মোদির ডবল ইঞ্জিনের পরিণতি, অসম-মিজোরামে প্রায় গৃহযুদ্ধ, ঠেকাতে ব্যর্থ অমিত শাহ

0
460

৩৬৫ দিন। স্বাধীনোত্তর ভারতের ইতিহাসে কার্যত নজিরবিহীনভাবে সীমান্তের জমি দখল নিয়ে লড়াই চালাচ্ছে দেশের দুই রাজ্য সরকার। এক রাজ্যের পুলিশের বিরুদ্ধে অন্য রাজ্যের পুলিশ অভিযোগ করছেন গুলি করে খুন করার। আবার এক রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিবেশী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে দায়ের করেছেন খুনের চেষ্টা এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের মামলা। আশ্চর্যজনকভাবে দুই রাজ্যের সরকার কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন এনডিএ জোটের ডবল ইঞ্জিন সরকার। অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ভাজপা নেতা, অন্যদিকে প্রতিবেশী মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী ভাজপা জোটের শরিক মিজোরাম ন্যাশনাল ফ্রন্টের নেতা। প্রতিবেশী দুই রাজ্যের মধ্যে এই তিক্ত লড়াই থামাতে আসরে নেমেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা প্রাক্তন সর্বভারতীয় ভাজপা সভাপতি অমিত শাহ। দুই রাজ্যে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিবাদের মাঝেই অসম ও মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁদের সমস্যার সমাধান করতে বলেছিলেন। কিন্তু তা একেবারেই কার্যকর হয়নি।

- Advertisement -

ডবল ইঞ্জিনের মুখোমুখি ধাক্কা

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার এসে নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ সহ ভাজপা নেতারা ক্রমাগত মমতাকে আক্রমণ করতে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিতেন বাংলায় ভাজপা সরকার গঠন করলে উন্নয়নের জোয়ার বয়ে যাবে। ডবল ইঞ্জিন সরকার বাংলায় সুনার বাংলা তৈরি করবে। কিন্তু উত্তর-পূর্ব ভারতের এই দুই রাজ্যে ডবল ইঞ্জিন সরকার ক্ষমতায় থাকা সত্বেও কিভাবে তারা মুখোমুখি লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ল তার কোনো সদুত্তর অমিত শাহ অথবা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দিতে পারেন নি।

সমস্যার সূত্রপাত

এমনিতে অসম-মিজোরামের সীমান্ত বিবাদ নতুন কোনও বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরে তা চলে আসছে। মাঝেমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। তারইমধ্যে সোমবার কাছার জেলার লায়লাপুরের কাছে সীমান্ত রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্র হয়ে ওঠে। ছোড়া হতে থাকে পাথর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ার গ্যাসের শেল ছোড়া হয়। এয়ারগান থেকে ছোড়া হয় গুলি।

অসমের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর

অসম-মিজোরাম সংঘর্ষের জেরে এখনও দুই রাজ্যের সীমান্তে থমথমে পরিস্থিতি। এরই মাঝে মামলা গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। আর এসবের মাঝেই এবার অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করল মিজোরামের পুলিশ। পাশাপাশি মামলায় নাম রয়েছে অসম পুলিশের চার শীর্ষ কর্তা, দুই আমলা এবং ২০০ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে। তাঁদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ দায়ের হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারা, অস্ত্র আইন এবং মিজোরাম কনটেনমেন্ট অ্যান্ড প্রিভেনশন অব কোভিড-১৯ অ্যাক্ট ২০২০-তে মামলা রুজু করা হয়েছে।

ডবল ইঞ্জিনের চাপানউতোর

অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার অভিযোগ, আমরা কখনও ভারতীয়দের বিরুদ্ধে গুলি ব্যবহার করব না। ওটা আমাদের ডিএনএতে নেই। গত কয়েক মাসে মিজোরাম থেকে অনুপ্রবেশ এবং গবাদি পশু পাচার রুখে দিয়েছে অসম। মায়ানমার থেকে যাঁরা মিজোরামে ঢোকেন, তাঁরা অসমে ডিমা হাসাও জেলায় থাকতে চান। তাঁদেরও অসমে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন হিমন্ত।
অসমের দাবি উড়িয়ে দিয়েছে মিজোরাম। পালটা মিজোরামের তরফে দাবি করা হয়েছে, অসম পুলিশই মিজোরামের ভূখণ্ডে প্রবেশ করে গুলি চালিয়েছে। তার পালটা জবাব দিয়েছে মিজোরাম পুলিশ। মিজোরামের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লালছামলিয়ানা বলেন, অসম পুলিশ মিজোরামে ঢুকে আমাদের লোকজনকে হেনস্থা করতে থাকে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here