Messi : বিশ্বের প্রশ্ন সৌদিকে ম্যাচ ছেড়েছেন মেসি?

0

Last Updated on November 23, 2022 6:48 PM by Khabar365Din

- Advertisement -

৩৬৫ দিন। এমনটা নয় যে বিশ্ব ফুটবলের কার্নিভালে অঘটন আগে ঘটেনি। ২০১৮ তে জার্মানককে হারিয়ে দেয় জাপান, ২০০২ তে জিদানের ফ্রান্সকে সেনেগাল,৯০ তে মারাদোনার আর্জেন্টিনাকে ক্যামেরন কিংবা ৬৬র ইতালিকে উত্তর কোরিয়া। বিশ্বকাপ মানেই তো অঘটন,চমক আর বিস্ময়। কিন্তু গতকাল লাসাইল স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনাকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপে অন্যতম সেরা অঘটনের সঙ্গে বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে সৌদি আরব।

যদিও সৌদির এই জয়কে অঘটন বলে তাদের পাহাড়প্রমাণ কৃতিত্বকে ছোটো করা হয়, তবুও যেহেতু নিল সাদা আবেগের পতাকা যিনি ধরে আছেন তার নাম লিওনেল মেসি বলেই তীব্র বিতর্ক শুরু হতে ১০ ঘন্টাও লাগেনি। কেন এই হার? তার চুলচেরা বিশ্লেষণ তো চলছেই,একই সঙ্গে মার্কিন স্পোর্টস ম্যাগাজিন দ্যা অ্যাথলেটিক তাদের গভীর রাতের বিতর্কিত বিশ্লেষণ প্রকাশিত করেছে এক্কেবারে মোক্ষম সময়ে।

সৌদি থেকে দেশদ্রোহিতার অভিযোগে নির্বাসিত প্রাক্তন গুপ্তচর প্রধান ডক্টর সাদ আল–জাব্বরির ছেলে খালিদ আল জব্বরি মার্কিন ওই স্পোর্টস ম্যাগাজিনকে বলেছেন, মেসি নিজেকে বিক্রি করে দিয়েছেন, শয়তানের কাছে। অর্থাৎ সোজা ভাষায় সৌদি আরবের বিরুদ্ধে মেসি ম্যাচ ছেড়েছেন। পারমাণবিক চেইন রিয়াকশনের থেকেও দ্রুত গতিতে এই বক্তব্য গোটা পৃথিবীতে ছড়িয়েছে। কেন একথা বললেন আল জব্বরি, কি বা যুক্তি তার?


ম্যাচে মেসি খানিকটা নিষ্প্রভ ছিলেন। তার পরিচিত ড্রিবল,পাসিং,পজিশনিং, টিম লিডিং দেখা যায় নি, সোজা কথায় মেসি ম্যাজিক ছিল না। পেনাল্টিতে একটি গোল, অফসাইডে একটি এবং মার্টিনেজকে ফাইনাল থ্রু বাড়ানো ছাড়া মেসি সুলভ ঝলক আমরা দেখতে পায়নি। তাই প্রশ্ন উঠেছে,তিনি সুস্থ তো? চোট লুকিয়ে খেলছেন নাকি? একদিন অনুশীলনও করেননি। আল জব্বরি বলেছেন, এসব আসল কারণ নয়। মেসি সৌদি দেশের কাছে আগেই বিক্রি হয়ে গিয়েছেন। রাজ পরিবারের সঙ্গে দুর্দান্ত সম্পর্ক মেসির। কিন্তু এই যুক্তিই কি সব!

