কেন্দ্রের প্রতিহিংসার
বিরুদ্ধে মমতা’র জেহাদ
আলাপনের অবসর ও
তৎক্ষণাৎ পুনর্নিয়ােগ

0
503

- Advertisement -

খবর ৩৬৫ দিন টিম


৩৬৫ দিন। নির্ধারিত অবসরগ্রহণের দিনে দিল্লিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারি ডেপুটেশনে যোগ দেওয়ার কেন্দ্রীয় সরকারি নির্দেশিকা অগ্রাহ্য করে মুখ্য সচিব পদে অবসর নিলেন আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ সকালেই মুখ্যমন্ত্রী আরো একবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি দিয়ে মুখ্যসচিবের বদলির নির্দেশিকা প্রত্যাহারের আবেদন জানালেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য মোদি সরকার মঞ্জুর না করায় কার্যত কেন্দ্রের অবৈধ এবং অসাংবিধানিক নির্দেশিকা অগ্রাহ্য করে অবসর নিলেন আলাপন। এর পরেই আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্যের প্রশাসনিক কাজে প্রয়োজন বলে মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে কাল থেকে মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন আজ। রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব হচ্ছেন হরিকৃষ্ণ দ্বিবেদী। নতুন স্বরাষ্ট্রসচিব হচ্ছেন বি পি গোপালিকা। তারপরে মমতা বলেন, আমি কিন্তু চাইলে ওঁকে মুখ্যসচিব হিসেবেই আটকে রাখতে পারতাম৷ কিন্তু আমি সেটা করিনি৷ আলাপন নিজেই আজ অবসর নিতে চেয়েছিল৷ কিন্তু আমি ওঁকে রাজ্যের জন্য কাজ করতে অনুরোধ করি৷

কেন্দ্রের রাজনৈতিক প্রতিহিংসা

কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকা অনুযায়ী আজ সকাল ১০ টায় দিল্লির নর্থ ব্লকে যোগ দিতে বলা হয়েছিল আলাপন বাবু৷ কিন্তু রাজ্যের পক্ষ থেকে ছাড়পত্র না দেওয়ায় পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তিনি মুখ্য সচিব পদে থেকেই অবসর গ্রহণ করেন। তারপর বিকেল পাঁচটার কিছু আগে কেন্দ্রের তরফে আরও একটি চিঠি আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে এসে পৌঁছয়৷ সেই চিঠিতে ফের একবার আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবিলম্বে দিল্লিতে গিয়ে কাজে যোগ দিতে বলা হয়৷ মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য জানান, তার আগেই কর্মজীবনের শেষ দিনে নিয়ম মেনে অবসর গ্রহণ করেছেন আলাপনবাবু৷ সেই প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলা কোনও দিন মাথা নত করে না৷ তোমরা চিঠি পাঠানোর আগেই তিনি অবসর নিয়ে নিয়েছেন আর তোমরা জানতেও পারলে না৷
মমতার অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা। বিজেপি হেরেছে। এই জন্য ওঁরা এ সব করছেন। ওঁরা ভোট পরবর্তী হিংসা বলে চিৎকার করছেন। ওরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। আমরা তো কোনও ভোট পরবর্তী হিংসা দেখতে পাইনি। আমরা জনসেবার জন্য, ইয়াস এবং করোনা পরিস্থিতিতে আলাপনের মেয়াদ বৃদ্ধি করেছিলাম। তাতে কেন্দ্র সিলমোহরও দিয়েছিল। এমন নির্দয় প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগে দেখিনি। প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি। ওঁরা রাজ্যের সঙ্গে কোনও আলোচনাই করেননি।

কেন্দ্রের স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে একজোট

যাবতীয় সাংবিধানিক রীতিনীতি অগ্রাহ্য করা হয় যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো অনুযায়ী রাজ্যের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা না করে মোদি সরকারের এই স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশের সমস্ত ভাজপা বিরোধী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং সর্বভারতীয় স্তরে আমলাদের একজোট হওয়ার আহ্বান জানান বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বলেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা এবং সম্মতি ছাড়া এটা করতে পারে না। এটা কি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ভেঙে দেওয়া নয়? আমলারা কি চুক্তিভিত্তিক শ্রমিক? এ ভাবে কি রাজ্য এবং কেন্দ্র লড়াই করবে? আমি সকলের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। এটা শুধু আলাপনের লড়াই নয়। এটা আইএএস, আইপিএস, বুদ্ধিজীবী, সাধারণ মানুষ সকলের কাছে আবেদন জানাচ্ছি। বিজেপি-র আমলে আমলারা অসহায়। তাঁদের সম্পর্কে আমার উচ্চধারণা আছে। যা বলা হবে তা তাঁরা করতে বাধ্য নন। অনেক হয়েছে। আমি আমলাদের পাশে রয়েছি। এটা আমলাদের অপমান। ওঁরা খালি ভাষণ দিচ্ছেন। আর আমলারা রেশন সরবরাহ করবেন।
দেশের সবক’টি রাজ্যের এককাট্টা হয়ে এর বিরুদ্ধে সরব হওয়া উচিত। বিরোধী দলগুলির মুখ্যমন্ত্রীদেরও একজোট হওয়া উচিত। বিজেপি সরকার, কোভিড, অর্থনীতি—সব সামলাতেই ব্যর্থ। বিজেপি স্বৈরাচারীর মতো ব্যবহার করছে। ওরা হিটলার, স্ট্যালিনের মতো ব্যবহাকরছে।

বাংলা হারতে জানে না

কেন্দ্রের ভাজপা সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করে মমতা বলেন, বাংলা হারতে জানে না। প্রধানমন্ত্রী এখনও আমার চিঠির উত্তর দিতে পারেননি। আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় আজ অবসর নিয়েছেন। আমলাতন্ত্রকে বাঁচিয়ে দিয়েছেন। এটা হওয়া উচিত নয়। এই জন্য সংবিধানে লক্ষ্মণরেখা টানা আছে। আলোচনা ছাড়া এটা সম্ভব নয়। সুপ্রিম কোর্টেরও নির্দেশ আছে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here