ময়নাগুড়ি রেল দুর্ঘটনা নিয়ে দায় এড়াতে চাইছে রেল কর্তৃপক্ষ

0
87

৩৬৫ দিন । ময়নাগুড়ির রেলদুর্ঘটনার কারণ নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে চাপান উতর । রেল মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণ শুক্রবার জানিয়েছেন দুর্ঘটনার কারণ ইঞ্জিনের যান্ত্রিক গোলযোগ। কিন্তু আধিকারিকরা জানিয়েছেন রেল ট্র্যাক নিয়েও সমস্যা ছিল । এছাড়াও ট্রেনের গতিবেগ নিয়েও ভুলতথ্য দিয়েছিলো রেল বৃহস্পতিবার। এদিন এসব নিয়েই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ খুঁজে বের করার জন্য কমিশনার ওফ রেলওয়ে সেফটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী। তবে ময়নাগুড়িতে কর্মরত আধিকারিকরা জানিয়েছেন দুর্ঘটনা ঘটেছে ইঞ্জিনের ট্রাক্শন মোটর খুলে যাওয়ার জন্যই। চালক প্রদীপ যাদব জানিয়েছেন তিনি ঝাকুনি অনুভব করতেই নিয়মানুসারে ইমার্জেন্সি ব্রেক কষেন।এরপরেই লাইন থেকে পড়ে যায় ট্রেনটি। রেলমন্ত্রীর কথা বিস্বাস করলে এই দুর্ঘটনার পুরো দোষ গিয়ে পড়ে লোকো পাইলট ও ইঞ্জিনের যান্ত্রিক ত্রুটির ওপর। এরফলে দায় অনেকটা কমে যাবে রেলমন্ত্রক ও ভাজপার সরকারের ওপর।

অন্যদিকে ট্র্যাকের কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে তদারকিতে গাফিলতির জন্য দায়ভার অনেকটাই ভাজপা পরিচালিত কেন্দ্রীয় সরকারের রেলমন্ত্রকের ওপর এসে পড়বে। এদিন তদন্ত কমিটিকে ট্রেনের চালক ও সাপোর্ট স্টাফরা জানিয়েছেন যে ট্রেনের গতিবেগ দুর্ঘটনার সময় ৯০ থেকে ৯৫ কিমি প্রতিঘন্টা ছিল। ফলে রেলের আধিকারিকদের মত এই অবস্থায় ইমার্জেন্সি ব্রেক মারলে তার অভিঘাত এই ধরণের এই সি এফ বগি নিতে পারেনা। এল বিএইচ ধরণের বগি এই অভিঘাত সহজেই নিতে পারে। কিন্তু এখানে এই সিএফ মানের বগি ছিল। রেলের তদন্ত কমিটির চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর আগেই রেলমন্ত্রী ইঞ্জিনের যান্ত্রিক সমস্যার ফলে এই দুর্ঘটনা বলে দেওয়াতে রেল সুরক্ষার রিপোর্ট প্রভাবিত হবে বলেই মনে করছেন রেলকর্মীদের অন্যতম সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বি বি সিং। ময়নাগুড়ির রেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু বেড়ে হল ৯। আর কেউ আটকে রয়েছে কিনা তার জন্য খোঁজ চালাচ্ছে বিভিন্ন উদ্ধারকারী দল।এদিন ঘটনাস্থলে গেছিলেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণ। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, চোট ও বড় জখম নিয়ে আহতের সংখ্যা ৬২ ছাড়িয়েছে। হাসপাতালে রয়েছে ৩৬ যার মধ্যে ১৫ জনের আঘাত গুরুতর। তবে জখম ও মৃতের সংখ্যা আর নাও বাড়তে পারে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here