রায় পরিবারের চতুর্থ স্তম্ভ

0
218

৩৬৫দিন। ২২ বছর বয়সে তাঁর চলচ্চিত্র জীবন শুরু করেন শতরঞ্জ কি খিলাড়ি ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে। এ ছাড়াও তিনি তাঁর বাবার বিভিন্ন ছবিতে কাজ করেন, এমনকী ফোটোগ্রাফার হিসেবেও। তাঁর প্রথম পরিচালকের কাজ ফটিকচাঁদ ছবিতে। এই ছবি আন্তর্জাতিক শিশু চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পায়। তিনি এক জন ফোটোগ্রাফার হিসেবেও সুখ্যাতি অর্জন করেন। সত্যজিৎ রায়ের শেষ ৩টি চলচ্চিত্রে তিনি ফোটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করেন। গণশত্রু, শাখাপ্রশাখা এবং আগন্তুক সেই ৩টি ছবি।

- Advertisement -

তিনি ছোটদের ম্যাগাজিন সন্দেশ-এ প্রকাশক হিসেবে কাজ করেন ও করছেন। এই ম্যাগাজিন প্রকাশ শুরু করেন প্রপিতামহ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী। এর পর তাঁর পিতামহ সুকুমার রায় ও বাবা সত্যজিৎ রায় এই ম্যাগাজিনের হাল ধরেন। ১৯৯২ সালে বাবার মৃত্যুর পর সন্দীপ রায় যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে কাজ শুরু করেন এবং ২০০৩ সালে হতে বর্তমান পর্যন্ত তিনি এই ম্যাগাজিনের সম্পাদক।

ছবির আবহ সংগীতের এর কাজ করছেন সন্দীপ রায়। ছবি। অভীক দাস

তিনি বিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র ফেলুদাকে নিয়ে বেশ কিছু সিনেমা পরিচালনা করেছেন। যার সবকটি বাণিজ্যিকভাবে সুপারহিট। বাক্স রহস্য ছবিটিতে প্রথম সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় পরবর্তী ফেলু হিসাবে সব্যসাচী চক্রবর্তীকে নির্বাচন করেন, এবং বাঙলি দর্শক তাদের নতুন ফেলুদাকে পেল। অসম্ভব সফলতা পান সব্যসাচী। বাক্স রহস্য টেলিভিশনের জন্য তৈরি হয়, অসম্ভব সফল হয়, এবং পরে বড় পর্দায় মুক্তি পায়। এর পরেই জাতীয় টেকিভিশনের জন্য ফেলুদা ৩০ সিরিজ মুক্তি পায়। হিন্দি ও বাংলা দুই ভাষাতেই। সত্যজিৎ এর ৩০ টি গল্প দুর্দান্ত হিট হয়। দীর্ঘ ও সফল এই যাত্রা পথে ততদিনে দুই জটায়ু চরিত্র রবি ঘোষ ও অনুপ কুমারকে আমরা হারিয়েছি। টেলাভিশনে এই সাফল্যের পরেই সন্দীপ রায় সত্যজিতের ছোট গল্প নিয়ে কাজ শুরু করেন ১৯৯৯ সালে। ১৪ টি ভিন্ন স্বাদের গল্প নিয়ে সত্যজিতের গল্প তাঁর পরিচালনায় ছোটপর্দায় আসে এবং অসম্ভব সফল হয়।

