কেন্দ্রীয় চক্রান্ত ব্যর্থ
হাইকোর্টে ৪ নেতা-মন্ত্রীর জামিন মঞ্জুর

0

Last Updated on May 28, 2021 9:30 PM by Khabar365Din

- Advertisement -

খবর ৩৬৫ দিন টিম


৩৬৫ দিন। নারদা মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেলেন চার নেতা ও মন্ত্রী। আজ কলকাতা হাইকোর্টে শুনানির পরে এই নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্টের পাঁচ বিচারপতির বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ। দু লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত বণ্ডে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়ের অন্তর্বর্তীকালীন শর্তাধীন জামিন মঞ্জুর হয়েছে। এমনকি এরপরে সিবিআই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য নিজেদের দপ্তরে ডেকে পাঠাতে পারবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট। ভার্চুয়াল মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।
গত কয়েক দিনে সিবিআই এর তরফে বারে বারে শুনানি দীর্ঘায়িত করার পাশাপাশি আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। তাই আজ পাঁচ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের মধ্যে বাকি বিচারপতিদের চাপে শুনানির শুরুতেই কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত বিচারপতি রাজেশ বিন্দাল বলেন, আমরা সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতাকে একটি বিষয় জানাতে চাই। গতকাল আমরা বলেছিলাম যে আমরা প্রথমে পুনর্বিবেচনার আর্জি শুনব। সেইসঙ্গে শর্তসাপেক্ষে চার নেতার অন্তর্বর্তীকালীন মঞ্জুর নিয়ে সলিসিটর জেনারেল তথা সিবিআইয়ের আইনজীবীর মতামত জানতে চান। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা কয়েকটি শর্তের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের প্রস্তাব রাখছি। চূড়ান্ত রায়ে তা ঠিক হবে। আমরা আলোচনা করেছি। রাজ্যে দু’সপ্তাহের জন্য লকডাউন বাড়ানো হয়েছে। আপনি কী বলছেন?
কিন্তু প্রত্যাশিতভাবেই অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের বিরোধিতা করে সিবিআইয়ের আইনজীবী তথা দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানান, চারজনই প্রভাবশালী এবং আবারও জনগণের মধ্যে ভাবাবেগ তৈরি করতে পারেন।
সিবিআই এর তরফ এ 5 বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের সিদ্ধান্তের বিরোধীতা পরেই কার্যত বিরক্ত হয়ে সিবিআইকে তিরস্কার করে কলকাতা হাইকোর্টের প্রথম বিচারপতি ইন্দ্র প্রশ্ন মুখোপাধ্যায় ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে বলেন, সিবিআই এখন কেন অভিযুক্তদের শর্তাধীন জামিনের বিরোধিতা করছে তা হাইকোর্টের বোধগম্য হচ্ছে না। ২০১৪ সালের স্টিং অপারেশনের পর থেকে কেটে গিয়েছে দীর্ঘ ৭ বছর। এমনকি গত ২০১৭ সালে সিবিআই তদন্তের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেও কেটে গিয়েছে ৪ বছর। এত দিনের মধ্যে অভিযুক্তদের একবারও গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা না দেখা দিলেও হঠাৎ করে চার্জশিট পেশ করে তদন্ত শেষ হয়ে যাওয়ার পরে অভিযুক্তদের হেফাজতে রাখার উদ্দেশ্য কি? সিবিআই যে অভিযোগ করেছে প্রভাবশালী তত্ত্ব নিয়ে, সংশ্লিষ্ট অভিযুক্তরা চার বছর আগেও যতখানি প্রভাবশালী ছিলেন এখনো ততখানি রয়েছেন। তাহলে আগে যদি তারা তথ্য-প্রমাণ বিকৃত না করে থাকেন তাহলে এখন তদন্ত শেষ হয়ে যাওয়ার পরে তা করবেন কেন? এই মহামারীর সময় ওদের মতো জনপ্রতিনিধিদের অনেক কাজ করার রয়েছে।
স্বাভাবিকভাবেই হাইকোর্টের এই পর্যবেক্ষণের কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি সিবিআই অথবা দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here