ভাজপা আমলে বিধ্বস্ত পর্যটন সংস্কৃতি, মমতা’র হাত ধরেই পরিবর্তন চায় গোয়া

0
184

৩৬৫ দিন। সৌগত মণ্ডল। পানাজি। ভারতের লাস ভেগাস বলা হয় গোয়াকে। সোনালী বালুর তট থেকে শুরু করে মান্ডবী নদীর তীরে সারি সারি দাঁড়িয়ে রয়েছে একের পর এক আন্তর্জাতিক মানের ক্যাসিনো। কিন্তু পর্তুগিজ স্থাপত্যে মোড়া পশ্চিম ভারতের এই রাজ্যে রাশিয়া, ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ লক্ষ পর্যটক যে কারণে গোয়ায় ছুটে আসতেন, সেই পর্যটন শিল্প এখন গেরুয়া শাসনে হিন্দুত্ববাদীদের একের পর এক ফতোয়ায় মৃতপ্রায়। অক্টোবর থেকে প্রতিবছর গোয়াতে শুরু হয় পর্যটনের সিজন। কিন্তু গত কয়েক মাস ধরে যেভাবে কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা গোয়ার সমুদ্র সৈকতে বিকিনি পরে বিদেশিনীদের রোদ পোহানো থেকে শুরু করে ক্যাসিনোতে যাওয়া নিয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে চলেছে, তার ফলে চলতি মরশুমে গোয়ার অধিকাংশ হোটেল এবং রিসর্টে ফাঁকা পড়ে রয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ জায়গা। বরাবর পশ্চিমী ভাবধারায় বেড়ে ওঠা গোয়ার অধিকাংশ বাসিন্দার মূল রুটিরুজি পর্যটন শিল্প এবং পর্যটকদের ঘিরেই। ভাজপা গোয়াতে সরকার গঠন করার পর থেকে মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সাওয়ান্ত যেভাবে একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দিয়েছেন তাতে জীবিকা হারিয়েছেন অনেকেই। এই পরিস্থিতিতে মমতা যেভাবে বাংলায় একের পর এক পর্যটনের নতুন দিগন্ত তৈরি করেছেন, সেই নীতিতে গোয়াকে আরো পর্যটক বান্ধব করে তোলার লক্ষ্যে গোয়ার মানুষ স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন গোয়েঞ্চি নভি সাকাল। তৃণমূল গোয়াতে সরকারের পরিবর্তন ঘটিয়ে আনবে নতুন সকাল।

- Advertisement -

মমতার অপেক্ষায় গোয়ার সাংস্কৃতিক জগৎ

রাত পোহালে গোয়াতে পা রাখবেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তার আগে একদিকে যেমন পানাজিতে গোয়া তৃণমূলের নতুন সদরদপ্তর তৈরি হয়েছে ঠিক তেমনভাবে গোয়ার সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব ইতিমধ্যেই তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন। যাদের মধ্যে প্রকাশ্যেই মমতার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ভাজপা শাসনে অতিষ্ঠ হয়ে মমতার হাত ধরে গোয়াতে পরিবর্তন আনার ডাক দিয়েছেন কংগ্রেস নেত্রী নাফিসা আলি। নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন লাকি আলি। তবে গোয়ার ভাজপা সরকারের সব থেকে বড় ধাক্কা লাগতে চলেছে মমতার হাত ধরে হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিতে চলেছেন গোয়ার ভাজপা সরকারের অন্যতম জোট শরিক গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টি।

গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টির গুরুত্ব

গোয়ায় গত বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলেও গোয়ার ছোট ছোট রাজনৈতিক দলগুলি এবং কংগ্রেস বিধায়কদের নিয়ে সরকার গঠন করেছিল ভাজপা। ২০১৬ সালে গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টির জন্ম। ২০১৭-র বিধানসভা নির্বাচনে চারটি আসনে প্রার্থী দিয়ে তিনটি জয়লাভ করেছিল এই দল৷ কংগ্রেসের পাশাপাশি ভাজপারও জোটসঙ্গী হয়েছে গোয়ার এই রাজনৈতিক দলটি৷ গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টির সমর্থনেই গোয়ায় সরকার গঠন করেছিল ভাজপা৷ কিন্তু, মাঝে ভাজপার বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ তুলে জোট থেকে বেরিয়ে আসে এই দলটি। সমর্থন প্রত্যাহার করে সরকারের থেকে।এবারে, গোয়া বিধানসভা ভোটের আগেই বিরোধী জোট গঠনে আগ্রহী গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টির প্রধান বিজয় সারদেশাই। তৃণমূলে যোগ দেওয়ার কথা সরাসরি না বললেও আজ তিনি জানিয়েছেন, রাজনীতিতে মহিলাদের বেশি অংশগ্রহণ রাজ্য তথা দেশকে এগিয়ে দিতে পারে। কলকাতায় এমনটাই দেখা যাচ্ছে। কিন্তু, এ জন্য আমাদের স্ট্রিট ফাইটার প্রয়োজন। প্রসঙ্গত গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফেলেইরো তৃণমূলে যোগ দেওয়ার আগে বলেছিলেন গোয়ার রাজনীতিতে পরিবর্তন আনার জন্য মমতার মতো স্ট্রিট ফাইটার প্রয়োজন।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here