২০২৬ বিশ্বকাপ আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। কিন্তু ইতিমধ্যেই ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার বিডিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যেখানে তিন ইউরোপিয়ান প্রতিবেশী দেশ স্পেন, পর্তুগাল ও ইউক্রেন যৌথভাবে এই বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার ইচ্ছার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ আমেরিকার চার ফুটবল শক্তিজোট—আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে, প্যারাগুয়ে ও চিলিও আবেদনের জন্য ঝাঁপ দিচ্ছে। যার ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডর তিন তারকা মেসি,সুয়ারেজ, ভারগাস। হটাৎ কাতারকে বিশ্বকাপ আয়োজন করার অনুমতি পেয়ে যেতে দেখে সৌদি আরবও বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চায়। ব্রিডিং এ তারাও অংশ নেবে। তাদের টিম হল সৌদি আরব, মিসর ও গ্রিস।

তাই আগামী ৫ বছর সৌদি আরবের সব চিন্তাভাবনা ভিশন ২০৩০ ঘিরেই। অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের নকশা তৈরি হচ্ছে যা সৌদি আরবকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরবে। তাদের দরকার একটা আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসডর। তারা রোনাল্ডোকে বাৎসরিক ৫০ লক্ষ ইউরো অফার করেছিল আগামী পাঁচ বছর তাদের পর্যটনকে তুলে ধরার জন্য। রোনাল্ডো নাকচ করে। তখন সৌদিরপ্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান মেসিকে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর করার চেষ্টায় নামেন। মেসি খেলেন প্যারিসে স্যাঁজা দলে, যার মালিক কাতারের শেখ নাসির আল খেলাফি।

কাতারের সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ হওয়া সত্বেও সৌদি প্রিন্সের সঙ্গে আল খিলফির ভালো সম্পর্ক। মেসিকে রোনাল্ডোর সাড়ে পাঁচগুণ অর্থাৎ ২৫০ লক্ষ ইউরো প্রতি বছর অফার করা হয় এবং মেসি রাজি হয়ে যান। যদিও মেসির সঙ্গে পর্যটন নিয়ে সৌদি আরবের চুক্তির মেয়াদ ও বিষয়বস্তু কিন্তু এখনো প্রকাশ হয়নি।মেসি এর মধ্যে সৌদি আরবে গিয়েছেন। লোহিত সাগরে ছবি তুলে সৌদি পর্যটনকে এগিয়ে নেওয়ার পোস্টও করেছেন ইনস্টাগ্রামে। এখানে বলে রাখা দরকার, মেসির ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যা ৬৬ কোটি। অর্থাৎ ইনস্টাগ্রাম থেকেও একটি পোস্টের জন্য মেসি পান ৩৩ মিলিয়ন ডলার।

এভাবেই মেসিকে টেনে সৌদি আরব বিশ্বের নজর কাড়তে চায়। সৌদির রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে বিপুল টাকা দিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব নিউক্যাসলকে কিনে নিয়েছে।গলফের সর্বোচ্চ ট্যুর আয়োজন করেছে। শুধু তাই নয় গতবারের ফর্মুলা ওয়ানের আয়োজক দেশ ছিল তারা এবং ২০১৯ সালে হেভিওয়েট বক্সিং ম্যাচ আয়োজন করেছিল সৌদি।

অর্থাৎ বিশ্ব ক্রীড়ায় তারা মিশন ২০৩০ কে প্রায় ঢুকিয়ে ফেলেছে। এসবই ভিশন ২০৩০ এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মেসিকে এর সঙ্গে যুক্ত করে বিষয়টিকে অন্য মাত্রায় নিয়ে যেতে চায় তারা। সৌদি নিজেদের ভাবমূর্তিকে নতুন করে ব্র্যান্ডিং করার চেষ্টা করছে। মেসিকে সঙ্গে নিয়েই। সৌদি স্পোর্টস কমিশন চালানো আল-শেখ এর জন্মদিনের আমন্ত্রণ রক্ষা করেছেন মেসি। মেসি ও আল-শেখ একে-অপরকে জড়িয়ে ধরছেন এমন ছবিও পোস্ট করেছেন ইনস্টাগ্রামে। আর্জেন্টাইন সতীর্থদের নিয়ে রিয়াদে আল-শেখের বাড়িতেও গিয়েছেন। এই সব কিছু নিয়েই প্রশ্ন, সৌদি আরবকে বিশ্ব ফুটবলের সামনের সারিতে চমক দেখিয়ে আনতেই এই অঘটন? গোটা বিশ্ব হটাৎ সৌদি আরবকে নিয়ে আলোচনা করবে,প্রচার করবে, তাদের জয়গাঁথা লিখবে, এটাই কি মেসি চেয়েছিলেন!

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here