Sandhya Mukhopadhyay:
প্রয়াত সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়

0

Last Updated on February 16, 2022 1:41 AM by Khabar365Din

জন্ম: ৪ অক্টোবর ১৯৩১
প্রয়াণ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২

- Advertisement -

কোভিড সামলে হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যু, ৫টা অবধি রবীন্দ্রসদনে শায়িত থাকবে মরদেহ


৩৬৫দিন। বাংলার সংগীতজগতের স্বর্ণযুগের অবসান।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিভলো সন্ধ্যা প্রদীপ।মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইএম বাইপাসের ধারের অ্যাপোলো হাসপাতালে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের (Sandhya Mukhopadhyay) জীবনাবসান হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। বেশ কিছুদিন ধরেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলের পরই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সঙ্গে সঙ্গে তাকে আইসিইউতে (ICU) স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। যদিও শেষ রক্ষা হল না, ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট (Massive Cardiac Arrest) কেড়ে নিল বাংলার বিশিষ্ট সংগীত শিল্পীকে। রাজ্যসভার সংসদ শান্তনু সেন সন্ধ্যায় প্রথম টুইট করে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় মৃত্যুর খবর জানান। অ্যাপোলো হাসপাতাল (Apollo Hospitals) মেডিকেল বুলেটিনে জানানো হয়েছিল, তার শারীরিক পরিস্থিতির রীতিমতো উদ্বেগজনক রক্তচাপ কমে যায় যে কারণে বেশি ভেসোপ্রেসার সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। প্রসঙ্গত, সাধারণতন্ত্র দিবসের ঠিক আগেই তাকে পদ্মশ্রী পুরস্কার দিতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার প্রত্যাখ্যান করেন শিল্পী।ঘটনাচক্রে ২৬ জানুয়ারি তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে, বাথরুমে অসুস্থ হয়ে পড়ে যান। তারপর থেকে শ্বাসকষ্ট ভুগতে শুরু করেন। শারীরিক অবস্থা অবনতি হওয়ায় তাকে গ্রিন করিডোর এস এস কে এম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এসএসকেএম হাসপাতালের (SSKM Hospital)গঠিত হয় মেডিকেল বোর্ড। উডর্বান ওয়ার্ডে তাকে ভর্তি করা হয়। কিন্তু করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসায় তাকে এসএসকেএম হাসপাতালে রাখা যায়নি ,স্থানান্তর করা হয় এপোলো হাসপাতালে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায় ফুসফুসের সংক্রমণ ছিল। কিন্তু অ্যাপোলো হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর ধীরে ধীরে খানিকটা সুস্থ হচ্ছিলেন। বুধবার রবীন্দ্রসদনে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত সাহিত্য থাকবে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের মরদেহ। সেখানেই শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন তার অসংখ্য অনুরাগীরা। এই মুহূর্তে মুখ্যমন্ত্রী উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, তার সফর কাটছাঁট করে বুধবার কলকাতায় ফিরে আসবেন । সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের শেষ যাত্রায় মুখ্যমন্ত্রীর সামিল হওয়ার কথা রয়েছে। বুধবারই তার শেষকৃত্য হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর শোকবার্তা
উনি ভারতরত্ন


