লন্ডনে গ্রন্থাকারে প্রকাশ করলেন শেখ হাসিনা, শেখ মুজিবুর নিয়ে পাক গোয়েন্দাদের গোপন নথি

0
296
লন্ডনে হোটেল ক্ল্যারিজে রাছন্থটি প্রকাশ করলেন শেখ মুজিবুর রহমান কন্যা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

৩৬৫ দিন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ, তাঁর ছবি নিষিদ্ধ, গ্রন্থ নিষিদ্ধ, বক্তব্য উচ্চারিত হয় ভরা সংশয়ে। কিন্তু এবার পাক গোয়েন্দা সংস্থার তাঁকে নিয়ে গোপন নথি গ্রন্থ হয়ে প্রকাশিত হওয়ার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে তার অবদান নিয়ে আর কেউ উপেক্ষা করতে পারবে না। লন্ডনে হোটেল ক্ল্যারিজে, সিক্রেট ডকুমেন্টস অফ ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চ অন ফাদার অফ দ নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুজিব এন্ড ইন্ট্রোডাকশন বই দুটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে একথা বলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আওয়ামী লীগ নেতা মুজিবের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে টানা জড়িয়ে থাকা এবং স্বাধীনতা আন্দোলনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে পাকিস্তানের ইন্টেলিজেন্স ব্রাঞ্চের ৪৮টি ফাইল পাওয়া গিয়েছে। ৪৫ থেকে ৫০ হাজার পাতার নথি ইতিহাসের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল। শেখ হাসিনা জানান, ছোট বোন রেহানার সঙ্গে আলোচনা করে তিনি ওই নথিপত্র জোগাড় করেন।

এরপর সেইসব নথি সম্পাদনা এবং গ্রন্থাকারে প্রকাশের উপযুক্ত করে তোলেন বাংলাদেশের অন্যতম সেরা প্রকাশনা সংস্থা হাক্কানী পাবলিশার্সের কর্ণধার গোলাম মোস্তফা এবং তার রিসার্চ টিম। ব্রিটিশ প্রকাশনা সংস্থা টেলার এন্ড ফ্রান্সিস বইটি প্রকাশনা করেছে এবং বিশ্ববাজারে পরিবেশনার দায়িত্ব নিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাক গোয়েন্দা সংস্থার এক একটি ফাইল যেন এক একটি থ্রিলার গল্প। গল্পগুলি পড়লে সেই সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে যেমন অবগত হওয়া যাবে তেমন রোমাঞ্চিত লাগবে। যেন সাসপেন্স থ্রিলার। বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম এই গল্পে আকৃষ্ট হয় জাতির জনকের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হবে বলেই তাদের বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রী বলেন মুজিব যখন জেলে তখন তার মা বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা কাজ করতেন। কিন্তু তিনি ছিলেন গেরিলা যোদ্ধার মতো। তাঁর হদিশ কখনও পায়নি পাক গোয়েন্দারা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রকাশনা সংস্থা টেলার এন্ড ফ্রান্সিসের তরফে বলা হয়, এই বই দুটি বাংলাদেশের ইতিহাসের জন্য শুধু নয়, বিশ্ব ইতিহাসেও এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তাই তারা এই কাজ করতে আগ্রহী হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ কন্যা রেহানা এবং শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ। ওইদিন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু ও ব্রিটেন শীর্ষক একটি চিত্র প্রদর্শনীতেও যান।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here