ক্যাডার আছে, ভিড় আছে। কেন যে ভোট নেই? শূন্য থেকে মহাশূন্যদের আবার রাজ্য সম্মেলন!

0

Last Updated on March 16, 2022 1:19 AM by Khabar365Din


- Advertisement -

পূষন গুপ্ত


শূন্য থেকে মহাশূন্য

বাংলার শেষ পুরভোটে হড়কে ৩ নম্বরে নেমেছে সিপিএম (CPIM)। গত ৪টি নির্বাচনে (লোকসভা থেকে শুরু করে পুরসভা পর্যন্ত) ক্রমপর্যায়ে সিপিএমের ভোট কমেছে। ভাজপার পায়ে অঞ্জলি দিয়ে বামরামের সূচনা হয়েছিল। তার পরিণতি ভুগতে হচ্ছে আজও। যত পার্সেন্ট ভোট ভাজপাকে ঠেলে দিয়েছিল পার্টি, তার ১০ শতাংশও উদ্ধার করতে পারেনি। ফলে ক্রমে ১০ শতাংশের দিকে নেমে যাচ্ছে সিপিএমের ভোট। একবার ভোট অন্য দলে ঠেলে দিলে আর রিকভারি হয় না, এটা এবার ধনে প্রাণে ডুবতে বসে বুঝছে আলিমুদ্দিনের দেবতারা। এখন ভাজপার সঙ্গে অস্তিত্ব রক্ষায় দ্বিতীয় আর তৃতীয় হওয়ার কঠিন প্রতিযোগিতা চলছে। এই ট্রেন্ড বজায় থাকলে অবধারিত পঞ্চায়েত ভোটে ভৌতিক অপচ্ছায়া আর ‘২৪’এর লোকসভায় শূন্য থেকে মহাশূন্যে পৌঁছবে আলিমুদ্দিনের অন্ধকারে বসে থাকা সিপিএম। একদা কট্টর প্রবীণ পার্টি সমর্থকরা বলছেন, যখন আলিমুদ্দিনের আপিস তুলে তেলেভাজার দোকান দেওয়া উচিত, তখন এই মহাসঙ্কটে রাজ্য সম্মেলনও করছে পার্টিটি।

সুকুমার রায়ের ন্যাড়া ও বেলতলা

১০০ বছর আগে লেখা ননসেন্স কবিতাগুলি কী অসম্ভব প্রাসঙ্গিক আজকের অপ্রাসঙ্গিক সিপিএম সম্পর্কে। পার্টির সম্পাদক (যাই যাই) সূর্যকান্ত (Surjya Kanta Mishra)(সিপিএমের ইতিহাসে সবচেয়ে অপদার্থ) আজ যে সাংবাদিক সম্মেলন করলেন তা সিপিএম পার্টির পক্ষে সবচেয়ে দুঃখজনক। উনি যা যা বললেন, (১) বিজেপি না তৃণমূল কে হবে পয়লা শত্রু তা এই রাজ্য সম্মেলনে ঠিক হবে। অর্থাৎ এখনও ওরা ঠিক করে উঠতে পারেনি। পার্টি সম্পাদক ইয়েচুরি (Sitaram Yechury) বাংলায় এসে অন্তত বার চারেক বলে গেছেন, আমাদের স্লোগান মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে। তৃণমূলকে ভাজপার প্রধান বিরোধী হিসেবে মানুষ গ্রহণ করেছে। আমাদের ভুল হয়েছিল। কিন্তু একথা সূর্যকান্ত-সেলিম সুজনরা স্বীকার করেন কোন লজ্জায়। ওরা এক অনির্বাণ অনুসন্ধানে নেমেছেন এমনটাই পাবলিককে বোঝাতে হবে। কিন্তু পাবলিক দীর্ঘদিন বোকা থাকবে এমন মনে করার কারণ নেই। এই রাজ্য সম্মেলন কেন সিপিএম সম্পূর্ণ উঠে যাওয়ার দিন পর্যন্ত তৃণমূলকেই এবং মমতাকেই পরম ও চরম শত্রু বলে গণ্য করবে। কারণ মমতা (Mamata Banerjee) একাই পাৰ্টিটাকে বঙ্গোপসাগরের জলে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। সূর্যকান্ত’র মত (২) সমস্যাটা কোথায় ঠিক ধরা যাচ্ছে না। কর্মীরা চাঙা অর্থাৎ ক্যাডার বেস পাক্কা আছে। সভা ডাকলে নাকি প্রচুর লোকও হচ্ছে। টুম্পা সোনারা নাকি ব্রিগেডও ভরাচ্ছে (তোকে নিয়ে দিঘা/ ব্রিগেড যাব, টুম্পা)। নেতৃত্বে কিছু গোলমাল আছে, নীতিতে নেই। তবু ভোট আসছে না কেন?

