Republic Day Tableau:
দিল্লির সাধারণতন্ত্র দিবসে বাংলার ট্যাবলো আবার বাতিল

0

Last Updated on January 15, 2022 11:46 PM by Khabar365Din

৩৬৫ দিন। গৌতম লাহিড়ী। নয়াদিল্লি। সুকুমার রায় জীবিত থাকলে ভিরমি খেতেন। ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাস তৈরির নামে মোদী সরকার নতুন ‘হযবরল’ লিখছেন। হযবরল ইতিহাস না মানার কারণেই প্রজাতন্ত্র দিবসের বাংলার ট্যাবলো আবার বাতিল করে দেওয়া হলো। মোদি-অমিত শাহর হ্যাট্রিক। এবার প্রজাতন্ত্র দিবসের থিম করা হয়েছিল। ‘স্বাধীনতার ৭৫ বছর-অমৃত মহোৎসব’। সেই থিমকে মর্যাদা দিয়েই পশ্চিমবঙ্গ সরকার ট্যাবলো তৈরি করছিলেন। তাতে রয়েছে বাংলা থেকে যেসব স্বাধীনতা সংগ্রামী শহিদ হন তাঁদের প্রতিকৃতি নিয়েই তৈরি হয়েছিল ট্যাবলো। এবছর নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বোসের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী বলে তাঁকে নিয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে ট্যাবলোতে রাখা হয়। সবই ঠিক ছিল হঠাৎ শেষ মুহুর্তে প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের কাছে নির্দেশ এলো বাংলার ট্যাবলো রাখা যাবে না। কেন? সরকারিভাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে কিছুই জানানো হয়নি, কেন বাতিল। যেটা বোঝা গেল-স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মধ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি না থাকার কারণেই সম্ভবত বাতিল। আশ্চর্যের বিষয়। মোদি সরকার স্বাধীনতার নতুন হযবরল লিখতে গিয়ে শ্যামাপ্রসাদকেও ব্রিটিশ বিরোধী বলে তকমা দিতে চাইছেন। অথচ ১৯৪২ সালের ২৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ তদানীন্তন বাংলার গভর্নর স্যার জন হারটিকে চিঠি লিখে ‘ইংরেজ ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন।

- Advertisement -

হিন্দু মহাসভা ও আরএসএস তখন মহাত্মা গান্ধির ভারত ছাড়ো আন্দোলনের বিরোধিতা করছিল। তিনি এও লিখেছিলেন, ভারত ছাড়ো আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যদি অশান্তি তৈরি হয় তাহলে ইংরেজ সরকারের কঠোর হাতে দমন করা উচিত। এহেন শ্যামাপ্রসাদকে ট্যাবলোয় অন্তর্ভুক্ত করলে হিন্দু মহাসভার প্রতি ন্যায় বিচার হতো কি? মোদি-অমিত শাহরা এখন ইতিহাস বদলে দিতে চান? দিতে তো চানই। কিছুদিন আগে স্বামী বিবেকানন্দর প্রতি ‘অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা জানানোর নামে তো সরকারি বিবৃতিতেই বলেছিলেন, স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহকে উৎসাহ দিয়েছিলেন। কি কান্ড? স্বামী বিবেকানন্দ জন্ম গ্রহণ করেছিলেন ১৮৬৩ সালে। শ্যামাপ্রসাদ নিজে হতে চাননি, এখন মোদী সরকার তাঁকেও ইংরেজ বিরোধী করে তুলতে চাইছেন। বেচারি পশ্চিমবঙ্গ সরকার মোদিদের স্বাধীনতার ইতিহাসটা পড়েও দেখেনি। তাই প্রজাতন্ত্র দিবসের পরীক্ষায় ফেল। প্রথম দিন থেকে ঘটনাটা এমন ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিরক্ষা মন্ত্রক প্রতিবছর রাজ্য সরকারগুলির থেকে ট্যাবলোর মডেল চেয়ে পাঠান। সেই নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হয়। শেষ বৈঠক জানুয়ারির গোড়ায় হয়েছিল। তখন কিন্তু বাংলার টাবলো নিয়ে কোনো আপত্তি ওঠেনি। এমনকি নীতিগত ভাবে সম্মতি দেওয়া হয়েছিল। সেই মতো রাজ্য সরকার অর্থ ব্যয় করে ট্যাবলো তৈরি করছিল। ট্যাবলোব সম্মতি পাওয়ার পরেই সংগীতের চয়ন হয়। সেই মতো রাজ্যসরকার আদাজ হিন্দ ফৌজের ‘কদম কদম বাড়ায়ে যা’ এবং ‘ও আমার দেশের মাটি’ সুপারিশ করে। ব্যাস তারপর থেকেই নীরব কেন্দ্রীয় সরকার। কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবার থেকে প্রজাতন্ত্র দিবসের উৎসব পালন শুরু হবে নেতাজীর জন্মদিন ২৩ জানুয়ারি থেকে। দিনটিকে পরাক্রম দিবস বলে ঘোষণা করা হয়েছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে কিছুই জানানো হলো না। অন্য কয়েকটি বিজেপি রাজ্য শাসিত সরকারকে বলা হয়েছে ঐদিন ট্যাবলো নিয়ে হাজির হতে। প্রজাতন্ত্র দিবস এবং নেতাজী সুভাষচন্দ্রের জন্মদিনের সম্পর্ক কী ? এটাও নতুন ইতিহাস। প্রজাতন্ত্র ভারতের সংবিধান গ্রহণের দিনটিকেই প্রজাতন্ত্র দিবস হিসাবে এতোদিন পালিত হয়ে আসছিল। রাজনীতির প্যাঁচ জুড়তেই কি নেতাজীর জন্মদিন আর প্রজাতন্ত্র দিবসকে গুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে? পশ্চিমবঙ্গ সরকার ট্যাবলোতে নেতাজীকে গুরুত্ব দিয়েই রেখেছিল। রাজনৈতিক স্বার্থে মোদি-শাহর নয়া হযবরল ইতিহাসে বলি হল বাংলা?

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here