মমতার “কবিতাবিতান” নিয়ে শুভেন্দুর নির্লজ্জ মিথ্যা অভিযোগ, ১ কপি বইও সরকারি লাইব্রেরিতে বিক্রি হয়নি

0

Last Updated on May 17, 2022 6:23 PM by Khabar365Din

- Advertisement -

৩৬৫ দিন।

সরকারি পাঠাগারে মমতার বই কেনা নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে গতকাল সকাল বেলা ফেইসবুক এ ভাজপা কোম্পানির হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটির ছাত্র শুভেন্দু অধিকারী যে অঙ্কের ক্লাস নিয়েছিলেন, সেই অংকের আগাগোড়া ভুল তো ছিলই, সঙ্গে রয়েছে ভুরিভুরি মিথ্যা কথা।তথ্য এবং পরিসংখ্যান না একটু যাচাই করে দেখতে গেলে দেখা যাচ্ছে,


১। শুভেন্দু অধিকারীর দাবি ছিল প্রতিবছর নাকি মুখ্যমন্ত্রীর বই রাজ্য সরকারের গ্রন্থাগার দপ্তর থেকে রীতিমতো সরকারি নির্দেশিকা জারি করে বাধ্যতামূলকভাবে সরকারি পাঠাগার পিছু ১০ টি করে কিনতে হতো। অথচ পরিসংখ্যান বলছে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বাংলায় মমতা সিপিএম জমানার এমন নির্দেশিকা বাতিল করে সংশ্লিষ্ট গ্রন্থাগারিকদের উপরেই বই কেনা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার পাঠকদের পছন্দের ভিত্তিতে গ্রন্থাগারে বই রাখার নির্দেশিকা জারি করেছিলেন।


২। গত ২০১১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত তাই সরকারি গ্রন্থাগারের গ্রন্থাগারিকদের কাছে এমন কোন নির্দেশিকা পাঠানো হয়নি যেখানে মুখ্যমন্ত্রীর বই কেনা বাধ্যতামূলক বলা হয়েছে। দ্বিতীয়তঃ এবারের বইমেলায় মমতার যে কবিতাবিতান গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়েছে রাজ্য গ্রন্থাগার দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছে রাজ্যের কোন গ্রন্থাগারে এই বইটি এখনো পর্যন্ত কেনা হয়নি। তাই শুধুমাত্র বাজার গরম করার জন্য এবং যেভাবেই হোক মমতাকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে প্রচার করার তাগিদে যে শুভেন্দু এই মিথ্যে কথা ফেসবুকে প্রচার করেছেন তা নিয়ে সন্দেহের তিলমাত্র নেই।


৩। দীর্ঘ ৩৪ বছরের সিপিএম শাসনে রাজ্যের প্রত্যেকটি গ্রন্থাগার এর কাছে সরকারি নির্দেশিকা পাঠিয়ে এবং প্রতিমাসে সিপিএমের জেলার সম্পাদকদের উপস্থিতিতে রীতিমতো জেলা সম্মেলন করে গ্রন্থাগারিকদের নির্দেশিকা দেওয়া হতো কোন কোন বই কিনতে হবে। যার মধ্যে বাধ্যতামূলক বইয়ের তালিকায় ছিল ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রকাশিত বাংলার সমস্ত সিপিএম নেতাদের লেখা বই। মুজফফর আহমদ ও তাঁর সহযোগী রেবতী বর্মন, সুরেন কর প্রমুখ এর প্রতিষ্ঠাতা। প্রসঙ্গত জ্যোতি বসু থেকে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের যাবতীয় বই প্রকাশিত হয়েছে সিপিএমের মালিকানাধীন ন্যাশনাল বুক এজেন্সি থেকেই। কাকাবাবু, সরোজ মুখোপাধ্যায়দের লেখা রাশিয়ার কমিউনিস্ট আন্দোলন থেকে শুরু করে ভারতে কমিউনিস্টদের উত্থানের বিষয়ে সম্পর্কিত বই বাংলার প্রত্যেকটি পাঠাগারে রাখতেই হত।এমনকি সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের আগে পর্যন্ত বাংলার লেনিন ও স্টালিন পন্থী বামপন্থী সরকারের কড়া নির্দেশ ফলে প্রত্যেকটি সরকারি গ্রন্থাগার সোভিয়েত ইউনিয়নের উন্নয়নের ঢাক বাজানো সোভিয়েত পত্রিকা বঙ্গানুবাদ সহ এবং আট-দশটি প্রকাশনী কিনতে হতো প্রতিমাসে।


৪। সিপিএম জমানায় প্রত্যেকটি সরকারি গ্রন্থাগার বাধ্যতামূলক ভাবে রাখতে হতো বাংলায় কমিউনিস্ট আন্দোলনের রূপরেখা এবং জমি আন্দোলন নিয়ে ভারতের বিভিন্ন প্রদেশের সিপিএম তথা বামপন্থীদের লড়াইয়ের ইতিহাস। প্রত্যেকটি সরকারি গ্রন্থাগারে বাধ্যতামূলক ছিল ভিয়েতনাম থেকে শুরু করে চীনে কমিউনিস্টদের উত্থানের নানা কাহিনী। অথচ মমতা বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে যাবতীয় বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে রাজ্যের সরকারি গ্রন্থাগার গুলিকে সংশ্লিষ্ট এলাকার স্কুলের পাঠ্য বই এবং তার রেফারেন্স বইয়ের যোগান বাড়াতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে বারেবারে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here