নবাব মালিকের বিস্ফোরক অভিযোগ,শাহরুখকে ৫০ লাখ মুক্তিপণ দিতে হয়েছে

0
267

৩৬৫ দিন। মুম্বই। মাদক নিতে গিয়ে অথবা মাদকচক্রের যুক্ত থাকার অভিযোগে শাহরুখপুত্র আরিয়ান খানকে গ্রেফতার করা হলেও আদতে তা নয়। আরিয়ান মূলত মুম্বইতে দীর্ঘকাল ধরে চলা আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের ষড়যন্ত্রের শিকার। একের পর এক তথ্য সামনে আসতে শুরু করার পরে জানা গিয়েছে সর্ষের মধ্যেই ভূত! অর্থাৎ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এনসিবির উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের শাসকদল ভাজপা নেতাদের অশুভ আঁতাতে দীর্ঘকাল ধরেই চলে আসছে সেলিব্রিটি পরিবারের সদস্যদের কিডন্যাপ করে মোটা টাকা মুক্তিপণ আদায় করা। অন্যথায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে জেলে ভরে দেওয়া।

শরদ পাওয়ার এর দল এনসিপি নেতা তথা মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী নবাব মালিক শুরু থেকেই বলে চলেছেন, ক্রুজে এনসিবির অভিযান পুরোটাই ওয়াংখেড়ের সাজানো নাটক। এবার নবাব মালিকের অভিযোগ ড্রাগ মামলার ছিলায় আরিয়ানকে কিডন্যাপ করতে চেয়েছিল সমীর ওয়াংখেড়ে, যাতে শাহরুখ খানের কাছ থেকে মোটা টাকা আদায় করা যায়। নবাব মালিক বলেন, আরিয়ান খান ওই ক্রুজ পার্টির জন্য টিকিট কাটেননি। প্রতীক গাবা ও আমির ফার্নিচারওয়ালাই তাঁকে ওই পার্টিতে এনেছিলেন। গোটা ঘটনাটিই অপহরণ ও মুক্তিপণের। মোহিত কম্বোজ গোটা ঘটনার প্রধান চক্রী। সমীর ওয়াংখেড়ের সঙ্গেই মিলিতভাবে তিনি মুক্তিপণ দাবি করেছিলেন।

মুক্তিপণ দিয়েছেন শাহরুখ খান

নবাব মালিকের দাবি, মাদক কাণ্ডে আরিয়ান খানকে আটক করার পর থেকেই শাহরুখ খানকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তাঁর ম্যানেজার পুজা দাদলানির নাম সামনে আসার পর, এখনও শাহরুখ খানকে ভয় দেখানো হচ্ছে যাতে তিনি এই বিষয়ে মুখ না খোলেন। তিনি শাহরুখ খানকে এই বিষয়ে মুখ খোলার জন্য অনুরোধও করেন। তিনি বলেন, আপনার ছেলেকে অপহরণ করা হলে, তার জন্য যদি আপনি মুক্তিপণ দেন, তা কোনও অপরাধ নয়। তদন্তে জানা গিয়েছে শাহরুখ খানের পরিবারের তরফে সেই রাতেই ৫০ লক্ষ টাকা নগদ দেওয়া হয়েছিল মুক্তিপণের প্রথম কিস্তি হিসেবে।

শাহরুখের দিল্লি অভিযান

আরিয়ান জামিনে ছাড়া পাওয়ার পরেও মুক্তিপণের বাকি কিস্তির টাকা পৌঁছে দিতে অথবা নতুন করে যাতে আরিয়ানকে না ফাঁসানো হয় তার জন্যই শনিবার অত্যন্ত গোপনে শাহরুখ খান বিশেষ বিমানে কয়েক ঘণ্টার জন্য দিল্লি যান বলে জানা গিয়েছে। শাহরুখ অথবা এনসিবির আধিকারিকদের তরফের এই বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনো কিছু না বলা হলেও মুম্বই পুলিশ কিডন্যাপ এবং মুক্তিপণের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

