করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট বাদুর নিওকোভ, মারন ক্ষমতা প্রতি ৩ জনে ১ জন

0

Last Updated on January 30, 2022 12:29 AM by Khabar365Din

৩৬৫ দিন। সৌগত সরকার। এ যেন সমুদ্রের অনন্ত তরঙ্গ। প্রকৃতি থেকে উদ্ভূত ভাইরাসের একের পর এক ঢেউ আছড়ে পড়ছে মানবসভ্যতার ওপর। কোভিড ১৯ (COVID-19)এর পরে নতুন  ভ্যারিয়েন্ট  ডেল্টা (Delta), ওমিক্রন (Omicron), সার্স কোভিড (SARS-CoV-2 virus) সব শেষে এবার নিওকভ (NeoCoV virus)। সবচেয়ে ভয়ংকর,প্রাণঘাতী এই ভ্যারিয়েন্টের জন্ম আফ্রিকার উগান্ডায়।যার বাহক ও জন্মদাতা বন্য বাদুড় (Wild bats) । দ্রুত বাদুড়ের মধ্যে মিউটেশন হচ্ছে এই নতুন ভ্যারিয়েন্টের। এত দ্রুত, যে আর মাত্র একটি মিউটেশন হলেই তা মানবদেহকে আক্রমণ করে তৈরি হয়ে যাবে। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের (Corona Virus) অমিক্রন ধরনের প্রাদুর্ভাব চলার মধ্যে এই কোভিড ভাইরাসের  নতুন ধরন শনাক্ত করেছে চীনা গবেষকেরা। এর নাম দেওয়া হয়েছে নিওকোভ। চীনা গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আপাতত এ ভাইরাস দক্ষিণ আফ্রিকায় (South Africa) বাদুড়ের শরীরে ছড়ালেও ভবিষ্যতে তা মানুষের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হু (World Health Organization) গতকাল জানিয়েছে এই বিরল কোভিড ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন আছে। অর্থাৎ হু স্বীকার করে নিল এই ভাইরাসের অস্তিত্ব। উগান্ডায় (Uganda) ভাইরাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে বাদুড়ের মধ্যে, এবং দ্রুত মিউটেশন হচ্ছে । বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন, ভাইরাসটির মধ্যে যে অভিমুখে মিউটেশন হচ্ছে, তাতে আর একটি মাত্র মিউটেশন হলেই এটি মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। প্রতি তিনজন সংক্রমিত মানুষের মধ্যে একজনকে মেরে ফেলার ক্ষমতা আছে এই ভাইরাসের। এতটাই প্রাণঘাতী। শুধু তাই নয়, বিশ্বজুড়ে গত দু বছর ধরে যে প্রতিষেধক আমাদের প্রাণ রক্ষা করে আসছে, তা এই মিউটান্ট ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে লড়তে পারবে না। আমাদের মানবদেহের কোনও ইমিউনিটি এই ভ্যারিয়েন্টের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে না। 

- Advertisement -


এই করোনাভাইরাসটি একেবারে নতুন নয়। ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে পূর্ব এশিয়ার কিছু কিছু দেশে এই মার্স ভাইরাসের রূপে এই ভাইরাসের প্রথম ভ্যারিয়েন্ট সংক্রমণ দ্রুত হারে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে গতকাল শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, নিওকোভ নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। হুর বুলেটিনে বলা হয়, চীনের উহানের গবেষকেরা করোনাভাইরাসের নতুন ওই ধরন শনাক্ত করেছেন। যেসব ভাইরাস মানবদেহকে আক্রান্ত করে, তার ৭৫ শতাংশেরই উৎস বন্য প্রাণী। বাদুড়সহ বিভিন্ন প্রাণীর শরীরে প্রায়ই বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস শনাক্ত হয়। এসব ভাইরাসের বেশির ভাগেরই প্রাকৃতিক ভান্ডার হিসেবে বাদুড়কে অভিহিত করা হয়। ডব্লিউএইচও বলেছে, প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে তারা নিবিড়ভাবে কাজ করছে। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার আগেই গবেষণার তথ্য দেওয়ায় চীনা গবেষকদের প্রতিও ধন্যবাদ জানিয়েছে সংস্থাটি। গবেষক দলটির গবেষণা অনুযায়ী, নিওকোভ ধরনটি এখন পর্যন্ত মানুষকে আক্রান্ত করেনি। তবে এর আরও রূপান্তর ঘটলে তা মানবদেহের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাঁরা মনে করছেন, মানুষের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে ধরনটির আর একটিমাত্র রূপান্তর প্রয়োজন। কোভিডের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঢেউ সামলে এই নতুন মারাত্নক ভ্যারিয়েন্টকে সামলানোর চ্যালেঞ্জ এখন মানব সভ্যতার সামনে। 

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here