৩৬৫ দিন। গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু শুধু দেশের ক্ষতি নয়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় প্রকৃত অর্থেই বাঙালির কোকিল কন্ঠি ভারতরত্ন ছিলেন। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণায় এক টেলিভিশন সাক্ষাতকারে শোক প্রকাশ করতে গিয়ে এ কথাই জানিয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী(Mamata Banerjee)। এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আগামীকাল বুধবার উত্তরবঙ্গ থেকে নিজের সফর কাটছাঁট করে কলকাতায় ফিরছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। তারপরেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়, গান স্যালুট দেওয়ার মধ্যে দিয়ে বাংলা গানের অন্যতম শ্রেষ্ঠ গায়িকা গীতশ্রী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে শেষ শ্রদ্ধা জানাবে রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এদিন রাতে গীতশ্রীর মরদেহ পিস হাবেনে রাখা হবে। বুধবার বেলা বারোটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত গীতশ্রীর মরদেহ শায়িত থাকবে রবীন্দ্র সদনে। তারপর সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ সম্মান জানানো হবে। এদিন রাতে উত্তরবঙ্গ সফর থেকেই স্মৃতিচারণায় মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন,
১. এই জগতের আর কেউ নেই। ‌ পুরো শতাব্দীতে আর কেউ নেই। একতি শুধু দেশের ক্ষতি নয়, আমি এখনো মনে করি, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ভারতরত্ন। ‌ আমিতো উত্তরবঙ্গে এসেছি প্রোগ্রামে। রাতে দরকার হলে, তাঁর মরদেহ পিস হাভেনের রাখা হবে। আগামীকাল (বুধবার) বেলা বারোটার সময় মরদেহ রবীন্দ্রসদনে নিয়ে আসা হবে, এবং বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত মরদেহ ওখানে শায়িত থাকবে। ওনার গুণমুগ্ধরা যারা আছেন তারা শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। ‌ তারপর আমি এখান থেকে যাওয়ার পর, রাজ্যের সর্বোচ্চ সম্মান, রাষ্ট্রীয় সম্মানে তাঁর শেষকৃত্য পালন হবে। তাঁকে গান স্যালুট দেওয়া হবে।
২.ওদের পরিবারের সবথেকে ক্ষতি হল, আর ক্ষতি হলো বাংলার সংস্কৃতির। আমি কোচবিহারের প্রোগ্রামটা করব, শিলিগুড়ি ফিরতে হবে, তারপর বাগডোগরা, তারপর প্লেন ধরতে হবে।
৩. স্বর্ণ সন্ধ্যার যুগের সবাই চলে গেছে না একে একে। উনি ছিলেন শেষ সুরের ঝংকার। গানের ইন্দ্রধনু, মায়াবতী মেঘের তন্দ্রা, মধু মালতি ডাকে আয়, কী মিষ্টি, দেখো মিষ্টি, কী মিষ্টি এ সকাল, অথবা নতুন সূর্য আলো দাও, আলো দাও, শঙ্খ বাজিয়ে মাকে ঘরে এনেছি, অনেক গান তিনি গেয়েছেন। কখনো মান্না দের সঙ্গে, কখনো হেমন্ত দার সঙ্গে। ১৯৫৭ সালে সুচিত্রা সেনের গলায় গানটা, উনি গাই ছিলেন, এই রাত তোমার আমার। তখনও আমি জন্মগ্রহণ করি নি।

