শিল্পীদের সতত তীব্র অবজ্ঞা সিপিএমের, জ্যোতি বুদ্ধর অপমানে মর্মাহত বাপ্পি-শত্রুঘ্ন

0

Last Updated on February 17, 2022 11:17 PM by Khabar365Din

- Advertisement -

পূষন গুপ্ত


১.
বাউন্ডুলে প্রবাদ প্রতিম শক্তি চট্টোপাধ্যায় চেয়েছিলেন, কবিকে দেখলে পুলিশ যেন টুপিটা খুলে দাঁড়ায়। আর বাউন্ডুলে সেরা প্রতিভাবান অ্যালেন গিনসবার্গ লিখেছিলেন, বিশ্বের সব কবির মরদেহের পাশে যেন এসে দাঁড়ান রাষ্ট্রপ্রধানরা, যেন কামান থেকে তোপ দাগা হয়। এসব একসময় ছিল, কলকাতা থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার জিনিয়াস শিল্পীদের কল্পনাবিলাস। মমতার (Mamata Banerjee) বাংলা শিল্পীদের ওই কল্পনাকে বাস্তবে পরিণত করেছে। মমতার বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী শিল্পীদের মরদেহ নিয়ে পায়ে হেঁটে যান সমাধিক্ষেত্র পর্যন্ত। তাঁর কাছে শিল্পীর কোনও জাত নেই, কোনও রাজনীতি নেই। সুচিত্রা, সৌমিত্র, সন্ধ্যা-শিল্পীর প্রতিভার কাছে তিনি সতত শ্রদ্ধাবনত। হ্যাঁ মমতার বাংলায় শিল্পীর মরদেহের পাশে হাঁটেন রাষ্ট্রপ্রধান, পুলিশ খুলে ফেলে তার টুপি, তোপধ্বনি হয়। সব অসম্ভবকে,শিল্পীর সব স্বপ্নকে, মমতা যেন এক জাদুদন্ডে সম্ভব করেছেন। গতকাল সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের (Sandhya Mukhopadhyay) মরদেহ নিয়ে হাত জোড় করে মমতার পদযাত্রা দেখে ভাবছিলাম আজ বাঙালি এই দৃশ্যে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে, যেন এটাই প্রত্যাশিত। অথচ মাত্র এক দশক আগে ঘটনাটা এমন ছিল না।

২.
পরপর দুটি ঘটনা উল্লেখ করছি। প্রথম ঘটনা, ১৯৮৮-৮৯। তৃতীয় বামফ্রন্ট সরকারের তথ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য (Buddhadeb Bhattacharya)। মন্ত্রিসভার সেকেন্ড কম্যান্ড। শত্রুঘ্ন সিনহা (Shatrughan Sinha) মুম্বই থেকে এসে লিখিতভাবে ফিল্ম সিটি তৈরি করার প্রস্তাব দেন। সময় মতো রাইটার্সে গিয়ে শত্রুঘ্ন বুদ্ধদেবের সঙ্গে দেখা করেন। ড্রইংসহ, কনসর্টিয়ামে উত্তরবঙ্গের জন্য পরিকল্পনা জমা দেন। পরে শত্রুঘ্ন আমায় বলেন, ‘বুদ্ধবাবু ফাইলটা বাঁ হাতে সরিয়ে রেখে বলেন, সরকার আপনাকে জমি দেবে কেন? আপনি মুম্বই থেকে কটা শুটিং এখানে সরিয়ে আনতে পারবেন? কর্মীদের কতদিনের কাজ সিকিওর করছেন? দেখুন, আমাদের পলিটিকাল ইন্টারেস্ট না দেখলে আপনার বিজনেস ইন্টারেস্ট দেখব কেন?’ অপমানিত শত্রুঘ্ন অন রেকর্ড বলেছিলেন, আমি পশ্চিমবঙ্গের জন্য পুঁজি বিনিয়োগ করে একটা ব্যবসায়িক প্রস্তাব এনেছিলাম। কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নয়।

৩.
দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে বাপ্পি লাহিড়ীর (Bappi Lahiri) সঙ্গে। ১৯৯৭ সাল সস্ত্রীক বাপ্পি বিধানসভায় গিয়ে জ্যোতিবাবুকে (Jyoti Basu) প্রণাম করেন। তারপর বলেন, বাংলায় একটা মিউজিক আকাদেমি কাম স্টুডিও করতে চাই। কলকাতার কাছে পিঠে হলে ভাল। বেশকিছু কর্মসংস্থান তৈরি হবে। জ্যোতিবাবু ওঁকে বলেন, ‘সে তো ভাল কথা। বাহ্! করুন।’ বাপ্পি ওই প্রকল্পের জন্য জমি চান। জ্যোতিবাবুর মুখ গম্ভীব হয়ে যায়। বলেন, ‘জমি? জমি টমি আমাদের নেই। ঠিক আছে। এখন আমায় হাউজে যেতে হবে।’ অপমানিত বাপ্পি বেরিয়ে আসেন।

৪.
শত্রুঘ্ন ও বাপ্পির মাথায় যে ধরণের জমি ছিল তা পরবর্তীকালে জ্যোতিবাবু ও বুদ্ধবাবুর কৃপায় প্রায় বিনা পয়সায় দুই অবাঙালি বেওসায়ী পেয়েছিলেন।
লাল সেলাম কমরেড।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here