কেন্দ্রশাসিত করার চক্রান্ত পৃথক উত্তরবঙ্গকে, RSS-র স্বরাজ পত্রিকায় বাংলা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস

0

Last Updated on July 15, 2022 6:35 PM by Khabar365Din

- Advertisement -

সুমন ভট্টাচার্য ও সৌগত মন্ডল

৩৬৫ দিন। লোকসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে ততই বঙ্গভঙ্গের জন্য মরিয়া হয়ে উঠতে শুরু করেছে ভাজপা। মূলত ভাজপার পিছনে থাকা আরএসএসের তাত্ত্বিক নেতারা কেন্দ্রের ভাজপা সরকারের পাশাপাশি বাংলার ভাজপা নেতৃত্বের জন্য রীতিমতো বঙ্গভঙ্গের গাইডলাইন বেঁধে দিলেন আরএসএস পরিচালিত স্বরাজ্য পত্রিকায়। RSS-র কট্টর হিন্দুত্ববাদী তাত্ত্বিক নেতা আর জগন্নাথ এই পত্রিকাটি সম্পাদনা করেন। বাংলা থেকে RSS পরিচালিত স্বরাজ্য পত্রিকার সম্পাদকীয় কমিটিতে রয়েছেন স্বপন দাশগুপ্ত।

বঙ্গভঙ্গের পিছনে আরএসএসের যুক্তি

আরএসএস এবং ভাজপা তাত্বিক ভাবে ছোট রাজ্যের তত্বে বিশ্বাস করে বরাবর। আরএসএস এর মুখপত্র অর্গানাইজারে এই নিয়ে বহু নিবন্ধ লেখা হয়েছে কেন ভারতবর্ষে বড় রাজ্যের থেকে বেশি ছোট রাজ্য বা কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল থাকা জরুরি। এমনকি প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ীর জমানায় দেশের সবথেকে বেশি রাজ্য ভেঙে নতুন রাজ্যের সৃষ্টি হয়েছিল। ভারতের ভৌগোলিক অবস্থানের সঙ্গে ইতিহাস বিচার করে আরএসএস নেতাদের গবেষণামতো ভারতে পৃথক অঙ্গরাজ্য অথবা কেন্দ্রীয় শাসিত রাজ্য মিলিয়ে মোট রাজ্য থাকা উচিত অন্ততপক্ষে ৫২।

সে ক্ষেত্রে রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় কারণে ভারতে নতুন রাজ্য তৈরীর ক্ষেত্রে আরএসএসের যে এজেন্ডা, তার মধ্যে শীর্ষস্থানে রয়েছে বাংলা ভেঙে পৃথক উত্তরবঙ্গ রাজ্য প্রতিষ্ঠা করা। বাংলা ভেঙ্গে পৃথক উত্তরবঙ্গ রাজ্য তৈরি করলে প্রাথমিকভাবে সেটিকে স্বশাসিত অঙ্গরাজ্যের মর্যাদা না দিয়ে বর্তমানে লাদাখ অথবা কাশ্মীরকে যেভাবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করে রাখা হয়েছে সেই ভাবেই সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখা বাঞ্ছনীয় বলে মত প্রকাশ করেছে আরএসএস। ভুলে গেলে চলবে না অটল বিহারী বাজপেয়ির জমানায় কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের বিভিন্ন নীতির সঙ্গে আরএসএসের বিরোধ তৈরি হলেও মোদি জমানায় তা কখনো তৈরি হয়নি। কারণ নরেন্দ্র মোদী নিজেই আরএসএস ভাবধারায় দীক্ষিত এবং প্রতিপালিত। মূলত সেই কারণেই আরএসএস বিভিন্ন সময় নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রের ভাজপা সরকারের ভবিষ্যৎ কর্তব্য ঠিক করে দেয় তাদের তৈরি করা গাইডলাইনে।

