ভানু বন্দ্যপাধ্যায়ের চরিত্রে শাশ্বত, শিল্পীর ১০২ তম জন্মদিনে, জমালয়ে জীবন্ত ভানু

0

Last Updated on August 29, 2022 12:57 AM by Khabar365Din

- Advertisement -

৩৬৫ দিন। এ যেন অবিকল ভানু, হাতের কব্জি ঘুরিয়ে সংলাপ বলার অপেক্ষা – ভাবসেন টা কি? বড়লোক মানুষ বইল্যা, অপমান করবেন,আর ছাইড়া দিমু! আমিও ঢাকার পোলা।
বাংলা চলচিত্রের অন্যতম মহিকান ভানু বন্দ্যপাধ্যায়ের চরিত্রে এবার শাশ্বত চট্টোপধ্যায়। তবে এটা ভানুর বায়োপিক নয়। তার অন্যতম সুপারহিট ছবি যমালয়ে জীবন্ত মানুষ অবলম্বনে, যমালয়ে জীবন্ত ভানু।

ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্ম শতবর্ষ গেছে গত বছর, ভানুর ১০১ তম জন্মদিনে তরুণ পরিচালক সায়ন্তন ঘোষাল তার নতুন ছবির পরিকল্পনার কথা জানালেন। ছবির ক্রিয়েটিভ প্রোডিউসার শুভেন দাস জানালেন, আমরা চেষ্টা করছি একটা নতুন ভাবনার, সব বয়সের মানুষের জন্য ছবি বানাতে। এই ছবির পরিকল্পনা সেই ভাবেই এসেছে। মজার এই ছবি সব ধরনের দর্শকদের জন্য তৈরি হবে। সামনের বছর এই ছবি মুক্তি পাবে। শাশ্বত এই চরিত্রের জন্য সেরা অভিনেতা এই বিষয়ে কোনও দ্বিধা নেই।

শক্তিশালী অভিনেতা শাশ্বত এর আগে বহু ছবিতে ক্যারেকটার রোলে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। ভানুর জন্য লুক টেস্টে তার সঙ্গে কেবল চেহারার, চোখের চাহুনির মিল আছে তাই নয়,শাশ্বতর মত দাপুটে অভিনেতা ছাড়া ভানুকে পর্দায় রিপ্রেজেন্ট করাটা অসম্ভব। একসময় উত্তমকুমারের মত অভিনেতাও বলতেন, ভানুদার সঙ্গে অভিনয় মানেই রিস্ক, যে কোনও সময় গোল দিয়ে দেবে। এত বড় একজন অভিনেতাকে নিয়ে বাংলা চলচিত্রে কোনও কাজ সেভাবে হয়নি, হয়নি গবেষণা। সেক্ষেত্রে দ্যা বিগ ডে এন্টারটেইমেন্ট ও বুড়িমা চিত্র, ছবির দুই যৌথ প্রযোজক এই সাহসের কাজটা করলেন।

শতবর্ষে এটাই বাংলা চলচ্চিত্রের কিং অফ কমেডিকে শ্রদ্ধা। বাংলাদেশের মুন্সীগঞ্জের ডানপিটে সাম্যময় থেকে ভানু হয়ে ওঠার বর্নময় জার্নি সেও প্রায় সিনেমার চিত্রনাট্যের মতোই। পড়াশুনা শেষ করে স্বধীনতার যুদ্ধে যোগদান অনুশীলন সমিতির হাত ধরে। একাধিক রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে ৩০ দিন গৃহবন্ধী থাকার সময়, প্রায় পালিয়ে কলকাতা পাড়ি। মজা করে বলতেন, আমার মহানিস্ক্রমন। কলকাতায় এসে চাকরি, গ্রামোফোন রেকর্ড, তারপর অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ ১৯৪৭ সালে দেবী মুখার্জির সঙ্গে অভিযোগ ছবিতে। রাতারাতি সাম্যময় বন্দ্যোপাধ্যায় ভানু বন্দ্যোপাধ্যায় হিসাবে পরিচিত হয়ে উঠলেন।

এর পর ১৯৫১ তে বসু পরিবার, তারপর আর পিছনে তাকাতে হয়নি, বাংলা চলচ্চিত্রে ভানু যুগের শুরু। প্রায় ৩০০টি ছবিতে তাঁর অভিনয়। সাড়ে চুয়াত্তর, ভানু পেল লটারি,ভ্রান্তিবিলাস, পাশের বাড়ি,গল্প হলেও সত্যি,আলোর পিপাসা, অমৃত কুম্ভের সন্ধানে, নির্ধারিত শিল্পীর অনুপস্থিতিতে, ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্টেন্ট, মিস প্রয়ংবদা, মৃতের মর্তে আগমন, আশিতে আসিও না ইত্যাদি নানা চরিত্রে বর্নময় ভানুর উপস্থিতি।

উত্তমকুমার নাকি আক্ষেপ করে বলতেন, আমি কাজ পাই না, ভানুদা সব কেড়ে নিচ্ছে। এক সময় মহানায়কের সমান জনপ্রিয়তা ছিল তাঁর। রাজনীতি, মঞ্চে অভিনয়,নতুন প্রজন্মকে তৈরি করার পাশাপাশি দুঃস্থ শিল্পীদের পাশে থাকার কর্মকান্ড, সর্বত্র তাঁর ভূমিকা ছিল। ১৯৮১ সালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু মাত্র ৬৬ বছর বয়সে।বাংলা চলচ্চিত্র জগত তাঁর কাছে হয়ে উঠেছিল বৃহত্তর পরিবার আর তিনি ছিলেন ছোট বড় সবার প্রিয় ভানুদা। সেই ভানুকে নিয়ে এবার চলচ্চিত্র মানেই একটা নতুন আকর্ষণ।

অপেক্ষা রইল শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের দুর্দান্ত আর একটা অভিনয় দেখার ।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here