দু’দফায় বাংলায় মোট ৪৬০০ টন ইলিশ পাঠাবে হাসিনা

0
353

৩৬৫ দিন। মাত্র দুদিনের ব্যবধানে আবারও ভারতে বিপুল পরিমাণ ইলিশ রপ্তানির অনুমতি দিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করল বাংলাদেশ সরকার। এবার, ২,৫২০ মেট্রিকটন। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর অর্থাৎ, গতকাল মোট ৬৩ টি সংস্থাকে ৪০ মেট্রিকটন করে মাছ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। রপ্তানির শেষ সময়সীমা দেওয়া হয়েছে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত। এর আগে গত ২০ সেপ্টেম্বর ২,০৮০ মেট্রিকটনের জন্যে অনুমোদন দেয় প্রতিবেশী দেশের সরকার। সেখানে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় ১০ অক্টোবর পর্যন্ত। দুই দফায় মোট ৪,৬০০ মেট্রিকটন মাছ রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যার প্রথম দফার মাছ ঢুকতে শুরু করেছে বুধবার গভীর রাতে। এদিন, ৮০ মেট্রিকটন মাছ ঢুকেছে। সকাল থেকেই হাওড়া মাছ বাজারে শুরু হয় বেচাকেনা। কলকাতা থেকে রাজ্য সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যায় পদ্মার ইলিশ।

- Advertisement -

এই প্রসঙ্গে হাওড়া হোলসেল ফিশ মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন এবং ফিশ ইম্পোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারী সৈয়দ আনয়ার মাকসুদ জানান, আজও (বৃহস্পতিবার), রাতের দিকে মাছ আসার কথা রয়েছে। আমদানি কম থাকায় কিছুটা কম পরিমাণে আসতে পারে মাছ। তিনি যোগ করে বলেন, বুধবার রাতে ১২ টি ট্রাকে করে ৮০ মেট্রিকটন মাছ ঢুকেছে। ৭০০ গ্রাম থেকে শুরু করে দেড় কেজি পর্যন্ত ওজনের মাছ এসেছে।’ গতবারের মত এবারেও দুর্গাপুজো উপলক্ষে এই মাছ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। তবে হাওড়া পাইকারি বাজারে মাছ ঢুকে পড়লেও কলকাতার বাজারে গতকাল সেভাবে দেখা মেলেনি পদ্মার ইলিশের।

বাংলাদেশের ইলিশ হাতে হাওড়া হোলসেল ফিশ মার্কেট অ্যাসোসিয়েশন এবং ফিশ ইম্পোর্টারস অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারী সৈয়দ আনয়ার মাকসুদ।

ব্যবসায়ীদের একাংশের বক্তব্য, পদ্মার এই ইলিশ কলকাতার বাজারে এখনও সেভাবে ঢুকতে শুরু করেনি। প্রথমদিন যেটুকু পরিমাণ ঢুকেছে তার বেশিরভাগটাই চলে গিয়েছে হিমঘরে।’ অন্যদিকে, পুরোনো তথ্য বলছে, গত বছর (২০২০ সাল) রাজ্যে এসেছিল ১৪৫০ মেট্রিকটন ইলিশ মাছ। এর আগে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ থেকে রাজ্যে ঢুকেছিল ৫০০ মেট্রিকটন ইলিশ। তবে, এবারে গত বছরের থেকে প্রায় তিনগুণ পরিমাণে ইলিশ ঢুকতে চলেছে। ২০১২ সাল থেকে ইলিশ পাঠানোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল বাংলাদেশ সরকার। তারপর দীর্ঘ ৬ বছর বন্ধ ছিল আদানপ্রদান। তারপর, আবার ইলিশ পাঠাতে শুরু করে প্রতিবেশী দেশ। চলতি বছরে কলকাতার বাজারে বারংবার দেখা গিয়েছে ইলিশের হাহাকার। হিমঘরের ইলিশই ছিল একমাত্র ভরসা। উপকূলবর্তী এলাকায় কিছু টাটকা মাছ পাওয়া গেলেও চাহিদার তুলনায় সেই পরিমাণ ছিল একদমই নগণ্য। ফলে, ভুরিভোজের পাতে অধরাই থেকে গিয়েছে ইলিশ। তবে, পদ্মার এই ইলিশ পুজোর আগেই বাঙালির মুখে হাসি ফোটাবে বলে মনে করছেন বিক্রেতাদের একাংশ।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here