বামরাম, দেউচা পাচামি ও তাজপুর প্রকল্প আটকাতে একজোট শুভেন্দু-সুজন

0

Last Updated on March 14, 2022 7:19 PM by Khabar365Din

৩৬৫ দিন। মেলালেন তিনি মেলালেন। বাংলায় মমতার ( Mamata Banerjee ) নেতৃত্বে যেকোনো উন্নয়নের উদ্যোগ যেন-তেন প্রকারেণ আটকাতে বাম-রাম যে হাত মিলিয়েছে, তা দিন কয়েক আগেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। এবারে বাংলায় মমতার নেতৃত্বে তৃতীয় তৃণমূল ( TMC ) সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশের পর থেকেই চলতি মেয়াদে সবথেকে বড় ২ উন্নয়ন প্রকল্প যেভাবেই হোক বন্ধ করার বিষয়ে এক সুরে মাঠে নামলো সিপিএম এবং ভাজপা। বাম রামের এক সুর।

- Advertisement -

বামের সুজন আর রামের শুভেন্দু!

সিপিএম (CPIM) এবং ভাজপা ( BJP ) যৌথভাবে অশুভ আঁতাত করে তাজপুর এবং দেওচা পাচামি প্রকল্প বন্ধ করার চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ করেন মমতা। মমতার মন্তব্য, আমি শুনেছি তিনটি রাজনৈতিক দল একসঙ্গে বসে বলেছে, ডেউচা-পাঁচামি করতে দেব না, তাজপুর করতে দেব না, তা হলে আগামী ২০ বছরেও আমরা ক্ষমতায় আসব না।

মমতার সেই মন্তব্য আশঙ্কা যে কতখানি সত্যি তথ্যের ওপর নির্ভরশীল তার প্রমাণ মিলেছে এবারের বাজেট অধিবেশনে বিধানসভায় বাজেট পেশের পর এই শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)এবং বিধানসভা থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাওয়া সিপিএমের সুজন চক্রবর্তীর ( Sujan Chakraborty ) মন্তব্য। বাজেট প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মুখে উঠে আসে দেউচা পাঁচামি ( Deucha Pachami )ও তাজপুর বন্দরের (Tajpur Port) প্রসঙ্গ । পাল্টা শুভেন্দু অধিকারী বলছেন, তাজপুরে কোনও দিনই বন্দর হবে না, কারণ ওখানে প্রয়োজনীয় জমি নেই। দেউচা পাঁচামিতে আদিবাসীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ব আমরা।এক সুরে সুজন চক্রবর্তীর দাবি, আমরা এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। এই এলাকার মানুষজন চাইছেন না জমি দিতে৷ তাঁরা বলছেন, কোথায় যাবেন জীবন-জীবিকা ছেড়ে? কী কাজ পাবেন তারও তো ঠিক নেই৷ তাই জমি দিতে নারাজ তাঁরা। শুধু তাই নয় সুজন চক্রবর্তী এবং সূর্যকান্ত মিশ্র তত্ত্বাবধানে ডেউচা পাচামি যেন কোন প্রকল্প কোনদিন দিনের আলো দেখতে না পারে তার মরিয়া চেষ্টায় তৈরি হয়েছে বিদ্বেষের রাজনীতি বিরোধী জনমঞ্চ।

বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ অন্য

মমতা বলেছিলেন, বাংলার লক্ষ্য শিল্প এবং কর্মসংস্থান। এর পরেই আসে ডেউচা-পাঁচামি এবং তাজপুরের প্রসঙ্গ। বিধানসভা ভোটের আগেই মমতা এই দু’টি প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন। ডেউচায় ইতিমধ্যেই কয়লাখনি প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে রাজ্য। তাজপুরে শুরু হয়েছে বন্দর তৈরির কাজ। এর মধ্যে দেউচা-পাঁচামির কাজ কিছুটা এগিয়েওছে। অনেকেই প্রকল্পের জন্য স্বেচ্ছায় জমি দিয়েছেন রাজ্য সরকারকে। রাজ্যের দাবি, জমিদাতাদের বাজার মূল্যের থেকেও বেশি দাম দেওয়া হয়েছে। ক্ষতিপূরণ চেকও তুলে দেওয়া হয়েছে তাঁদের হাতে। জমিপ্রদানকারী পরিবারের সদস্যদের দেওয়া হয়েছে চাকরিও। তাজপুর বন্দর নিয়ে আরও এক ধাপ এগিয়েছে রাজ্য সরকার। ডাকা হয়েছে গ্লোবাল টেন্ডার। তাজপুর বন্দর গঠিত হলে, কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের পর আরও একটি বন্দর পাবে রাজ্য। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তাজপুরে গ্রিনফিল্ড বন্দর তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল বেশ কয়েক বছর আগেই। এক হাজার একর জমির উপর গড়ে উঠবে নয়া তাজপুর বন্দর। তবে তার জন্য কোনও জমি অধিগ্রহণ করতে হবে না রাজ্য সরকারকে। রাজ্যের হাতেই রয়েছে বন্দরের জন্যে জমি। ইতিমধ্যেই জমি চিহ্নিতকরণ করে ফেলেছে সরকার। ১৬,০০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে প্রথম পর্যায়ের জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় পর্যায়ের জন্য ৬ হাজার কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে রাজ্যের তরফে। প্রত্যক্ষভাবে ১০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। প্রথম পর্যায়ে ছ’টি বার্থ ও পরের পর্যায়ে আরো নটি বার্থ তৈরি হবে এই বন্দরে। পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা পিপিপি মডেলে তৈরি হবে বন্দর। নির্মানকারী সংস্থাকে ৯৯ বছরের জন্য বন্দর লিজ দেওয়া হবে। এই বন্দরের সঙ্গে নিকটতম হাইওয়ে যোগ করে দেওয়া হবে।
তাজপুর বন্দর প্রকল্পের জন্য পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে ১০০০ একরের বেশি জমিতে অচিরাচরিত শক্তি বিভাগ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

Advertisement

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here