নন্দীগ্রাম মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নোটিশের পরেই সরাতে সুপ্রিম কোর্টে আতঙ্কিত শুভেন্দু

0
647

৩৬৫ দিন। নন্দীগ্রাম মামলা অন্য হাইকোর্টে সরানো হোক। এমনই আর্জি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে ছুটে গেলেন ভাজপা নেতা শুভেন্দু অধিকারী। জানা গিয়েছে, বিচারপতি কৌশিক চন্দ যে মামলা থেকে সরে গিয়েছেন, সেই বিষয়টি সুপ্রিমকোর্টে শুভেন্দুর আবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। মূলত ভাজপা ঘনিষ্ঠ বিচারপতি কৌশিক চন্দের হাত থেকে মামলা সরে যাওয়ার পরে নন্দীগ্রামে ভাজপা এবং ভাজপা প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে যে সমস্ত কারচুপি এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগ মমতা এনেছেন, অন্য বিচারপতির এজলাস এ শুনানি হলে তা ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তেই শুভেন্দু সুপ্রিম কোর্টে দৌড়ালেন বলে মনে করছেন অনেকেই।

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রামে ভোট গ্রহণের আগে থেকেই বিপুল পরিমাণে টাকা ছড়িয়ে দুষ্কৃতীদের সাহায্যে ভোটারদের ভয় দেখিয়ে ভোটগ্রহণ এবং পরে গণনার সময় ব্যাপক কারচুপি করেছেন শুভেন্দু অধিকারী, এমন অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে ইলেকশন পিটিশন জমা দিয়েছিলেন মমতা। তাঁর অভিযোগের প্রাথমিক সারবত্তা বৈধ বলে স্বীকার করে নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার আজ মামলার শুনানি শুরু করলেন। নন্দীগ্রাম ভোটের ফলাফল পুনর্বিবেচনা সংক্রান্ত মামলা পদ্ধতি মেনেই হয়েছে বলে জানিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিচারপতি শম্পা সরকার জানিয়েছেন, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচন সংক্রান্ত সমস্ত নথি সংরক্ষণ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। পাশাপাশি এই মামলার অপর পক্ষ শুভেন্দু অধিকারীকে নোটিস দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মামলাকারী মমতাকে। সমস্ত পক্ষের বক্তব্য শোনার পর নন্দীগ্রামে ভোটে ব্যবহৃত ইভিএম, ব্যালট পেপার সংরক্ষণের নির্দেশ দেয় আদালত। মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিরাপদে রাখতে হবে ওই বিধানসভা কেন্দ্রের ভিডিওগ্রাফিও।

আগামী ১২ অগাস্ট সব পক্ষের উপস্থিতিতে শুনানি হবে এই মামলাটির বলে জানিয়েছেন বিচারপতির শম্পা সরকার । ইতিমধ্যে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিধানসভা নির্বাচনের সমস্ত নথিপত্র নির্বাচন কমিশনকে সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি শম্পা সরকার। নোটিশ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন নন্দীগ্রামের গণনা কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা রিটার্নিং অফিসারকেও। প্রসঙ্গত বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরেই সংবাদমাধ্যমের সামনে একটি হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ দেখিয়ে মমতা অভিযোগ করেছিলেন নন্দীগ্রামের ভোট গণনার সময় সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসারের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে শুভেন্দু অধিকারীর স্বপক্ষে তাঁকে জয়ী বলে ঘোষনা করার জন্য হুমকি দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকেই সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসারের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে রাজ্য সরকার।

কিন্তু কলকাতা হাইকোর্টের পক্ষ থেকে মমতার দায়ের করা এলেকশন পিটিশন বৈধ বলে ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন এবং শুভেন্দু অধিকারী কে নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোর পরেই তড়ঘড়ি সুপ্রিমকোর্টে ছুটে যান শুভেন্দু। সুপ্রিমকোর্টে শুভেন্দুর আবেদন কলকাতা হাইকোর্টে যেন নন্দীগ্রাম মামলার শুনানি না হয়। মূলত এর আগে যেভাবে বিচারব্যবস্থার নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে প্রাক্তন ভাজপা নেতা তথা শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যের ভাজপা নেতাদের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৌশিক এজলাসে যতক্ষণ নন্দীগ্রাম মামলা ছিল ততক্ষণ মামলা সরানোর বিষয়ে কোনো আবেদন জানাননি শুভেন্দু। কিন্তু মমতার আইনজীবীদের তীব্র আপত্তিতে বিচারপতি কৌশিক চন্দ এই মামলা ছেড়ে দিতে বাধ্য হওয়ার পরে নিজের জয় নিয়ে আস্থাশীল না হওয়ার জন্য শুভেন্দু অধিকারি তড়িঘড়ি সুপ্রিম কোর্টে মামলা সরানোর জন্য আবেদন করলেন বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতাদের।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here