সুপ্রিম কোর্টে সিবিআইয়ের আপিল খারিজ, পিটিশন প্রত্যাহার করে হাইকোর্টেই ফিরতে হল

0

Last Updated on May 25, 2021 9:29 PM by Khabar365Din

- Advertisement -

খবর ৩৬৫ দিন টিম


৩৬৫ দিন। নয়াদিল্লি। নারদা কান্ডের শুনানিতে সুপ্রিমকোর্টে বড় ধাক্কা খেলো সিবিআই। কলকাতা হাইকোর্টে পাঁচ বিচারপতির বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানি চলার মধ্যেই সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়ে বিচার ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে বলেও তিরস্কার করেন সুপ্রিম কোর্টের ২ বিচারপতির বিশেষ ভ্যাকেশন বেঞ্চ। এরপরে কলকাতা হাইকোর্টের ৫ বিচারপতির বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি সম্পন্ন করার জন্য সিবিআইকে পুনরায় কলকাতা হাইকোর্টে ফেরত পাঠিয়ে দিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিনীত সারণ এবং ভূষণ গভাইয়ের ভ্যাকেশন বেঞ্চ। সাংবিধানিকভাবে গঠিত কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চে শুনানি অসম্পূর্ণ থাকার সত্বেও তাকে অবজ্ঞা করে সিবিআই এর পক্ষ থেকে সুপ্রিমকোর্টে মধ্যরাতে আবেদন করা সিবিআই এর পক্ষে আইনজীবী তথা দেশের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতাকে কার্যত তিরস্কার করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি। পাশাপাশি তারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন গত ১৭ মে কলকাতার বিশেষ সিবিআই আদালতের বিচারক চার নেতা ও মন্ত্রীর জামিন মঞ্জুর করার পরেও যেভাবে মধ্যরাতে শুধুমাত্র সিবিআইয়ের আবেদনে সাড়া দিয়ে অভিযুক্ত পক্ষকে নোটিশ না দিয়েই একতরফাভাবে কলকাতা হাইকোর্ট তাদের জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে জেল হেফাজতে পাঠিয়ে দেয় তা ব্যক্তি স্বাধীনতার পরিপন্থী। এক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের উল্লেখযোগ্য পর্যবেক্ষণ, যেখানে দেশের সাধারণ মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষার জন্য জামিন মঞ্জুর করতে আমরা বিচারপতিরা গভীর রাত পর্যন্ত বসে থাকি সেখানে অভিযুক্ত পক্ষকে নোটিশ না দিয়ে গভীর রাতে তাদের জামিন বাতিল করা কিছুটা আশ্চর্যের।

সিবিআইয়ের টার্গেটে মমতা

প্রথমে কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরে সুপ্রিম কোর্টেও সিবিআই এর পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে দেশের সলিসিটর জেনারেল বারে বারে অভিযুক্তদের জামিন মঞ্জুর অথবা বাতিল নিয়ে বেশি উদগ্রীব না হলেও আগাগোড়া তার টার্গেটে রয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবং বাংলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে বলে প্রমাণ করার দেশের বিচার ব্যবস্থার সামনে। আজ দুপুরে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি শুরু হওয়ার পরেও বারে বারে তুষার মেহতা ঘটনার দিন নিজাম প্যালেসে মমতার প্রতিবাদের বিষয়টি তুলে আনার চেষ্টা করলে বিচারপতিরা কার্যত ধমক দিয়ে তাঁকে বলেন, আপনি বারবার বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর কথা টেনে আনছেন কেন এই মামলায়? এই মামলার সঙ্গে এই প্রসঙ্গের কোন যোগাযোগ নেই। কোন রাজনীতিবিদ যদি প্রতিবাদ করে থাকেন তার ফল অন্য অভিযুক্ত ভোগ করবে কেন? স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্নের কোন সদুত্তর দিতে পারেনি সিবিআই।

চার্জশিটের পরে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সওয়াল নজিরবিহীন

নারোদা কাণ্ডে চার নেতা ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়ার পরেও যেভাবে সিবিআই তাদের হেফাজতের ধরে রাখার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে সেই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বিনীত সারণ বলেন, দীর্ঘদিন আইনজীবী এবং পরে বিচারপতি হওয়ার পরেও বুঝতে পারছিনা চার্জশিটে যাদের নাম রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে এত সওয়াল করার কি আছে? যাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়া যায়নি এবং তদন্ত বাকি রয়েছে তাদের নিয়ে সওয়াল হতে পারে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here