মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, ৬০% নম্বর পেলেই মিলবে বিবেকানন্দ স্কলারশিপ,পড়ুয়াদের জন্য কেরিয়ার গাইডেন্স পোর্টাল

0
380

৩৬৫ দিন। করোনা আবহে ছাত্র-ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য সারা পৃথিবীর তাবড় বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজের পাঠক্রম সম্বলিত ‘কেরিয়ার গাইডেন্স পোর্টাল’ চালু করছে রাজ্য সরকার। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, স্কুল থেকে তথ্য নিয়ে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা এই পোর্টাল ব্যবহার করে আগামী দিনে শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ দিকনির্দেশ পেতে পারে। বৃহস্পতিবার নবান্নে মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিকের কৃতি ছাত্র-ছাত্রীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান থেকে একথা ঘোষণা করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ‌সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ১৭০০ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, কিন্তু আইসিএসসি, সিবিএসই’র তরফে কোন তালিকা দেওয়া হয়নি বলেই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তারা অনুপস্থিত ছিল। উচ্চশিক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধার্থে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, ৬০ শতাংশ নম্বর পেলেই বিবেকানন্দ স্কলারশিপ পাবে পড়ুয়ারা। আগে এই স্কলারশিপ পেতে হলে ন্যূনতম ৭৫ শতাংশ নম্বর পেতে হত। সংখ্যালঘুদের ক্ষেত্রে ঐক্যশ্রী স্কলারশিপ ও তপশিলি জাতি ও উপজাতি ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শিক্ষাশ্রী স্কলারশিপ রয়েছে রাজ্য শিক্ষা দফতরের। উত্তরবঙ্গ থেকে শুরু করে প্রতিটি জেলার জেলাশাসকের দফতরে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সকলকে আগামী দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “অন্যায় অত্যাচার সবকিছুর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও। প্রতিবাদী হও। বাংলার সভ্যতাকে ধরে রেখে মানুষের মতো মানুষ হতে হবে। উন্নততর চরিত্র গঠন করতে হবে। হাসিখুশি থাকতে হবে। দুঃখকে জয় করতে হবে। সুখ যেমন আছে, দুঃখ তেমনই আছে। হতাশ হবে না, সব সময় পজিটিভ থাকতে হবে। স্ট্রেস নেবে না। সবার সঙ্গে মিশবে এনজয় করবে। ” বীরভূমের ছাত্র ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বিশ্বভারতী গর্বের জায়গা ছিল একসময়। এখন নানা রকম অসুবিধা হচ্ছে। বাঙালির সভ্যতার শিকড়ে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

- Advertisement -

” মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক এবার সকলেই পাস করেছেন। তাই প্রত্যেকের কাছেই শিক্ষা দফতরের তরফে শুভেচ্ছা চিঠি পৌঁছে দেওয়া হবে। ‌ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যেখানেই যাও নিজের মাটিকে মনে রাখতে হবে। যেখানেই যাও বাংলায় ফিরে এসো।” মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, ডাক্তারি নিয়ে পড়াশোনা কর।” বাঁকুড়ার ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ” অনেক কুৎসা চলে। একসময় মাওবাদীরা ছিল এখানে। ঘরের ছেলেমেয়েরা বেরোতে পারত না।‌ বিশ্ববাংলাকে জয় করতে হবে।” ভাল থাকার তিনটি সহজ উপায় বলে দেন মুখ্যমন্ত্রী, তা হল, ” বি পজেটিভ, ফিল পজেটিভ, সি পজিটিভ। ‌ নেগেটিভ ধারণা আসবে। কিন্তু রাগ করলে চলবে না। আমরা রাগ করি না ঠান্ডা থাকি, আমরা যা শিখেছি তাই দিয়েই এতদিন চালাচ্ছি। আজ পৃথিবীর যেকোন প্রান্তে গিয়ে কমিউনিকেট করতে পারি।” ‌
এদিন প্রত্যেক ছাত্র-ছাত্রীর হাতে ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হয় সরকারের তরফে। এছাড়াও গীতাঞ্জলি, গীতবিতান, তরুণের স্বপ্ন সহ একাধিক মনীষীর লেখা বই উপহার হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়া হয়। ‌ মুখ্যমন্ত্রীর লেখা বই কবিতাবিতান ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়া হয়। কবিতাবিতান বইটিতে বিভিন্ন অজানা পাখির নাম, অজানা গাছের নাম, অজানা জঙ্গলের নাম সহ একাধিক না জানা তথ্য যা জানলে পরে ছাত্র-ছাত্রীরা উপকৃত হবেন উপহার হিসেবে তাই তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর লেখা রোশনি, সভেরা, খুশবু, সহ একাধিক বই উপহার দেওয়া হয় ছাত্র-ছাত্রীদের। আলোকবর্তিকা-ছাত্রজীবনে উঠে আসে নানান সমস্যা এবং তার গঠনমূলক সমাধান, মমতার লেখা এই বইটিও উপহার হিসেবে ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়া হয়। বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য, বাংলা ভাষায় তার প্রভাব কতটা সেই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলার এক এক জেলায় একেক রকমের ভাষা আছে। আবার শিলচরের ভাষা বাংলা হলেও তা সম্পূর্ণ আলাদা। এটি আসলে বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য যা বাংলা ভাষার মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পায়। বঙ্কিমচন্দ্র পড়তে গেলে অনেক সময় দাঁত ভেঙে যায়। কতনা বৈচিত্র্য আছে!”

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here