ময়নাগুড়ির কাছে গৌহাটি বিকানের এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, মৃত ৬, সংকটজনক ১৫, কামরায় আটক শতাধিক

0
95

৩৬৫ দিন। ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটল ময়নাগুড়িতে। বৃহস্পতিবার বিকেলে লাইনচ্যুত হয়ে গিয়েছে গুয়াহাটিগামী আপ বিকানের-গৌহাটি এক্সপ্রেস,তার জেরে বহু যাত্রীর প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার দোমোহনি-ময়নাগুড়ি এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটে,এক্সপ্রেসটির বেশ কয়েকটি কামরা লাইনচ্যুত হয়ে যায় বিকেল ৫ টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। ইতিমধ্যেই ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ও আরও যাত্রীর মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে।আহত প্রায় ৫০ এছাড়াও শতাধিক যাত্রীর কামরার মধ্যে আটকে থাকার আশংকা। এদের মধ্যে ১৫ জন গুরুতর হওয়াতে তাদের জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে রাজস্থানের বিকানীর থেকে গুয়াহাটিগামী ওই ট্রেনটি বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টা নাগাদ দুর্ঘটনায় পড়ে।দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আলিপুরদুয়ার থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় একটি উদ্ধারকারী দল,ট্রেনটির ৪-৫টি বগি দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে ও ১২ বগি লাইনচ্যুত হয়।এর জেরে হতাহতের বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।স্থানীয় রাজ্য প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ঝাঁপিয়ে পড়ে উদ্ধার কাজে হাত লাগিয়েছেন। রেল সুরক্ষার ১টি উচ্চস্তরীয় তদন্তকারী দল কাল পৌঁছে যাচ্ছে।রেল বোর্ডের চেয়ারম্যান ও রেলের ডিজি সেফটিও যাচ্ছেন ঘটনাস্থলে।

উদ্বেগ প্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

ময়নাগুড়িতে বিকানের এক্সপ্রেস এর দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজে তদারকি করছেন রাজ্য সরকারি আধিকারিকরা। দুর্ঘটনায় তদারকি করছে রেলের আধিকারিকেরা। এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনার খানিকক্ষণ পরেই টুইটে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ময়নাগুড়িতে বিকানের গুয়াহাটি এক্সপ্রেসের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা শুনে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।‌ রাজ্য সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তা, উত্তরবঙ্গের ডিএম, এসপি, আইজি, উদ্ধার ও ত্রাণ কাজে তদারকি করছেন। আহতদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। প্রসঙ্গত, ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই এই সংক্রান্ত খবর পান মুখ্যমন্ত্রী বলে সূত্রের খবর। সঙ্গে সঙ্গেই রাজ্য সরকারি আধিকারিকদের থেকে গোটা বিষয়টি খোঁজ নেন মুখ্যমন্ত্রী। দ্রুত উদ্ধারকার্য চালানোর নির্দেশ দেন তিনি। পাশাপাশি সরকারি আধিকারিকদের দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। উদ্ধারকার্য শুরু করার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেব, বিধায়ক বুরুচিক বরাইক, মন্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন, পরেশ অধিকারী সহ উত্তরবঙ্গের প্রায় সকল স্থানীয় নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এই রেল দুর্ঘটনায় নিহতদের 5 লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করে রেল। গুরুতর আহতদের এক লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য এবং অল্প আহতদের ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে রেল কর্তৃপক্ষ। উল্লেখ্য, দেশের সকল মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, এমন সময় দুর্ঘটনার খবর পান তিনি। বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর থেকে বিস্তারিতভাবে দুর্ঘটনার খবর জেনে নেন প্রধানমন্ত্রী বলে সূত্রের খবর। প্রাথমিকভাবে উদ্ধার কার্যে ৫১টি অ্যাম্বুলেন্স কাজে লাগানো হয়। কিন্তু রাত যত বাড়ছে ততোই সমস্যা হচ্ছে। ‌ ইতিমধ্যেই গ্যাস কাটার যন্ত্র দিয়ে ট্রেনের বিভিন্ন অংশ কাটা হচ্ছে। তবে রাত হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার কার্য খানিকটা হলেও অসুবিধা হচ্ছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার রেশ এত বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলে দু একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে ঠিক কতজন এই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছেন, তা জানতে এখনো সময় লাগবে। ট্রেনের কোন অংশে যদি কোন ব্যক্তি চাপা পড়ে থাকে তা খুঁজে বের করতে সময় লাগবে বলেই মত বিশেষজ্ঞ মহলের। আগামীকাল দুর্ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বিশনয়।

