গোয়ায় তৃনমূল জিতলে ভূমিপুত্রই মুখ্যমন্ত্রী হবে – ঘোষণা মমতার

0
গোয়ার ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে সাংগঠনিক পরিকল্পনা মমতা। সঙ্গে অভিষেক, মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও ব্রায়েন, লুইজিনহো, লিয়েন্ডার।

Last Updated on December 13, 2021 9:51 PM by Khabar365Din

৩৬৫দিন। ইন্দ্রনীল সাহা। গোয়া। গোয়াতে তৃণমূল এবং আমাদের জোট তৈরি। আমি কারোর ভোট কাটতে আসিনি। আমরা ভোট ইউনাইটেড করতে এসেছি। আমাদের জোটে যারা আসতে চান আসবেন। আমরা আমাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছি। কারা যোগ দেবেন সেটা তাদের ব্যাপার। গোয়ায় একদিকে যেমন পুরোদস্তুর ভাজপার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ের ঘোষণা করলেন মমতা তেমনই তৃণমূল বিরোধী ভোট কাটছে বলে কংগ্রেস যে অপপ্রচার করছে তাকেও একহাত নিলেন মুখ‍্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, আমি গোয়ায় মুখ‍্যমন্ত্রী হতে আসেনি। তৃণমূল জিতলে গোয়ার ভূমিপুত্র ই মুখ‍্যমন্ত্রী হবেন। গোয়া সফরের সোমবার তৃণমূলের সাংগঠনিক বৈঠকে মমতা গোয়ার উন্নয়নের রূপরেখা তৈরি করে দিয়ে এমনটাই জানান মমতা। এদিনের সাংগঠনিক বৈঠকে গোয়া কংগ্রেস ছেড়ে অনেকেই তৃণমূল যোগদান করেন। এদিনের মঞ্চে হাজির ছিলেন অভিষেক। তিনি বলেন, দুমাস আগে গোয়া এসেছিলাম আর আজকে তৃণমূলে চারদিকে ভরে গেছে। আমাদের সঙ্গে কংগ্রেসের একটা পার্থক্য আছে। কংগ্রেস শুধুমাত্র টুইটার ফেসবুকে রাজনীতি করে তারা মাঠে ময়দানে নেমে রাজনীতি করি। বিজেপির সঙ্গে আমাদের ফারাক্কা বিজেপি যেটা বলে সেটা করে না। আমরা ভোটের আগে যে প্রতিশ্রুতি দিই সেটা ৬ মাসের মধ্যে পূর্ণ করি। এখানে লড়াইটা বিজেপি ভার্সেস গোয়া। কথা দিচ্ছি শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে গোয়ার মানুষের জন্য লড়াই করব। এছাড়াও হাজির ছিলেন গোয়ার ইনচার্জ মহুয়া মৈত্র, রাজ্যসভার সংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি লুইজনহো ফেলেইরো সহ তৃণমূলের গোয়া নেতৃত্ব।

- Advertisement -

গোয়ায় সম্পাদক, বুদ্ধিজীবী দের সঙ্গে বৈঠক পরিকল্পনা স্পষ্ট হচ্ছে করেন, উন্নয়নের প্রস্তাব চাইলেন

কথা কম কাজ বেশি তে বিশ্বাস করি গোয়ায় ক্ষমতায় এলে সবার উন্নতি করব। জোড়া ফুলই আনবে গোয়ায় নতুন সকাল-গোয়ার বিশিষ্টজন বুদ্ধিজীবীদের সঙ্গে বৈঠকে নিজের পরিকল্পনা স্পষ্ট করেন মমতা। বস্তুত গোয়া যে পরিবর্তন চাইছে তা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট বিকল্প হিসেবে মোদি বিরোধী লড়াইয়ে মমতাকেই মুখ হিসেবে চাইছেন গোয়ার সাধারণ মানুষ থেকে বুদ্ধিজীবি মহল।গোয়া সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে গোয়ার বুদ্ধিজীবী মহলের বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সম্পাদকদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে রয়েছেন তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইলেকশন স্ট্র্যাটেজিস্ট প্রশান্ত কিশোর। এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গোয়া স্টাডি করছি। আমরা যদি জিতি তাহলে আমরা দেখবো কি করে গোয়ার উন্নতি করা যায়। আমি বিশ্বাস করি কথা কম বলে কাজ বেশি করায়।আমাদের রাজ্যে কৃষক ছাত্র সবাই সাহায্য পায়। কোন মানুষ মারা গেল আমরা ভাতা দি।আমাদের কন্যাশ্রী বিশ্ববন্দিত হয়েছে। ১৪-১৫ বছরের মেয়েদের আগে তাদের বাড়ি থেকে বিয়ে দিয়ে দিত। কিন্তু এখন বাংলায় এমন হয়না। আমরা বাংলার মেয়েরা পড়তে চায়, যখন উচু ক্লাসে উঠছে তখন একাউন্টে ২৫ হাজার টাকা দিচ্ছি। এমনকি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন ভর্তি হচ্ছে তখনও আমরা সরকারের তরফে সাহায্য করছি। তখনো স্কলারশিপ পাছে। লক্ষীর ভান্ডারে ১৫ হাজার কোটি টাকাখরচ করছি। আমি আর আমার পার্টি দেখেছি, এখানে লক্ষীর ভান্ডারের জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা থেকে ২ হাজার টাকার মতো খরচ হবে। যেহেতু এটা ছোট রাজ্য। আপনাদের যদি কোন মতামত থাকে আমায় বলবেন।আমি শুনব।কিভাবে গোয়া উন্নতি হবে।আমাদের কি করে আরো কাজ করা উচিত। বৈঠকে ডেকান ক্রনিক্যাল সংবাদপত্রের প্রশ্নের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের রাজ্য অনেক বড় আমরা লক্ষীর ভান্ডার করেছি যেমন তেমন দুয়ারে রেশন প্রকল্প চালু করেছি।স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড, কৃষকদের সহযোগিতা করছে। কিন্তু গোয়া হলো ছোট রাজ্য। গোয়া একটি আন্তর্জাতিক পর্যটক স্থান। সব সময় আর্থিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে না। ১.৬ কোটি মহিলা পাছে লক্ষী ভান্ডার পাছে। কিছু ভাজপার লোক বলেছে কেন গৃহলক্ষী কার্ড করা হল। কিন্তু ভাজপা যখন বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্প করেছে।সেখানে বেটি বাঁচাও হচ্ছে না শুধু বিজ্ঞাপন হচ্ছে। ৯০ শতাংশ খরচ করা হয় শুধু বিজ্ঞাপনের জন্য। কন্যাশ্রী প্রকল্পে আমরা সাত হাজার কোটি টাকার উপরে ব্যয় করি। আর বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও প্রকল্প মাত্র 1হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি খরচ হয়, যা গোটা বিশ্বে বন্দিত।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here