টাইম ম্যাগাজিনের সমীক্ষা
বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর
তালিকায় মমতা

0

Last Updated on September 15, 2021 11:04 PM by Khabar365Din

৩৬৫ দিন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগ্রাসী ও সাম্রাজ্যবাদী মানসিকতার পাশাপাশি আক্রমণের মুখে দাঁড়িয়ে একা দুর্গ রক্ষা করে জয় সুনিশ্চিত করতে পেরেছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এভাবেই বিশ্বের ঐতিহ্যবাহী টাইম ম্যাগাজিনের এবছরের সেরা ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় মমতাকে রাখার ব্যাখ্যা দিয়েছে টাইম ম্যাগাজিন। মমতা সম্পর্কে টাইম ম্যাগাজিনে লেখা হয়েছে, সাদা শাড়ি আর চপ্পল পরে মমতা নিজের ট্রেডমার্ক তৈরি করে গোটা পৃথিবীর কাছে প্রমাণ করে দিয়েছেন ভারতের লড়াকু প্রজন্মের নেত্রী তিনি। ২ মেয়ে নির্বাচনের ফল বেরোনোর দিনে নরেন্দ্র মোদির বিস্তার বাদী আগ্রাসনের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদে তৃতীয়বারের জন্য বসে মমতা প্রমান করে দিয়েছেন তিনি অপরাজেয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তার নেতৃত্বে বিপুল অর্থ বল এবং লোকবল খরচ করেও বিজেপি তাঁকে হারাতে পারেনি। ভারতীয় রাজনীতিতে এখনো পর্যন্ত যত জন মহিলা রাজনীতিবিদ এর উত্থান হয়েছে তাদের প্রত্যেকের থেকে মমতা ব্যতিক্রমী তার কারণ তিনি কোন পরিবার তন্ত্র বা কোন রাজনৈতিক পরিবার থেকে উঠে আসেন নি। চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠার পাশাপাশি কখনো সামান্য স্টেনোগ্রাফারের কাজ করেছেন আবার কখনও সংসার চালানোর জন্য রাস্তার দুধ বিক্রির দোকানে দুধ বিক্রি করেছেন। মমতা সম্পর্কে বলা হয় তিনি দলের নেত্রী নন, তিনিই দল। মমতার এই স্ট্রিটফাইটের ইমেজ ভারতের পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় তাকে সকলের থেকে আলাদা করে তুলেছে। যদি সর্বভারতীয় স্তরে নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কোন রাজনৈতিক জোট তৈরি হয় তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই তার নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথম নাম আসবে মমতার।

- Advertisement -

এই একই তালিকায় ভারত থেকে রাজনীতিবিদ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কিন্তু যেখানে মমতাকে লড়াইয়ের প্রতীক হিসেবে ভারতের নারী শক্তির বিকাশ বোঝাতে তুলে ধরা হয়েছে তার পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদী সম্পর্কে যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা এবং ঐতিহ্যশালী টাইম ম্যাগাজিন বিশ্ব মানচিত্রে ভারতের ভাবমূর্তি খারাপ করার পক্ষে যথেষ্ট। নরেন্দ্র মোদির তীব্র সমালোচনা করে লেখা হয়েছে, স্বাধীনতা লাভ করার পর থেকে ভারতের বিগত ৭৪ বছরের ইতিহাসে এখনো পর্যন্ত সবথেকে প্রভাবশালী তিনজন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু গোটা বিশ্বের কাছে ভারতকে গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তারপরে ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দেশের গৃহযুদ্ধ, জরুরি অবস্থা এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের যুদ্ধের মধ্যে দিয়েই অধিকাংশ সময় অতিবাহিত করতে বাধ্য হয়েছেন। ভারতের ইতিহাসে তৃতীয় সবথেকে প্রভাবশালী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। করোনা মোকাবিলায় নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারত সরকারের চূড়ান্ত ব্যর্থতায় প্রকৃত মৃতের সংখ্যা সরকারি হিসেবে তুলনায় বহুগুণ বেশি। যার ফলে দেশজুড়ে মোদির জনপ্রিয়তা হুড়হুড় করে নেমেছে। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় নরেন্দ্র মোদির বক্তব্যে সকলের বিশ্বাস হয়েছিল তিনি হয়তো ভারতকে তার বিগত কয়েক দশকের সমাজতান্ত্রিক গণতন্ত্রের অর্থনীতি থেকে বিশ্বের প্রথম সারির পুঁজিবাদী রাষ্ট্র গুলির সঙ্গে এক সারিতে তুলে আনবেন। মোদি ভারতকে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র করার দিকে অনেকখানি ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলেও সবথেকে বেশি যেটা করতে পেরেছেন তা হল ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি থেকে ধীরে ধীরে হিন্দু জাতীয়তাবাদী রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করতে পেরেছেন বিশ্বের কাছে। এর পাশাপাশি ভারতে মুসলমান সংখ্যালঘুদের অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং একের পর এক সাংবাদিককে জেলে ভরে দিয়ে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলির টুঁটি টিপে ধরার কাজ করে চলেছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। ২০২০ সালে গোটা পৃথিবীতে যেখানে যতবার ইন্টারনেট শাটডাউন করার ঘটনা ঘটেছে তার মধ্যে শুধুমাত্র ভারতেই নরেন্দ্র মোদির সরকার বন্ধ করেছে ৭০ শতাংশ। নরেন্দ্র মোদির শাসনে ভারত ক্রমাগত গণতান্ত্রিক দেশের তকমা হারিয়ে এগিয়ে চলেছে নির্বাচনী একনায়কতন্ত্রের দিকে। নরেন্দ্র মোদিকে এখনই ঠিক করতে হবে তিনি ভারতকে কোন জায়গায় পৌঁছে দিতে চান।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here