সুচিত্রা-সন্ধ্যা জুটির সাফল্যের কিছুটা অভিনয়, বাকিটা গান


প্রয়াত প্রবাদপ্রতিম সঙ্গীতশিল্পী ‘গীতশ্রী’ সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রয়াত হন তিনি। কিছুদিন আগেই কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিলেন শিল্পী। পায়ের হাড় ভাঙারও চিকিৎসা চলছিল। ক্রমশ কোভিড থেকে সুস্থ হয়ে স্থিতিশীল হয়ে উঠছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎই আজ তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে আইসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। তাঁর প্রয়াণে বাংলার স্বর্ণযুগের একটা অধ্যায়ের শেষ হল। শোকস্তব্ধ বাংলা। মুখ্যমন্ত্রী শোকজ্ঞাপন করে জানিয়েছেন, আগামীকাল শিল্পীর মরদেহ রবীন্দ্রসদনে (Rabindra Sadan) শায়িত থাকবে, সাধারণের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য। তারপর রাষ্টীয় মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন সঙ্গীতশিল্পী। বাংলা গানের স্বর্ণযুগের অন্যতম কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। তাঁর কন্ঠের জাদুতে মজে কয়েক প্রজন্ম। ৫০ বছরেরও বেশি সময় নানা ভাষার ছবিতে প্লেব্যাক করেছেন তিনি। ছবির গানের পাশাপাশি বাংলা আধুনিক গান ও ধ্রুপদী সঙ্গীতেও তিনি ছিলেন সমান পারদর্শী। উস্তাদ বড়ে গুলাম আলি খাঁর শিষ্যা ছিলেন তিনি। ১৯৩১ সালের ৪ অক্টোবর দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গীত শিক্ষার মূল কান্ডারী ছিলেন তাঁর দাদা রবীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়। ১৯৪৫ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে প্রথম গান রেকর্ড করেন তিনি। কলম্বিয়া থেকে তাঁর প্রথম রেকর্ড করা গান গিরীন চক্রবর্তীর কথায় ও সুরে ‘তুমি ফিরায়ে দিয়াছ’ ও ‘তোমার আকাশে ঝিলমিল করে’। ১৯৪৮ সালে প্রথমবার রাইচাঁদ বড়ালের সঙ্গীত পরিচালনায় প্লেব্যাক করেন, ছবির নাম ‘অঞ্জনগড়’। ওই একই বছরে আরও তিনটি আধুনিক গান রেকর্ড করে সঙ্গীতজগতে নিজের জায়গা পাকা করে ফেলেন ভবিষ্যতের কিংবদন্তি। ১৯৫০ সালে মুম্বই পাড়ি দিয়েছিলেন বাংলা বেসিক আধুনিক গানের সম্রাজ্ঞী সন্ধ্যা। ১৭ টি হিন্দি ছবিতে প্লেব্যাক করেন তিনি। শচীন দেব বর্মনের হাত ধরেই শুরু হয়েছিল তাঁর বম্বে সফর। শচীন দেববর্মন নিয়ে গেলেও মুম্বইয়ে প্রথম প্লেব্যাকের সুযোগ হল অনিল বিশ্বাসের সুরে ‘তারানা’ ছবিতে। সন্ধ্যার বড়দাই মুম্বইয়ে অনিল বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সেই ছবিতে গান গাইতে গিয়েই তাঁর পরিচয় হয় লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে। লতার সঙ্গে ডুয়েট গেয়েছিলেন ‘বাল পাপিহে বোল রে’, ‘তু বোল পাপিহে বোল’। গানের সূত্রে দুজনে ভালো বন্ধু হয়ে উঠেছিলেন। পরবর্তীকালে সন্ধ্যার ঢাকুরিয়ার বাড়িতেও এসেছেন লতা। রাইচাঁদ বড়াল, শচীন দেব বর্মন  থেকে শুরু করে সলিল চৌধুরী, নচিকেতা ঘোষ, মানবেন্দ্র মুখোপাধ্যায়, হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সহ সেই সময়ের সমস্ত দিকপাল সঙ্গীত পরিচালকের সঙ্গেই কাজ করেছেন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়। উত্তম সুচিত্রার লিপে তাঁর ও হেমন্তের  রোমান্টিক গান আজও সমান জনপ্রিয়। ‘এই পথ যদি না শেষ হয়’,’এ শুধু গানের দিন’,’এই মধুরাত’ গানগুলো আজও বাঙালির কাছে রোমান্টিসিজমের সমার্থক।
ছবির গানের পাশাপাশি সমান জনপ্রিয় সন্ধ্যা মুখোপাধ্য়ায়ের গাওয়া বাংলা বেসিক গান। ‘হয়ত কিছুই নাহি পাবো’,’আয় বৃষ্টি ঝেপে ধান দেব মেপে’,’মায়াবতী মেঘে এল তন্দ্রা’,’শঙ্খ বাজিয়ে মাকে ঘরে এনেছি’,’চম্পা চামেলি গোলাপেরই বাগে’-র মতো অসংখ্য কালজয়ী গান তাঁকে অমর করে রেখেছে সঙ্গীতের দুনিয়ায়। ১৯৭১ সালে ‘জয়জয়ন্তী’ ও ‘নিশিপদ্ম’ ছবিতে গান গেয়ে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। ১৯৯৯সালে লাইফটাইম অ্য়াচিভমেন্টের জন্য ভারত নির্মান পুরস্কার পান। ২০১১ সালে বঙ্গবিভূষণ সম্মান পান তিনি। ২০২২ সালে তাঁকে ‘পদ্মশ্রী’ দিতে চেয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার, কিন্তু এতদিন সে সম্মান তাঁকে না দেওয়ায় অভিমানে পদ্মশ্রী প্রত্যাখান করেন তিনি।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here