সংঘের গত ৩ দশকের গোপন অ্যাজেন্ডা, পৃথক উত্তরবঙ্গের দাবি

0

Last Updated on September 22, 2021 12:28 AM by Khabar365Din

৩৬৫দিন। ২৫ বছর ধরেই উত্তরবঙ্গকে আলাদা রাজ্য করার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে আরএসএস। আর সেই লক্ষ্য পূরণের জন্যই বারবার ভাজপা তরফে উত্তরবঙ্গকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই এবার পৃথক উত্তরবঙ্গ রাজ্য গড়ার চক্রান্তকে বাস্তবায়িত করতে দলের রাজ্য সভাপতি পদে মেদিনীপুরের সাংসদ দিলীপ ঘোষকে সরিয়ে নিয়ে আসা হল বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদারকে। তবে বিধানসভা ভোটের পর থেকেই পৃথক উত্তরবঙ্গ রাজ্য তৈরির জন্য সলতে পাকানোর কাজ শুরু করে দিয়েছিল সংঘ পরিবার। সান্তনা পুরস্কার স্বরূপ পূর্ব মেদিনীপুরের শুভেন্দু অধিকারীকে বিরোধী দলনেতা ও বনগাঁর মতুযা সম্প্রদায়ের শান্তনু ঠাকুরকে প্রতিমন্ত্রী করে আসলে উত্তরবঙ্গে আলাদা করার পথ আরো মসৃণ করতে চেয়েছে ভাজপা নেতৃত্ব।তাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গ থেকেই দুজন নিশীথ প্রামানিক ও জন বারলাকে জায়গা করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি তাৎপর্যপূর্ণভাবে নিশীথ প্রামানিক, জন বারলা ভোটের পর থেকেই পৃথক উত্তরবঙ্গের দাবি জানিয়ে আসছে। এবার রাজ্যের সাংগঠনিক প্রধানের পদটিও বেছে নেওয়া হল উত্তরবঙ্গ থেকেই। কিন্তু সংঘ পরিবারের শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গের দিকেই শেন দৃষ্টি কেন? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত বিধানসভা ভোটের ফলাফলের পর পরিষ্কার হয়ে গেছে যে দক্ষিণবঙ্গে ভাজপার পক্ষে আর কিছু করা সম্ভব নয়।

দক্ষিণবঙ্গের দুই ২৪ পরগনা, যেখানে ৬৫ টি আসন এবং গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, অর্থাৎ হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান, নদিয়া, যা আরও প্রায় ৬০ টি আসন অর্থাৎ মোট এই ১২৫ টি আসনে তৃণমূল স্তরে সংগঠন ধরে রাখা তো দূর সামান্য গেরুযা ঝান্ডা ধরার মতো জেলার বড় নেতা ভাজপর কাছে আর নেই।বর্তমানে ভাজপার সংগঠনের যা হাল আগামী কয়েক বছরে দক্ষিণবঙ্গে নতুন নেতা তৈরি করা সম্ভবপর নয়। এই সত্যটা কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এবং নাগপুরের আরএসএস এর নেতারা বুঝে গেছেন। কিন্তু এদিকে গত বিধানসভা ভোটের পর থেকে আরএসএস এর দীর্ঘদিনের পৃথক উত্তরবঙ্গের পরিকল্পনা কে বাস্তব রূপ দেওয়া খানিকটা হলেও সহজ হয়েছে। কারন উত্তরবঙ্গে মোট আসন রয়েছে ৫৪ টি। তার মধ্যে গত বিধানসভায় ৩০ টি আসনেই জয় পেয়েছে ভাজপা। যদিও নিশিত প্রামানিক সংসদ থাকার জন্য দিনহাটার বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন এবং আলিপুরদুয়ারের ভাজপা বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল দল বদল করে বর্তমানে তৃণমূলে নাম লিখিয়েছেন। যদিও তৃণমূল নেতৃত্তের ব্যর্থতার কারণেই উত্তরবঙ্গ এতগুলি আসনে নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করতে পেরেছে ভাজপা নেতৃত্ব। বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর ভাজপার পশ্চিমবঙ্গ পরিকল্পনা ভেস্তে গেলও, উত্তরবঙ্গ কে আলাদা রাজ্য করার দীর্ঘমেয়াদী ভাবনা নিয়ে এগোনোর জন্যই বারবার উত্তরবঙ্গ কে টার্গেট করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here