গায়ে আঁটা গরম জামা পুড়ে পিঠ হচ্ছে ঝামা

রাজা বলে, ‘বৃষ্টি নামা-নইলে কিচ্ছু মিলছে না।’

বৃষ্টি নামালেও কী মিলবে? কে নামাবে বৃষ্টি? কখন ঘনাবে সেই কালো মেঘ, যে বৃষ্টিতে আবার হার্মাদরা, আবার সুশান্ত ঘোষেরা, আবার লক্ষ্মণ শেঠেরা, আবার অনিল বসুরা, আবার অশোক ভটচার্যরা, আবার মজিদ মাস্টাররা বন্দুক, বোমা আর পেট্রোলের ক্যান নিয়ে আবার বিজন সেতুতে আনন্দমার্গীদের পুড়িয়ে মারা, আবার সুঁটিয়া গণধর্ষণ, আবার নেতাই গণহত্যা, আবার কঙ্কালকাণ্ড, আবার নন্দীগ্রাম, আবার হার্মাদদের উল্লাস… বাংলাকে আবার এক লাল দুর্গ বানিয়ে মারো, জ্বালিয়ে মারো আর লুটেপুটে খাও। যতই স্বপ্ন দেখ, সেদিন আর আসবে না রে ভাই। সুয্যিবাবু তুমিই সবচেয়ে ভাল জানো এটাই তোমার সম্পাদক হিসেবে শেষ প্রেস কনফারেন্স।

টুম্পা সোনাদের লেভি

সূর্যকান্ত’র দুঃখ (৩) যুব আর তরুণ কর্মীরা বিশেষ ভাল করলেও পার্টিতে লেভি জমা পড়ছে না। তাই নাকি! ২০২০-২১ এর নির্বাচন কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী, সিপিএম আজও ভারতের তৃতীয় বৃহত্তম ধনী দল। এক নম্বরে ভাজপা, দু নম্বরে কংগ্রেস, তিন নম্বরে সিপিএম। তৃণমূল অনেক নিচে। এই পরিমাণ অ্যাসেট নিয়ে দেশের একটি রাজ্যে ক্ষমতায় (রোটেশনে) আর বাংলায় ৩৫ বছর রাজত্ব করার পর ভোট নেমেছে প্রায় ১০ পার্সেন্টে। তারপরেও সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে লেভি চাইছো? নিজেদের গাড়ির তেল ভরার জন্য? আর যুব সম্প্রদায় মানে টুম্পা সোনা? কলকাতা পুরসভার ভোটে তোমাদের ওই টুম্পা সোনারা গুরুত্ব পেয়ে প্রার্থী হয়ে মোট ৯৭ শতাংশের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ছিঃ!

নতুন পার্টি সম্পাদক, সুজন কেন নয়?

বামরামের অন্যতম প্রবর্তক হলেও, সুজন চক্রবর্তীকেই (Sujan Chakraborty) এই দুঃসময়ে একমাত্র যোগ্য রাজ্য পার্টি সম্পাদক হিসেবে চান অধিকাংশ কমরেড, আমি জানি। এটাই স্বাভাবিক। সুজনের অবশ্যই নেতৃত্বগত কোয়ালিটি এখন সবার থেকে বেশি। কিন্তু সুজন পার্টি সম্পাদক হলে আলিমুদ্দিনের দেবতাদের যথেচ্ছাচারে বেশ অসুবিধা হবে। সুজনের জনসমর্থন আছে। তাই আলিমুদ্দিনের দেবতাদের পুরোনো স্টাইলে এ প্লাসকে সন্তর্পণে সরিয়ে রেখে ওয়াই আর জেড অর্থাৎ সেলিম (Md. Salim) আর শ্রীদীপের (জোকার বিশেষ) মধ্যে প্রতিযোগিতা লাগিয়ে দিল। বাহবা নন্দলাল, লাল সেলাম কমরেড।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here