রামপুরহাটে প্রমাণিত মমতার রাজধর্ম, দোষী যে দলের হোক রেয়াত নয়

0

Last Updated on March 24, 2022 11:18 PM by Khabar365Din

৩৬৫ দিন। মরিচঝাঁপি গণহত্যার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু অকুস্থলে গিয়েছিলেন? যান নি। ছোট আঙারিয়া, নন্দীগ্রাম, নেতাই, পিংলা গণহত্যার পর তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন? যান নি। ২০০২ গোধরা গণহত্যাকাণ্ডে দিনের আলোতে শয়ে শয়ে মানুষকে পুড়িয়ে মারার ঘটনা জানা সত্বেও পুলিশ বাহিনীতে নিষ্ক্রিয় করে বসে থাকার অভিযোগ উঠেছিল গুজরাতের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং গুজরাটের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে। মমতা (Mamata Banerjee)কিন্তু আজ রামপুরহাট (Rampurhat) গেলেন বগটুই গ্রামের (Bagtui Village) স্বজনহারা মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে। সরাসরি তার দল এই ঘটনায় জড়িত থাকার কোনো প্রমাণ না এলেও নিহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সাংবিধানিক এবং প্রশাসনিক ভূমিকা পালন করে শিখিয়ে দিলেন রাজ ধর্ম কাকে বলে। এমনকি ভারতের ইতিহাসে খুব সম্ভবত প্রথম বার কোন মুখ্যমন্ত্রী তার নিজের দলের এক নেতার বিরুদ্ধে সামান্যতম অভিযোগের আঙুল ওঠার খবর পাওয়া মাত্র রাজ্য পুলিশের ডিজিকে নির্দেশ দিলেন সেই নেতাকে গ্রেফতার করতে।

- Advertisement -

মুখ্যমন্ত্রী তথা রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্দেশ পাওয়ার মাত্র ঘন্টা দুয়েকের মধ্যেই সর্বশক্তি নিয়োগ করে রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করল রাজ্যের শাসকদলের নেতা আনারুলকে। এখানেই ভাজপা অথবা সিপিএমের যে সমস্ত নেতারা টিভি চ্যানেলের সামনে বড় বড় বক্তৃতা রাখছেন, তাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে মমতা দেখিয়ে দিলেন শাসকের চোখে শাসক দল অথবা বিরোধীদল বলে কিছু হয়না। নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত অপরাধের শাস্তিটাই সেখানে শেষ কথা। ২০০২ সালের গুজরাত দাঙ্গার প্রসঙ্গ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। সেই সময় গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন মোদি। দাঙ্গায় তাঁর সরকাররে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে তখন গুজরাতে ছুটে যেতে হয় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারি বাজপেয়ীকে। সেখানে মোদিকে পাশে বসিয়ে রাজধর্ম পালনের নির্দেশ দেন তিনি। মোদির উদ্দেশে বাজপেয়ীর সেই মন্তব্য মাঝেমধ্যেই উঠে আসে বিরোধীদের মুখে।

গ্রেফতার মূল অভিযুক্ত

বগটুইয়ের ঘটনার পিছনে যারাই আছে সকলকে গ্রেফতার করতে হবে- মুখ‍্যমন্ত্রীর নির্দেশের ঘণ্টাখানেকের মধ‍্যে এই ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত আনারুল হোসেনকে গ্রেফতার (Anarul Hossain )করল পুলিশ। মোবাইল টাওয়ারের লোকেশন ট্র‍্যাক করে তারাপীঠ থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। বৃহস্পতিবার দুপুরেই বীরভূম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক সরকার ও এসডিপিও বোলপুর অভিষেক রায়ের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী আনারুলের বাড়িতে যায় তাকে গ্রেফতার করতে , কিন্তু দীর্ঘক্ষণ বাড়ি তে তল্লাশি চালিয়ে হদিশ না পেয়ে ফিরে যায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আনারুল হোসেনের স্ত্রী কে। কিন্তু পরিবারের তরফে জানিয়ে পুলিশ কে জানিয়ে দেওয়া হয় আনারুল হোসেন কোথায় আছে সেটা তারা জানে না। তার কিছুক্ষণ পরেই গোপন সূত্রে পুলিশের কাছে খবর আসে তারাপীঠের একটি হোটেলে লুকিয়ে রয়েছেন আনারুল। তড়িঘড়ি বীরভূম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশবাহিনী এসে তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করে তারাপীঠ (Tarapith) থানায় নিয়ে আসে। এরপর প্রায় আধঘণ্টা বীরভূমের পুলিশ সুপার নগেন্দ্র নাথ ত্রিপাঠী তৃণমূল নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানতে চায় সেদিন রাতে কি হয়েছিলো। মুখ্যমন্ত্রী যখন তৃণমূল নেতা আনারুল হোসেনের বিরুদ্ধে পুলিশ কে কড়া পদক্ষেপ নেবার নির্দেশ দিচ্ছেন তখন নিহতদের পরিবারের সদস্য মিহিলাল শেখ মুখ্যমন্ত্রী কে হাতজোড় করে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন , মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকৃত মুখ্যমন্ত্রী , তিনি নিরপেক্ষতার সাথে কাজ করলেন। নিজের দলের নেতা কেও রেয়াত করে না।

অন্যায় কে প্রশয় দেন না। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষনায় আমরা খুশী। এদিকে আনারুলকে ব্লক সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে তৃণমূল। রামপুরহাট-১ ব্লক তৃণমূলের নতুন সভাপতি হলেন সৈয়দ সিরাজ জিম্মি। বীরভূম জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, শুধু আনারুল নয় এই ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজনের নাম উঠে আসছে তাদের প্রত্যেকের খোঁজে তল্লাশি চলছে ওটা বীরভূম জেলা জুড়ে তল্লাশি অভিযান চলছে বীরভূমের পাশাপাশি লাগোয়া বিভিন্ন জেলাতেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এছাড়া বীরভূম যেহেতু সীমান্তবর্তী জেলা তাই অভিযুক্তরা যাতে ঝাড়খন্ড বা বিহারে পালাতে না পারে তার জন্য সীমান্তেও নাকা তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তবে পুলিশ আধিকারিকরা মনে করছেন আনারুলকে গ্রেপ্তারের ফলে ঘটনার দিন রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, কারা অশান্তিতে মদত দিয়েছিল, তাৎক্ষণিক উত্তেজনার বশে এই ঘটনা ঘটেছিল নাকি পূর্বপরিকল্পিত ছিল গোটা বিষয়টি, বহিরাগত দুষ্কৃতীরা এলাকায় ঢুকে অশান্তি পাঠিয়ে ছিল কিনা এই বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। অন‍্যদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রামপুরহাটের বগটুই গ্রামে পৌঁছলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি মনোজ মালবীয়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বীরভূমের পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী-সহ অন্য আধিকারিকেরা। ডিজি নিজে গ্রামের নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। জেলা পুলিশ সূত্রে খবর, বগটুইয়ের নিরাপত্তা ইতিমধ্যেই বাড়ানো হয়েছে। দিন ও রাত মিলিয়ে দু’দফায় ৫৪ জন করে পুলিশকর্মী গ্রামের নিরাপত্তায় থাকবেন। তাঁদের নেতৃত্বে থাকবেন ডিএসপি পদমর্যাদার এক জন আধিকারিক। গোটা গ্রাম মুড়ে ফেলা হয়েছে সিসিটিভি ক‍্যামেরায়।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here