আবেগহীন, গ্ল্যামারহীন, কঠিন কোভিডে কঠিন শপথ
কঠিন লড়াই
এই তাে শুরু হল

0
9681

পূষন গুপ্ত

- Advertisement -

১.

মমতা’র প্রথম শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান এবং তার পরবর্তী ঘটনা আপনাদের মনে আছে তাে? রাজভবন থেকে লালবাড়ি রাইটার্সে পৌঁছেছিলেন জনসমুদ্রের ঢেউয়ের ওপর ভাসতে ভাসতে। একদিকে ৩৫ বছরের সাদা ধুতি পাঞ্জাবি পরা একটির পর একটি জেনােসাইডে হাত রক্তাক্ত, বামফ্রন্ট সরকারের অনড় অচলায়তন ভেঙে টুকরাে টুকরাে হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে সাবঅল্টার্নের প্রতিনিধি কৃষকের জমি অধিকার প্রতিষ্ঠা করে গড়তে এসেছেন মা মাটি মানুষের সরকার। মমতাকে তখন ফিদেল কাস্ত্রো বা হাে চি মিনের মতােই লাগছিল। প্রসঙ্গত আমি একা নই, ওঁকে হাে চি মিনের সঙ্গে তুলনা করেছেন লন্ডনের গ্রুফ ফর্টি, থিঙ্কট্যাঙ্কও। সেদিন ছিল বাংলার জনগণের বাম অপশাসনের হাত থেকে মুক্ত হওয়ার দিন। সেদিন ছিল আবেগ। যেমনটা হয়েছিল বার্লিন পাঁচিল ভাঙার সময়। দ্বিতীয়বার ২০১৬’র জয় ছিল জোট নামক এক অনৈতিক গভীর চক্রান্ত, কুৎসা ও কু-র বিরুদ্ধে নেত্রী মমতা’র জয়। সেসময় অন্ধকার ম্যানহােলে লুকিয়ে থাকা রক্ত লাল পরিসৃপেরা বেরিয়ে এসেছিল। সেবার শপথ অনুষ্ঠান হল রেড রােডে। চ্যালেঞ্জ ছিল আয় দেখে যা। এবার তৃতীয়বার আপাতভাবে ভয়ঙ্কর লড়াই। কেন ভয়ঙ্কর তা গত কয়েকমাস ধরে বারবার বলেছি, সেই ব্যাখ্যায় আর যাচ্ছি না। এই যুদ্ধে জয়ের অর্থ শুধু মমতা’র বঙ্গজননী নয়, দেশনেত্রী হয়ে ওঠার প্রথম পদক্ষেপ। তাই এবারের শপথ অনুষ্ঠান কেমন হবে তাতে আমার কৌতূহল ছিল।

২.

কঠিন কোভিড পরিস্থিতি মাথায় রেখে আমন্ত্রিতদের সংখ্যা পঞ্চাশের মধ্যে, বাকিটা দেশ-বিদেশের মিডিয়া। অতিথিদের মধ্যে আছেন মূলত তৃণমূলের প্রবীণ নেতৃত্ব ও সাংসদ, কিছু এবারের ভােটে গুরুত্বপূর্ণ সংগঠক, মন্ত্রী ও জায়েন্ট কিলার। অল্প কয়েকজন সম্পাদক ও ওয়াররুমের দুই চিফ প্রশান্ত কিশাের ও অভিষেক। চিত্র জগৎ থেকে মাত্র দু’জন দেব ও শতাব্দী। তারাও সাদা সিধে পােশাকে মিশে রয়েছেন মানুষের মধ্যে, মূলত নীরব। বিরােধীদের মধ্যে একমাত্র প্রদীপ ভট্টাচার্য। স্পষ্টতই সিপিএম ও অধীর চৌধুরি লজ্জায় আসেনি আর ভাজপা আসেনি ভয়ে। খুব জোরে হেসে উঠতে দেখিনি কাউকে, মমতার দিকে ছুটে যেতেও সেভাবে নয়। একধরণের সামরিক শৃঙ্খলা বজায় ছিল আগাগােড়া এমটাই যেন মমতা চাইছিলেন। সাধারণত যতটা ছােটাছুটি করেন উনি, ততটা পায়ের কারণে পারছেন না। একটু খুঁড়িয়ে হাঁটছেন এখনও, বসছেন মাঝে মাঝে। সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান। জাতীয় সঙ্গীতে শুরু, প্রথা মত মমতা’র শপথ ও জাতীয় সঙ্গীতে শেষ। যেমনটি হয়ে থাকে। শুধু জাঁকজৌলুস হীন, আড়ম্বরহীন, গ্ল্যামারহীন, রুক্ষ মমতার এইশপথ ডিজাইন দেখে আমার একটাই কথা মনে হয়েছে, ওগাে দেশের রাজা এবার তােমার দিল্লির তত বাঁচানাের পালা। বাংলার বাঘিনীর বডি ল্যাঙ্গুয়েজে প্রমাণ করে দিচ্ছেন তিনি এবার অনেক বড় লড়াইয়ে নামবেন।

৩.

শপথ অনুষ্ঠানের কাঠিন্যে আর ভদ্রতার মুখােশ পরে থাকতে পারলেন না পদ্মপাল। মুখ্যমন্ত্রী যেই বললেন, তার প্রথম লড়াই কোভিডের জন্য আর দ্বিতীয় লড়াই বিজেপি যে হিংস্রতা করছে বাংলায় তা প্রতিহত করা এবং একইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সবাইকে মনে করিয়ে দিলেন গত ৩ মাস তিনি ক্ষমতায় ছিলেন না। এইসময় কিছু অপদক্ষ, অপদার্থের হাতে নেচেছে রাজ্যের কিছু পুলিশ প্রশাসকও। সব পাল্টে তিনি শক্ত হাতে হাল ধরবেন। রাজ্যপাল যেন খিচিয়ে উঠলেন একবার মুখ্যমন্ত্রীর সামনে আর একবার পরে মিডিয়ার সামনে। এই বিপুল জনাদেশ নিয়ে জয়ী হয়ে আসা মমতাকে নানাভাবে আক্রমণ করতে তিনি দ্বিধা করলেন লজ্জা নেই লােকটির, আগাগােড়াই নির্লজ্জ তিনি। শুধু বুঝতে পারছেন না আজও, ওর এবং ওর প্রভুদের পক্ষে বাকি ৩ বছর বড় দুঃসময়ের।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here