিচয় পত্র।

তা সত্ত্বেও সুরাত ছেড়ে গুয়াহাটি কেন

এই প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য এবং সুরাটের হোটেল সূত্রে জানা গিয়েছে বিদ্রোহী শিবসেনা বিধায়কদের নির্দেশ মতো এত বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ তাদের রুমে পাঠাতে হয়েছে যে কয়েকঘণ্টাতেই তা ছাড়িয়ে যায় কয়েক লক্ষ টাকা। এমনিতেই ভাজপা শাসিত গুজরাতে মদ পান এবং মদ বিক্রি নিষিদ্ধ হওয়ায় সুরাটের হোটেলের স্টকে আইনত নিষিদ্ধ মদের পরিমাণ খুব বেশি ছিল না। ‌ এই পরিস্থিতিতে নাকি বিদ্রোহী বিধায়কদের অধিকাংশই মহারাষ্ট্রে ফিরে যাওয়ার জন্য জেদ করতে থাকেন। তবে বিদ্রোহী বিধায়করা চলে গেলেও সুরাটের হোটেল কর্তৃপক্ষ এই বিপুল পরিমান বকেয়া টাকা একটি কানাকড়িও পায়নি বলে জানা গিয়েছে। তার মধ্যে আবার সঠিক নামে বুকিং ছিল না কারো!


বাধ্য হয়ে এই পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি মধ্যরাতে প্রায় রাত আড়াইটার সময় বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে বিদ্রোহী বিধায়কদের উড়িয়ে নিয়ে যেতে হয় ভাজপা শাসিত অসমের গুয়াহাটির রেডিসন ব্লু হোটেলে। এমনকি বিদ্রোহী বিধায়কদের পৌঁছানোর আগেই যেতে সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্র্যান্ডেড বিদেশী মদ মজুদ থাকে তার জন্য অসমের ভাজপা শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে সেই রাতেই রেডিসন ব্লু হোটেলে মোতায়েন করা হয় বিপুল পরিমাণ মদের ভান্ডার।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here