চার ছবির শুটিংয়ে কোয়েলকে দৃশ্য বুঝিয়ে দিচ্ছেন সন্দীপ রায়। ছবি। সুব্রত কোটাল

২০০০ এ সত্যজিতের প্রিয় গল্প নিয়ে আবার একটা সিরিজ টেলিভিশন জমিয়ে দেয়। ইতিমধ্যেই ডক্টর মুন্সির ডায়রি পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি টেলিভিশনের জন্য তৈরি করেন। তাঁর নির্মিত ফেলুদা ছোটপর্দায় এই বিপুল সফলতা পাওয়ার পরই বড়পর্দায় ফেলুদা আনার পরিকল্পনা করেন তিনি। প্রথম ছবি ২০০৩ এ বোম্বাইয়ের বোম্বেটে। এই ছবিতে নতুন জটায়ু হলেন বিভু ভট্টাচার্য। ট্রেন, একশন, দারুন ট্রাভেলগ, ঘোড়ার পিঠে চেজিং সম মিলিয়ে অভাবনীয় সাড়া ফেলে দেয় এই ছবি। ছোটপর্দার মত বড়পর্দায়ও ফেলুদা হিসাবে বাঙালি দর্শক সব্যসাচীকে গ্রহণ করে নিল সাদরে। এর পরে ২০০৭ সালে কৈলাসে কেলেঙ্কারি, পরের বছরেই টিনটোরেটো যীশু, ২০১০ এ গোরস্থানে সাবধান। পরের বছরেই তাঁর নির্মিত অন্যতম সেরা ফেলুদা রয়েল বেঙ্গল রহস্য মুক্তি পায়। ২০১১ থেকে ১৪ দীর্ঘ প্রতীক্ষা ছিল নতুন জটায়ুর।

কপিরাইট। রায় পরিবার

দীর্ঘ দিনের সফল জটায়ু বিভু ভট্টাচার্যর মৃত্যু এনে দিয়েছিল সাময়িক বিরতি। ২০১৪ য় জটায়ু ছাড়াই তরুণ ফেলু নিয়ে বাদশাহী আংটির শুটিং শুরু হয় লখনৌওতে। এবার ফেলু আবির চ্যাটার্জি। বাদশাহী আংটি বাণিজ্যিকভাবে সফল হলেও আবীর ছুটলেন ব্যোমকেশ হতে। ২০১৬ তে সন্দীপ রায় আবার সব্যসাচীকে নিয়ে ডবল ফেলুদা হিট করিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, অপরিহার্য বলে চলচিত্রে কিছু হয় না।সব্যসাচী তাঁর অভিজ্ঞতা আর ম্যানারিজম দিয়ে দুর্দান্ত কাজ করলেন। ফেলুদার ছবি আবার স্বমহিমায় হিট।

ফটিক চাঁদ ছবির শুটিংয়ে সন্দীপ রায়। কপিরাইট। রায় পরিবার

ফেলুদার পর্ব আপাত বিরতি দিয়ে সন্দীপ রায় সত্যজিতের আর এক কালজয়ী চরিত্র প্রফেসর শংকুকে পর্দায় আনলেন ২০১৯ সালে। ধৃতিমান চট্টপাধ্যায় ও শুভাশিস মুখোপাধ্যায়ের দুর্দান্ত যুগলবন্দিতে প্রথম শঙ্কু বাণিজ্যিক সাফল্য পায়। সত্যজিতের শতবর্ষ উপলক্ষে তাঁর আগামী ছবিতে শঙ্কু ফেলু দুইই থাকতে চলেছে। ফেলুদা কিংবা শঙ্কু ছাড়াও সত্যজিৎ সহ শরদিন্দু, পরশুরাম, এর গল্প নিয়ে তাঁর তৈরি চার কিংবা যেখানে ভুতের ভয় বাংলা চলচ্চিত্রে গত ৩০বছরে অন্যতম সেরা কাজ হিসাবে গন্য। এছাড়াও শরদিন্দু বন্ধ্যপাধ্যায় এর গল্প নিয়ে মনচোরা, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় এর গল্প অবলম্বনে নিশিজাপন, প্রফুল্ল রায়ের গল্প নিয়ে টার্গেট, নিজের লেখা গল্প নিয়ে উত্তরণ,হিটলিস্ট তাঁর পরিচালনার মুন্সিয়ানা ও ভিন্ন ঘরানা প্রতিষ্ঠা করে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here