তবে কেন ও কিভাবে এই ঘটনা ঘটল তার প্রাথমিক তদন্তে যানা গেছে দুর্ঘটনার সময় ট্রেনটির গতিবেগ ঘণ্টায় আনুমানিক ৪০ কিলোমিটার ছিল বলে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক গুনীত কৌর বলেন ‘‘বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা নাগাদ গুয়াহাটি-বিকানের এক্সপ্রেস লাইনমচ্যূত হয়েছে,আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের নিউ ময়নাগুড়ি এবং নিউ দোমোহনি সেকশনে এই ঘটনা ঘটেছে,রিলিফ ভ্যান পৌঁছায় ঘটনাস্থলে,ডিআরএম রাও গেছেন ঘটনাস্থলে ’’ তিনি আরও জানান রেলের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন ওন প্রাথমিকভাবে একমাত্র লক্ষ্য উদ্ধার কাজ।
গুয়াহাটির যাত্রী দীপক ভারতী বলেছেন ‘ প্রবল ঝাকুনিতে দাড়িয়ে গেল ট্রেন।আমি লাফিয়ে নেমে এসেছি।তারপর বগিটি উল্টে যায়।’
তবে কী কারণে এত বড় একটা দুর্ঘটনা ঘটল তা এখনও স্পষ্ট হয় নি । দিনের আলোয় এমন একটি ঘটনার পিছনে যান্ত্রিক থেকে নানা রকমের ত্রুটির কথা উঠে আসছে।ফলে সঠিক কারণ জনতে ঘটনায় উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রেল মন্ত্রক।
প্রত্যক্ষদর্শীরা কেই কেউ বলছেন সামনের বগি উঠে যাওয়ার কারণ হিসেবে জোরে ব্রেক কষা।হার্ড ব্রেক কষতেই লাইনচ্যূত হয় ট্রেনের একাধিক বগি। কিন্তু কেন এভাবে ব্রেক কষতে হল, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। যে সব কারণ থাকতে পারে তা হল . রেল লাইনে সমস্যা। রেল লাইনে ফাটল থাকার কারণেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ফলে প্রশ্ন উঠছে রেল লাইন কি ঠিকমত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়নি কি? তার পরেই চালকের গাফিলতির দিকটি উঠে আসছে।চালকের কোনও ভুলের কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেই সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এর জন্য সিগনালিং সমস্যার কথাও বলছেন রেল কর্মীরা। দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে সিগনালিং সমস্যা যার ফলে ড্রাইভারকে সজোরে ব্রেক কষতে হয়েছে। তারপর আসছে ট্রেনের গতিবেগ নিয়ে সমস্যা। ট্রেন যদি উচ্চগতিতে চলে, আর ব্রেক কষা হয়, সে ক্ষেত্রে এই ধরনের দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু জানা গেছে গতি ছিল ৪০ কিমি/ঘন্টা।তাই স্বাভাবিকের থেকে বেশি ছিল না ট্রেনের গতি। তা সত্ত্বেও কেন এত জোর ব্রেক কষতে হল তা দেখা হবে তদন্তে । এই নিয়ে অন্য সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না যান্ত্রিক ত্রুটির জন্য জ্যাম হয়ে গিয়ে ব্রেক আটকে এই বিপত্তি হতে পারে এর ফলে ড্রাইভার নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেনি ও তার প্রবল ঝাকিনিতেই লাইনচ্যুত হয়ে যায় এই রেলগাড়িটি দিনের বেলায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। ফলে ফলে কুয়াশার বা কোন ধোঁয়াসা ছিল কিনা তা দুর্ঘটনার বিশ্লেষণ করেই বলা যাবে। তাই রেলের তদন্তে আসল কারণ উঠে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে । ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী আশ্বিনি বিশনোই টুইটে জানিয়েছেন দ্রুতগতিতে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করতে পরিস্থিতির উপর ব্যক্তিগত ভাবে নজর রাখছেন তিনি। এ ব্যাপারে উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here