কেন ভাঙল ১৩০ বাঁধ?
দায়িত্ব ২ মূর্তিমান শুভেন্দু,রাজীব এর দুর্নীতি, অকর্মন্যতায় বিপর্যস্ত সুন্দরবন

0

Last Updated on May 26, 2021 11:30 PM by Khabar365Din

- Advertisement -

সৌগত মণ্ডল


৩৬৫ দিন। গোসাবা। তুমুল গর্জন করেও বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড় হয়ে বাংলায় আছড়ে পড়তে পারেনি ইয়াস। তা সত্ত্বেও সুন্দরবন এবং পূর্ব মেদিনীপুর সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় গৃহহীন হয়েছেন ১৫লক্ষ ৪ হাজার ৫০৬ জন মানুষ। প্রায় এক কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। কমপক্ষে ৩ লক্ষ বাড়ির ক্ষতি হয়েছে। ১৩৪টি বাঁধ ভেঙেছে। শুধুমাত্র পূর্ব মেদিনীপুরে ভেঙেছে ৫১ নদী বাঁধ। নোনা জলের কারণে কৃষির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাছেরও ক্ষতি হয়েছে। অথচ গত ২০০৯ সালের মে মাসে ভয়ানক আয়লা ঘূর্ণিঝড় এর দাপটে সুন্দরবন এবং পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলের কাছাকাছি থাকা প্রকৃতি এলাকার নদী বাঁধ ভেঙে তছনছ হয়ে যাওয়ার পর থেকে মমতার সরকার গত ১০ বছরে কয়েক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই তাই প্রশ্ন উঠছে ২০১১ সাল থেকে সুন্দরবন এবং পূর্ব মেদিনীপুরের নদী বাঁধের সংস্কারের জন্য যে বিপুল টাকা বরাদ্দ হয়েছে তা কোথায় খরচ হল এবং যদি সঠিকভাবে খরচ না হয়ে থাকে সেই দুর্নীতির দায়ে তৎকালীন ২ সেচ মন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হবে না কেন? অথচ রাজ্যের দুই প্রাক্তন সেচমন্ত্রী যারা কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না বলে ক্ষমতার শেষ বিন্দু মধুও চেটেপুটে খেয়ে ভাজপা শিবিরে যোগ দিয়েছেন। প্রসঙ্গত, ২০১১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত রাজ্যের সেচমন্ত্রী পদে ছিলেন বর্তমানে ভাজপা নেতা রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় আর তারপরেই এই দফতরের দায়িত্ব নেন অধুনা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। যে দুজন নাকি মেঘেদের সততার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরার জন্য গত কয়েক মাস রাজ্যের প্রতিটি কোনায় কোনায় চষে বেড়িয়েছেন। তাঁদের অপকীর্তি এবং অপদার্থতায় রাজ্যের মানুষ যখন জলমগ্ন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে কোথাও দেখা মেলেনি সারাদিন তাঁদের।
সুন্দরবনের প্রকৃতি দ্বীপে এখন শুধুই প্রশ্ন উঠছে বাঁধের টাকা কোথায় গেল? গোসাবায় বিদ্যাধরী নদীর বাঁধ ভেঙে রাঙাবেলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক গ্রাম জলমগ্ন হয়ে পড়ে। কয়েকশো গ্রামবাসী আটকে পড়েছে। গোসাবার গোমর নদীতে জলস্তর বাড়ায় বেশ কিছু জায়গায় নদী বাঁধে ধ্বস নেমেছে। জলমগ্ন গোসাবা, বালি, বিজয়নগর, পাখিরালয়ের একাংশ। দয়াপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন নদী বাঁধে মাটিবোঝাই বস্তা ফেলে কোনমতে নদীর জল ঢোকা আটকাতে সক্ষম হন গ্রামবাসীরা।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here