বঙ্গভঙ্গের পিছনে সমস্যা কোথায়

আরএসএস প্রচলিত স্বরোজ পত্রিকায় স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে মমতা যেভাবে এনআরসি এবং নাগরিকত্ব আইনের বিরোধিতা করে চলেছেন তাতে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি থেকে বেআইনি অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশী এবং মুসলমানদের আলাদা করে খুঁজে বের করে বিতাড়ণ করা কার্যত অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই কারণে বাংলা ভাগ করে উত্তরবঙ্গকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ঘোষণা করে ফেলতে পারলে এনআরসি এবং নাগরিকত্ব আইন চালু করে এই উদ্দেশ্য সাধন করা সম্ভব। এর পাশাপাশি সরাসরি অভিযোগ তোলা হয়েছে ৩৪ বছরের বাম শাসন এবং তারপরে গত 11 বছরের তৃণমূলের শাসনে নাকি উত্তরবঙ্গ বরাবর বঞ্চিত থেকেছে।
তবে মমতা তথা তৃণমূলের বিরোধিতা কে ভয় পেলেও আর এস এস এর মাথাব্যথার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলায় ভাজপা নেতৃত্বের কোনো শক্তিশালী পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে দুর্বলতা। স্বরাজ পত্রিকায় স্পষ্ট ভাষায় লেখা হয়েছে, একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গের কয়েকজন ভাজপা নেতা যখন উত্তরবঙ্গ রাজ্যের দাবী তুলেছেন সেই সময় দক্ষিণবঙ্গের মূলত বুর্জোয়া বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষের বিরোধিতার ভয় পিছিয়ে গিয়েছে বাংলার ভাজপা নেতৃত্ব। অথচ দক্ষিণবঙ্গের এই সমস্ত বুর্জোয়া বাঙালিরা ভোট বাক্সেও ভাজপাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। অবিলম্বে দক্ষিণবঙ্গের বাঙ্গালীদের সমালোচনার আতঙ্ক কাটিয়ে যে উত্তরবঙ্গ থেকে সবথেকে বেশি বিধায়ক এবং সাংসদ রয়েছে ভাজপার, সেখানে পৃথক রাজ্য তৈরীর জন্য অলআউট ঝাঁপাতে হবে।

বঙ্গভঙ্গের পেছনে রাজনৈতিক কারণ

যেখানে ভাজপার প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক শক্তি বেশি শক্তিশালী, সেখানেই আরএসএস এই রাজ্যভাগের কৌশল নেয়। প্রয়োজনে বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির সঙ্গে হাত মেলায়। যেমন সাবেক অন্ধ্রপ্রদেশ ভাগ করে তেলেঙ্গানা করার আন্দোলনে আরএসএস এমনকি মাওবাদীদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন করেছে, সমিতি চালিয়েছে। আরএসএস বুঝে নিয়েছিল, অন্ধ্রপ্রদেশকে ভাগ করতে পারলে সেখানে কংগ্রেসের রাজনৈতিক শক্তিকে শেষ করে দেওয়া যাবে। বাস্তবিক ক্ষেত্রে তা ঘটেছে অন্ধ্রপ্রদেশের ক্ষেত্রে। ঠিক একইভাবে বাংলায় মমতার বিরুদ্ধে অলআউট লড়াই করার পরেও জয়ের ধারে কাছে যেতে না পেরে আর শেষ তথা ভাজপার দৃঢ় বিশ্বাস বাংলাকে ভেঙে পৃথক উত্তরবঙ্গ তৈরি করতে পারলে তা প্রথম থেকেই থাকবে তাদের দখলে এবং অবশ্যই তা মমতা তথা তৃণমূলের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলার জন্য একটা বড় পদক্ষেপ হবে বলেই বিশ্বাস আর এস এসের।


আসলে আরএসএস চায় একটা শক্তিশালী কেন্দ্র থাকবে, আর ছোট ছোট দূর্বল রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। রাজ্যগুলো দূর্বল হলে বা তাদের নিজস্ব রাজস্ব ব্যবস্থা শক্তিশালী না হলে তারা অর্থনৈতিক দিক থেকে কেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল হবে, নয়াদিল্লির কোনও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করতে পারবে। দূর্বল রাজ্য এবং শক্তিশালী কেন্দ্র হলে যে কোনও একনায়কের সুবিধা। অন্তত পৃথিবীর ইতিহাস তাই বলে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here