পেগাসাস নিয়ে কেন্দ্রের তদন্তে আস্থা নেই সুপ্রিম কোর্টের, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করল শীর্ষ আদালত

0
97

৩৬৫ দিন। ‘গোপন রাখতে চাইলে নিজেদের থেকেও গোপন রাখা উচিত’.জর্জ অরওয়েলের উক্তি তুলে ধরে পক্ষীরাজ কাণ্ডে কেন্দ্রকে তুলোধোনা করল সুপ্রিম কোর্ট। মোদি সরকারের যাবতীয় আপত্তি উড়িয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করল শীর্ষ আদালত এক অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং দুই সাইবার বিশেষজ্ঞ থাকছেন এই কমিটিতে। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অবসরপ্রাপ্ত আরভি রাভেন্দ্রনের তত্ত্বাবধানে কাজ করবে কমিটি। কমিটির বাকি দুই সদস্য হলেন সাইবার বিশেষজ্ঞ অলোক যোশী এবং সন্দীপ ওবেরয়। বুধবার রায় ঘোষণার সময় কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এনভি রামানা। মোদি সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে আপনারা যা খুশি তাই করতে পারেন না।যেভাবে আড়িপাতার বিষয়টি সামনে এসেছে তাতে সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে। ব্যক্তি-গোপনীয়তার অধিকার রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। শুধু সাংবাদিক নয়, প্রত্যেক নাগরিকের গোপনীয়তা রক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় সরকার যদি মনে করে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হলে আদালত চুপ করে থাকবে তবে তা কখনোই হবে না। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় সরকারকে কোন ফ্রি পাস দেওয়া হবে না। সরাসরি কেন্দ্রকে ভর্ৎসনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, কেন্দ্রকে জবাব দেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল। আমরা আশা করেছিলাম কেন্দ্র আদালতের সঙ্গে সবরকম সহযোগিতা করবে। কিন্তু আদতে তা হলো না কেন্দ্রের তরফে যে হলফনামা দেওয়া হয়েছে তাতে ধোঁয়াশা রয়েছে। মূল বিষয় সম্বন্ধে কোন আলোকপাত করা হয়নি। সবশেষে শীর্ষ আদালত মন্তব্য করে, দেশের সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকারে যদি কোনো হস্তক্ষেপ হয় তবে আদালত চুপ করে থাকবে না, পদক্ষেপ করবে। যে কায়দায় আড়িপাতা হয়েছে তাতে আমরা শিহরিত হয়েছি।

- Advertisement -

সত্য সামনে আনতেই হবে। পক্ষীরাজ কাণ্ডে কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, আবেদনকারীরা সংবাদমাধ্যম এবং সামাজিক বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরে মামলা করেছেন যার কোন বাস্তব ভিত্তি নেই। এই প্রসঙ্গেও এদিন শীর্ষ আদালত অবস্থান স্পষ্ট করে জানায়, সাধারণভাবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন তুলে ধরে যদি কেউ মামলা করে তবে সেই মামলা সাধারণত খারিজ হয়ে যায় কিন্তু এক্ষেত্রে যারা মামলা করেছেন তারা নিজেরাই আড়িপাতার শিকার এবং যে পদ্ধতিতে আড়িপাতা হয়েছে তা ভয়ঙ্কর তাই আদালত মনে করে স্বাধীনভাবে এর তদন্ত হওয়া উচিত এবং আদালতের নজরদারিতে তদন্ত হওয়া উচিত। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে সুপ্রিম কোর্টের বুধবারের রায় ঐতিহাসিক। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বেশ কয়েকটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক রয়েছে প্রথমত কেন্দ্রের যাবতীয় যুক্তি উড়িয়ে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিল পক্ষীরাজ কান্ড নাগরিকদের মৌলিক অধিকারের হস্তক্ষেপ এবং আদালত এতে হস্তক্ষেপ করবে। দ্বিতীয়তঃ কোন কেন্দ্রীয় এজেন্সি দিয়ে তদন্ত নয় তদন্তের জন্য সুপ্রিমকোর্টের নজরদারিতে গঠন করা হল কমিটি যে কমিটি সরাসরি শীর্ষ আদালতের রিপোর্ট দেবে অর্থাৎ প্রকারান্তরে শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে দিল যেহেতু কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ তাই তদন্তে নিরপেক্ষ তার সাথে কোন কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে তদন্তের কাজে লাগানো হলো না। তৃতীয় গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার বুঝিয়ে দিলো জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যদি প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হয় তবে তার একটি সীমা রেখা রয়েছে সেই সীমার বাইরে গিয়ে কোন এজেন্সির বা সরকার যা ইচ্ছে তাই করতে পারে না এবং যদি তা করে থাকে তবে তা হবে সম্পূর্ণ সংবিধান বিরোধী।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here