কিডন্যাপ এর অভিযোগ এনসিবি সাক্ষীর

এনসিবি করত সমীর ওয়াংখেড়ে যে একাধিক সমাজবিরোধী এবং রাজনৈতিক নেতার সঙ্গে অসভ্য আঁতাত করে ৩ অক্টোবর শাহরুখপুত্র আরিয়ান খান কে কিডন্যাপ এর ছক কষে ছিলেন তা রীতিমতো সরকারি স্টেটমেন্ট হিসেবে জানিয়েছেন এনসিবির অন্যতম সাক্ষী বিজয় পাগারে। বিজয় পাগারে নামক ওই সাক্ষীর দাবি, মাদক মামলায় ইচ্ছাকৃতভাবেই ফাঁসানো হয়েছে শাহরুখ পুত্র আরিয়ান খানকে। গত ৪ নভেম্বর মুম্বই পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দলের কাছে বয়ান দিতে গিয়ে তিনি এই কথা জানান। পাগারের দাবি, গত ২ অক্টোবর মুম্বইয়ের ক্রুজে যে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল এনসিবি, তা আগে থেকেই পরিকল্পনা করা ছিল। আরিয়ান খান ওই প্রমোদতরীতে উপস্থিত থাকবে জেনেই গোটা পরিকল্পনাটি বানানো হয়।

মুম্বই পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সিট-র সামনে বিজয় পাগারে জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকেই নভি মুম্বইয়ের ফরচুন হোটেলে থাকছিলেন সুনীল পাটিল। ওই হোটেলেই আবার কেপি গোসাভির নামেও একটি ঘর বুক করা ছিল। কেপি গোসাভির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি শাহরুখ খানের ম্যানেজার পুজা দাদলানির কাছ থেকে প্রথমে ২৫ কোটি টাকা চেয়েছিলেন আরিয়ান খানকে মাদক মামলা থেকে নিষ্পত্তি দেওয়ার জন্য। পরে তা ১৮ কোটিতে রফা হয়, এরমধ্যে ৮ কোটি টাকাই এনসিবি অফিসার সমীর ওয়াংখেড়েকে দেওয়ার কথা ছিল। বিজয় পাগারের দাবি, কর্ডেলিয়া ক্রুজে তল্লাশি অভিযান চালানোর কয়েকদিন আগে হোটেলে ভাজপা নেতা মনীশ ভানুশালী, কেপি গোসাভি ও সুনীল পাটিল দেখা করেন। ৩ অক্টোবর মনীশ ভানুশালী ফের হোটেলে আসেন এবং বিজয় পাগারেকে দেখে তাদের সঙ্গে যেতে বলেন নিজের বকেয়া টাকা উদ্ধারের জন্য। এরপরই তাঁকে এনসিবির অফিসে নিয়ে আসা হয়। ওই সময় ভানুশালী ফোনে কারোর সঙ্গে কথা বলছিলেন। বার্তালাপে স্যাম ডি’সুজা, পুজা দাদলানির নামও উল্লেখ করা হয় বলে দাবি।

ওয়াংখেড়ের শ্যালিকা ড্রাগ স্মাগলার?

সমীর ওয়াংখেড়ের শ্যালিকা হরশাদা দীননাথ রেডকর মাদক ব্যবসায় জড়িত কি না, আদালতের তথ্য-প্রমাণ প্রকাশ্যে এনে এই প্রশ্ন তুলে নতুন বিতর্ক তৈরি করলেন নবাব মালিক। আজ সকালে টুইটারে নবাব লেখেন, সমীর দাউদ ওয়াংখেড়ে, আপনার শ্যালিকা হরশাদা দীননাথ রেডকর কি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত? আপনাকে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে কারণ, তাঁর মামলা পুণে আদালতে এখনও বিচারাধীন। ওই টুইটার পোস্টে প্রমাণ হিসেবে আদালতের একটি নথির ছবিও তুলে ধরেন তিনি। ২০০৮ সালে দায়ের হওয়া মাদক দ্রব্যের বেআইনি পাচার সংক্রান্ত মামলার নথি সেটি। ওই মামলায় রেসপনডেন্টের তালিকায় নাম রয়েছে সমীরের শ্যালিকার।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here