মুখ্যমন্ত্রীর প্রশ্ন, গঙ্গাসাগরকে জাতীয় মেলা ঘোষণা করা হবে না কেন? কপিলমুনি আশ্রমের মহান্তের মন্তব্য, মমতাকে প্রধানমন্ত্রী দেখতে চাই

0

Last Updated on December 29, 2021 12:06 AM by Khabar365Din

৩৬৫দিন। বিশ্বজিৎ পাল। গঙ্গাসাগর। কেন্দ্রের কাছে কুম্ভ মেলা সুয়োরানী, আর গঙ্গাসাগর মেলা দুয়োরানী ! মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একাধিকবার চিঠি দেওয়ার পরেও বাংলার সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে কেন্দ্রের ভাজপা সরকার, কুম্ভ মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দিলেও এখনও পর্যন্ত গঙ্গাসাগর মেলাকে সেই স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। মঙ্গলবার গঙ্গাসাগরে পৌঁছে কপিল মুনির আশ্রমে পুজো দিয়ে কেন্দ্রের প্রতি এ বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে আশ্রমের প্রধান পুরোহিত জ্ঞানদাস মহন্তজি জানিয়ে দিয়েছেন, দেশে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মমতাকেই তিনি দেখতে চান। এই দিন বিকেল চারটের সময় গঙ্গাসাগরে এসে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। তারপর বেশ খানিকক্ষণ ধরে কপিল মুনির আশ্রমে পুজা দেন তিনি। এরপর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেন্দ্রের কাছে কুম্ভ মেলা সুয়োরানী আর গঙ্গাসাগর মেলা দুয়োরানী! কুম্ভ মেলার মত, কেন গঙ্গাসাগর মেলা জাতীয় মেলা হবে না? কুম্ভ মেলাকে অর্থ দেয় কেন্দ্রীয় সরকার, গঙ্গাসাগরকে দেয় না।আমি ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীকে অনেকবার চিঠি দিয়েছি।

- Advertisement -

কোনও জবাব আসেনি, অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কুম্ভ যদি এক হয়, গঙ্গাসাগর দুই, গঙ্গাসাগর কোন অংশে কম নয়। কুম্ভ মেলায় জলপথ, রাস্তা সবটাই সংযুক্ত। কিন্তু গঙ্গাসাগর মেলায় শুধুমাত্র নদী পেরিয়ে আসতে হয়। বাংলার দুর্গোৎসব ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পেয়েছে, গঙ্গাসাগর মেলাও বিরাট উৎসব। অনেক বিদেশী অতিথিরা আসেন।আমরা তাজপুর বন্দরের ৭৪ শতাংশ শেয়ার দিতে চেয়েছিলাম কেন্দ্রকে। ওরা বলেছিল তাহলে নদীর উপর (হাতানিয়া- দোয়ানিয়া) ব্রিজ করে দেবে, ওরা করেনি। আমাদের কাজ আমরা নিজেরাই করে নিতে পারব। মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, আমফান, যশের পর এখানে প্রচুর লোকসান হয়। আমরা সঙ্গে সঙ্গে এই এলাকার উন্নয়ন করে দিই। এখন কোভিড পরিস্থিতি বাড়ছে, মাস্ক পড়ুন, আগামীকাল প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে আমাদের। মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে দাঁড় করিয়ে কপিল মুনির আশ্রমের প্রধান পুরোহিত জ্ঞানদাস মহন্তজি মমতার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মমতাকে দেখতে চাই। শুধু নাম কামানোর জন্য চেষ্টা করে চললেই হবে না। তাতে কোন লাভ হবে না। ভারতের যে বড় নেতা এসেছে, সে চলে যাবে। মমতায় সততা আছে। গঙ্গাসাগরকে রাষ্ট্রীয় মেলা হিসেবে ঘোষণা করা হোক। মমতাজি বাংলাকে নতুন রূপ দিয়েছেন। আজও ওই চপ্পল পড়েন। অনেকেই হেলিকপ্টার কিনেছেন, উনি একই রকম রয়ে গেছেন। গরিবের জন্য লাগাতার কাজ করে চলেছেন। ‌মমতাজি ভারতের অন্যতম বড় নেত্রী। ‌ অনেকেই ভেবেছিল মুখ্যমন্ত্রী উনি হবেন না, কিন্তু দেখুন আজ কী হল। এই উন্নয়নের মন্দির মমতাজির দান। সাগরে কী উন্নয়ন হয়েছে দেখুন! আপনারা সকলেই মেলায় মাস্ক পড়ে আসুন‌। বাংলাকে নতুন রূপ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। কপিল মুনির আশ্রমে পূজা দেওয়ার পর মমতা এদিন ভারত সেবাশ্রমে যান।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here