এক্সাইজ ডিউটির চাপে কমল পেট্রোল, ডিজেলের দাম

0

Last Updated on May 22, 2022 12:07 AM by Khabar365Din

৩৬৫ দিন। দেশ জুড়ে প্রবল চাপের মুখে অবশেষে পেট্রোল-ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম কমালো কেন্দ্র। শনিবার কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন টুইটে জানান, পেট্রোল এবং ডিজেলের ওপর থেকে সেন্ট্রাল এক্সাইস ডিউটি যথাক্রমে ৮ টাকা এবং ৬ টাকা লিটার প্রতি কমানো হচ্ছে। ফলে পেট্রোলের দাম কমবে লিটার প্রতি ৯টাকা৫ পয়সা এবং ডিজেলের দাম কমবে ৭ টাকা। অন্যদিকে রান্নার গ্যাসের দাম কমবে সিলিন্ডার প্রতি ২০০ টাকা। গত কয়েক মাস ধরে ধাপে ধাপে পেট্রোল-ডিজেলের দাম সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে। কলকাতায় রান্নার গ্যাসের দাম হাজার ছাড়িয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ক্রমশ কেন্দ্রে মোদি সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছিল তৃণমূল, শিবসেনা, ডিএমকে,আরজেডি, সপা-র মত বিরোধী রাজনৈতিক দল। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা একাধিকবার কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি যাতে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ডিএমকে নেতা তথা তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী স্টালিন, মহারাষ্ট্রের মুখ ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরেও একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে পেট্রোল ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের দাম কমানোর দাবি জানিয়েছেন।

- Advertisement -

মনে করা হচ্ছে মমতার নেতৃত্বে সমস্ত বিরোধী রাজনৈতিক দল যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে পেট্রোপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুকে সামনে রেখে অলআউট অ্যাটাকে গিয়েছিল তার পরিপ্রেক্ষিতে দাম কমাতে বাধ্য হল মোদি সরকার। যদিও এদিন পেট্রোল ডিজেল এবং রান্নার গ্যাসের দাম কমালেও রাজনীতি করতে ছাড়েননি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা। টুইটের এক জায়গায় তিনি লিখেছেন যে সমস্ত রাজ্য সরকার এখনও পেট্রোপণ্যের উপর থেকে কর ছাড় দেননি তারা যেন দ্রুত কর ছাড় দেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করছেন অর্থনীতিবিদদের একাংশ তারা বলছেন যদি হিসেব দেখা যায় তাহলে পেট্রোল ডিজেল ও রান্নার গ্যাস থেকে কেন্দ্রীয় সরকার যে পরিমাণ কর আদায় করে রাজ্য সরকার তার চেয়ে অনেক কম কর আদায় করে তাই যখন পরিস্থিতি সংকট ময় তখ ন কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত ছিল আগেই কর ছাড় দেওয়া। তার এই কার ছাড় দেওয়ার মধ্যে কোন মহানুভবতা নেই। কিন্তু এই নিরিখে রাজ্য সরকার গুলোকেও কর ছাড় দিতে হবে এমন বলা যায়না কারণ রাজ্য সরকারগুলোর আয় এমনিতেই কম।

কম আয়ের থেকে তারা যদি কর ছাড় দেয় তাহলে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প আটকে যেতে পারে, কারণ রাজ্য সরকার গুলোর থেকে কেন্দ্র তার নিজের ভাগ সঠিক সময়ে বুঝে নেবে বিশেষ করে অ বিজেপি রাজ্য গুলো থেকে কেন্দ্রীয় সরকার বিশাল পরিমাণ কর আদায় করে এবং তাদের প্রাপ্য অর্থ দেয় না। অনেকে বলছেন আন্তর্জাতিক বাজারে যখন তেলের দাম কম ছিল তখন কেন্দ্রীয় সরকার যে হারে কর আদায় করেছে পেট্রোপণ্যের উপর থেকে তাতে এই ছাড় যৎসামান্য। মোদি সরকারের উচিত ছিল যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম প্রতিদিন বাড়ছে তখন পেট্রোপণ্যের দাম আরো কমানো। রাজনীতিবিদদের একাংশ অবশ্য অন্য সমীকরণ দেখছেন। তারা বলছেন চলতি বছরে হিমাচল প্রদেশ ভোট রয়েছে আগামী বছর গুজরাট মধ্যপ্রদেশ রাজস্থান ত্রিপুরার মত রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে যেখানে বিজেপিখর অবস্থা যথেষ্ট নড়বড়ে এখন পেট্রোলের মূল্যবৃদ্ধি ইস্যুতে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিরোধীরা সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলন চালিয়ে যায় তাহলে ভোটে তার প্রভাব পড়তে বাধ্য তাই সময় থাকতে থাকতে কিছুটা চাপের মুখে পেট্রোপণ্যের দাম কমাতে বাধ্য হল মোদি সরকার।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here