BGBS: মিলন মেলা প্রাঙ্গনে এ যেন ময়দানবের কীর্তি, বাংলার দরবারে বিশ্ব, কুৎসা থামিয়ে দেখে যান

0

Last Updated on April 20, 2022 1:25 AM by Khabar365Din

- Advertisement -

পূষন গুপ্ত

১.
বেশ কয়েকবছর আগে নিউটাউনে বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টার দেখে আমি একই কথা লিখেছিলাম, এ হল ময়দানবের কীর্তি। পাঠকদের মনে করিয়ে দিতে চাই, মহাভারতের স্থাপত্যবিদ ময় নির্মাণ করেছিলেন ইন্দ্রপ্রস্থ, যা শুধু ব্যাপ্তিতে নয়, যার মূল মহাকাব্যিক ডায়মেনশন ছিল মায়া। এশিয়ার সেরা যেসব অডিটোরিয়াম আছে, অবশ্যই এটি তার অন্যতম। আসন সংখ্যা বা ব্যাপ্তির হিসেবে বলছি না, অবশ্যই চিন বা সিঙ্গাপুর সেসবে অনেকদূর এগিয়ে গেছে, বলছি স্থাপত্যের আভিজাত্য ও ফিনেসের দিক থেকে। বাংলার অন্যতম গর্ব এই কনভেনশন সেন্টার। সিপিএম সরকার ৩৫ বছরে সুভাষ চক্রবর্তীর উদ্যোগে একটি কাজই করেছে, সল্টলেক স্টেডিয়াম। আর মমতার ১০ বছরের রাজত্বে অন্তত ১০টি নির্মাণ কীর্তির মধ্যে সেরা ৪টি হল, মা ফ্লাইওভার, ইকো পার্ক, বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টার এবং চতুর্থটি যা আজ দেখলাম, মিলন মেলা প্রাঙ্গণকে বিশ্ববাংলা প্রাঙ্গণে পরিণত করা। নীরবে, নিঃশব্দে এক মহান শিল্পসমৃদ্ধ আর্কিটেকচারাল ডিজাইন। একেই মমতার (Mamata Banerjee) ম্যাজিক বলে।

২.
বিজিবিএসের (Bengal Global Business Summit) কনভেনশন শুরুর আগের নৈশভোজ, যা এতকাল হত ইকো পার্কে, কয়েকবছর আগে গ্লাস হাউসে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, এবার তো হিংসেতে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী মমতার আমন্ত্রণ গ্রহণ করেও এসে উঠতে পারলেন না, গুজরাতে বসে রইলেন। যাক, হিংসের কোনও ওষুধ নেই। হিংসের প্রত্যুত্তরে একটাই জবাব, করে দেখানো। করে দেখালেন বটে মমতা। একটা ন্যাড়া পোড়ো মাঠ যেখানে অন্য কোথাও জায়গা না পেলে মেলা বসত, সেই মেলার মাঠকে ফ্রাঙ্কফুর্ট বা সিঙ্গাপুরের ফেয়ার গ্রাউন্ডের উচ্চতায় পৌঁছে দিলেন। বাইরেটা যেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল,আর ভেতরে ওই ফিনেসের এক লক্ষ স্কোয়ার ফুটের ব্যাঙ্কোয়েট হল যার মধ্যে একটাও পিলার নেই। শুভাপ্রসন্ন বলছিলেন আমায়, লক্ষ্য করেছ, গোটা ডিজাইনে কোথাও কংক্রিটের জঙ্গল নেই। মেলা মানে যে মুখ্যত তাঁবু, সেই ইমেজারিটা সর্বত্র জুড়ে।

৩.
জাপানি আর ব্রিটিশ প্রতিনিধিরা হলঘরে ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন সেইসব আশ্চর্য বাঙালি শিল্পীদের পেইন্টিং যা ডিজিটালি ডিসপ্লেইড। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ওয়াশের কাজ থেকে রবি ঠাকুরের কিমিতিবাদ তথা অ্যাবসার্ডিটি, যামিনী রায়ের পটকলা থেকে হেমেন মজুমদারের সিক্তবসনা। প্রতিনিধিদের মধ্যে কেউ কেউ কৌতূহলী দেখে আমি সাধ্যমতো ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করি এটা গুজরাতের বেওসা ফেয়ার নয়, বাংলার বাণিজ্য মেলা, যার প্রতিটি পরতে জড়িয়ে আছে শিল্প ও সংস্কৃতি, যার মুখ্যমন্ত্রী নিজে একজন চিত্রশিল্পী। আমি অভিভূত।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here